বলিউডের চিরযৌবনা অভিনেত্রী রেখা বরাবরই তাঁর অভিনয় এবং ব্যক্তিত্ব দিয়ে দর্শকদের মোহিত করেছেন। তবে তাঁর পেশাদার সাফল্যের আড়ালে ব্যক্তিগত জীবন সবসময়ই ঢাকা পড়ে থেকেছে এক রহস্যময় চাদরে। বিশেষ করে, স্বামী মুকেশ আগরওয়ালের মৃত্যুর ৩৬ বছর পেরিয়ে গেলেও রেখার সিঁথিতে উজ্জ্বল হয়ে থাকা সিঁদুর আজও বি-টাউনের সবচেয়ে আলোচিত এবং অমীমাংসিত প্রশ্নগুলোর মধ্যে একটি।
বিবাহিত হিন্দু নারীর চিরাচরিত প্রতীক এই সিঁদুর কেন তিনি আমৃত্যু বয়ে বেড়াচ্ছেন, তা নিয়ে জল্পনার অন্ত নেই।
সিঁদুরের নেপথ্যে থাকা বৈচিত্র্যময় যুক্তি
১৯৯০ সালে দিল্লির শিল্পপতি মুকেশ আগরওয়ালের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন রেখা। কিন্তু বিয়ের মাত্র সাত মাসের মাথায় মুকেশ আত্মহননের পথ বেছে নেন। সেই বিয়োগান্তক ঘটনার পর দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হলেও রেখা তাঁর সিঁথিতে সিঁদুর পরা ত্যাগ করেননি। তবে এই বিষয়ে অভিনেত্রীর নিজস্ব ব্যাখ্যা অত্যন্ত সহজ এবং স্বতন্ত্র। এর আগে একবার তিনি জানিয়েছিলেন যে, তাঁর শহরে সিঁদুর পরাকে একটি ফ্যাশন হিসেবে দেখা হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, সিঁদুর পরলে তাঁকে দেখতে ভালো লাগে এবং মানুষের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া নিয়ে তিনি মোটেও চিন্তিত নন।
স্মৃতি ও অনুভূতির গভীর টান
রেখার এই ব্যতিক্রমী জীবনযাপন নিয়ে চলচ্চিত্র ইতিহাসবিদদের বিশ্লেষণ ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। অনেকের মতে, এই সিঁদুর হয়তো কোনো হারানো সম্পর্কের প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা বা মানসিক টানের বহিঃপ্রকাশ। বিশেষ করে অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে যে গুঞ্জন দশকের পর দশক ধরে চলে আসছে, তার প্রভাবও রেখার ব্যক্তিগত পছন্দে থাকতে পারে বলে মনে করেন অনেকে। চলচ্চিত্র গবেষকদের দাবি, একে অপরের প্রতি এক ধরণের অদৃশ্য মানসিক সংযুক্তি আজও বিদ্যমান, যা হয়তো প্রথাগত সম্পর্কের ঊর্ধ্বে। শেষ পর্যন্ত রেখার সিঁদুর তাঁর ব্যক্তিগত পছন্দের স্বাধীনতা নাকি কোনো নীরব প্রেমের অঙ্গীকার, সেই রহস্য আজও বিনোদন জগতের অলিন্দে ঘুরে বেড়ায়।

