রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামে নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ। বিধানসভার কাজ সেরে বাড়ি ফেরার পথে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে তাঁকে ঝাঁঝরা করে দেয় দুষ্কৃতীরা। এই ঘটনায় আঙুল উঠেছে শাসকদলের দিকে, তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টে আদালতের তত্ত্বাবধানে সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়ে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
তৃণমূলের পাল্টা চাল ও সিবিআই তদন্তের দাবি
ঘটনার পর থেকেই বিজেপির পক্ষ থেকে এই হত্যাকাণ্ডকে সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক খুন হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। তবে তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সমাজমাধ্যমে স্পষ্ট করেছে যে, গণতন্ত্রে হিংসার কোনো স্থান নেই। একইসঙ্গে তারা দাবি করেছে, গত কয়েক দিনে তাদেরও একাধিক কর্মী নিহত হয়েছেন। নিরপেক্ষতা প্রমাণে এবং প্রকৃত দোষীদের আড়াল থেকে বের করে আনতে আদালতের নজরদারিতে সিবিআই তদন্তই একমাত্র পথ বলে মনে করছে শাসক শিবির। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিবিআই তদন্ত চেয়ে তৃণমূল মূলত বিরোধীদের তোলা ‘প্রভাব খাটানোর’ অভিযোগ থেকে নিজেদের মুক্ত রাখার কৌশল নিয়েছে।
পরিকল্পিত হামলা ও নেপথ্যের কারণ
প্রাথমিক তদন্ত ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডটি ছিল ছক কষা। চন্দ্রনাথের স্করপিও গাড়িটি যখন আসছিল, তখন একটি ধূসর রঙের গাড়ি ও মোটরসাইকেল তাঁর পথ আটকায়। রেকি করে খুব কাছ থেকে তাঁকে গুলি করা হয়, যা পেশাদার খুনিদের কাজ বলে মনে করছে পুলিশ। শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, গত কয়েক দিন ধরেই তাঁর সহকারীকে অনুসরণ করা হচ্ছিল। অন্যদিকে, বিজেপি নেতৃত্বের দাবি-নির্বাচন পরবর্তী আক্রোশ থেকেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
এই হত্যাকাণ্ডের ফলে উত্তর ২৪ পরগনা সহ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে পুলিশি তদন্তে কিছু প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ মেলার দাবি করা হলেও, সিবিআই তদন্তের দাবিতে তৃণমূলের অনড় অবস্থান এই মামলার মোড় কোন দিকে ঘোরায়, এখন সেটাই দেখার। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আগামী দিনে শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাত আরও তীব্রতর হবে।

