রাজ্যের বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহায়ক (পিএ) চন্দ্রনাথ রথের নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে তোলপাড় শুরু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে। এই ঘটনায় সরব হয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব, যেখানে তারা সরাসরি আঙুল তুলেছেন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে। ঘটনার সময় এবং যে ভঙ্গিতে এই হামলা চালানো হয়েছে, তা নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিচ্ছে গেরুয়া শিবির।
হামলার লক্ষ্য ও সময় নিয়ে প্রশ্ন
রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দাবি করেছেন, হামলার সময় এবং লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণই অনেক কিছু পরিষ্কার করে দিচ্ছে। তাঁর মতে, শুভেন্দু অধিকারীকে অতীতে একাধিকবার নিশানা করা হয়েছে এবং তাঁর ছায়াসঙ্গীর ওপর এই আক্রমণ সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। শমীক ভট্টাচার্যের আশঙ্কা, সাধারণ মানুষের মনে এই ধারণা বদ্ধমূল হচ্ছে যে এই খুনের নেপথ্যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কাজ করছে। অন্যদিকে, বিজেপি সাংসদ রাহুল সিনহা এবং অর্জুন সিং এই ঘটনার পেছনে সরাসরি তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের হাত রয়েছে বলে দাবি করেছেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক প্রভাব
খড়গপুরের বিজেপি বিধায়ক দিলীপ ঘোষ এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা এবং সমাজবিরোধী কার্যকলাপ বৃদ্ধির অভিযোগ তুলেছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের পরবর্তী এই ধরনের হত্যাকাণ্ড রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার অবনতিকেই প্রতিফলিত করছে। বিশেষ করে বিজেপি যখন ক্ষমতায় আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে, সেই সন্ধিক্ষণে দলের শীর্ষ নেতার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির মৃত্যু কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার অভাব তৈরি করেছে।
এই হত্যাকাণ্ডের ফলে রাজ্যে রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তদন্তের গতিপ্রকৃতি এবং অপরাধীদের গ্রেফতারের ওপর আগামী দিনে শাসক ও বিরোধী শিবিরের সম্পর্কের সমীকরণ নির্ভর করছে। আপাতত এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে মেদিনীপুর সহ গোটা রাজ্য।

