বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথের হত্যাকাণ্ডে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। গত বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামে চন্দ্রনাথ বাবু যখন নিজের বাড়ির দোরগোড়ায়, ঠিক তখনই অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে তাঁকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এই খুনের নেপথ্যে কাজ করেছে অত্যন্ত ধুরন্ধর কোনো পেশাদার গ্যাং।
অপরাধীরা এতটাই সতর্ক ছিল যে, ব্যবহৃত গাড়ির নম্বর প্লেট থেকে শুরু করে পালানোর রাস্তা- সব ক্ষেত্রেই নিখুঁত মুন্সিয়ানা দেখিয়েছে তারা।
নিখুঁত অপারেশন ও খুনিদের ব্লু-প্রিন্ট
তদন্তে জানা গেছে, বুধবার রাত ১০টা ২০ মিনিট নাগাদ চন্দ্রনাথ বাবুর গাড়ি যখন বাড়ির কাছের নির্জন গলিতে প্রবেশ করে, তখনই একটি ছোট চারচাকা গাড়ি আড়াআড়িভাবে তাঁর পথ আটকে দাঁড়ায়। পরিকল্পনামাফিক বাড়ি থেকে মাত্র ১০০ মিটার দূরে এই জায়গাটিকে বেছে নিয়েছিল আততায়ীরা। গাড়িটি থামামাত্রই একটি মোটরসাইকেলে চড়ে আসা টুপি পরা এক দুষ্কৃতী নেমে চন্দ্রনাথ বাবুকে লক্ষ্য করে কাছ থেকে একের পর এক ১০ রাউন্ড গুলি চালায়। তিনটি গুলি সরাসরি তাঁর বুকে বিঁধে যাওয়ায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।
পেশাদারিত্বের প্রমাণ ও পুলিশের তদন্ত
সিসিটিভি ফুটেজ ও পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে পুলিশ নিশ্চিত যে, এটি কোনো সাধারণ অপরাধ নয়, বরং একটি ‘কোল্ড ব্লাডেড মার্ডার’। হামলাকারীরা যে গাড়িটি ব্যবহার করেছিল, তার নম্বর প্লেটটি ছিল ভুয়া। এমনকি তদন্তে বাধা সৃষ্টি করতে গাড়ির চেসিস নম্বর পর্যন্ত ঘষে মুছে ফেলা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, খুনের পর মূল রাস্তা ছাড়াও একটি নির্জন বিকল্প পথ দিয়ে দ্রুত চম্পট দেয় অপরাধীরা।
বর্তমানে বারাসাত জেলা পুলিশের একটি বিশেষ দল ঘটনার তদন্তে নেমেছে। আততায়ীরা ঠিক কোথা থেকে চন্দ্রনাথ বাবুর গাড়িকে ধাওয়া করা শুরু করেছিল, তা জানতে এলাকার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে একটি ‘রুট ম্যাপ’ তৈরি করা হচ্ছে। পুলিশের ধারণা, খুনিরা দীর্ঘ সময় ধরে চন্দ্রনাথ বাবুর গতিবিধির ওপর নজর রাখছিল এবং এই অপারেশনের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করছিল। এলাকা জুড়ে বর্তমানে ব্যাপক পুলিশি তল্লাশি শুরু হয়েছে।
