রাজ্যে সরকার পতনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতির উত্তাপ যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই দলের অন্তর্কলহ নিয়ে বিষ্ফোরক মন্তব্য করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক উস্কে দিলেন বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি তথা হাসন বিধানসভার বিধায়ক কাজল শেখ। বুধবার নানুরে নিহত এক তৃণমূল নেতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, বাইরের কোনো শক্তির কাছে নয়, বরং দলের একাশের 'বেইমানি'র কারণেই পরাজয় নিশ্চিত হয়েছে তৃণমূলের।
দলের অন্দরেই লুকিয়ে ছিল শত্রু
নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে নানুরের কীর্ণাহারসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলো। গত মঙ্গলবার সন্তোষপুর গ্রামে আবির শেখ নামে এক তৃণমূল নেতাকে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় স্থানীয় বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের দিকে আঙুল উঠলেও কাজল শেখের বক্তব্যে উঠে এসেছে গভীর দলীয় কোন্দলের ইঙ্গিত। তাঁর সাফ কথা, তৃণমূল যে পরিমাণ শক্তিশালী অবস্থায় ছিল, তাতে বাইরের কোনো শক্তির পক্ষে দলকে হারানো অসম্ভব ছিল। কিন্তু দলের ভেতরেই একটি অংশ বেইমানি করেছে, যার ফলশ্রুতিতে এই পতন। তিনি স্পষ্ট জানান, বাংলার অনেক নেতা-কর্মীই এই হারের জন্য ব্যক্তিগতভাবে দায়ী।
সহিংসতার নেপথ্যে 'জামা পাল্টানো' রাজনীতি
নানুরের অশান্তি ও তৃণমূল নেতার খুনের নেপথ্যে দলত্যাগী রাজনীতির ভূমিকা তুলে ধরেন কাজল। তিনি অভিযোগ করেন, যারা আজ বিজেপি সেজে আক্রমণ চালাচ্ছে, তারা একসময় সিপিএম করত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের আখের গোছাতে তারা এখন বিজেপির ছত্রছায়ায় এসেছে। কাজল শেখের মতে, এই সুবিধাবাদী অংশটিই এখন ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন সৃষ্টি করে গ্রামে গ্রামে হামলা ও অত্যাচার চালাচ্ছে।
প্রভাব ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি
কাজল শেখের এই সরাসরি স্বীকারোক্তি বীরভূমের জেলা রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। একদিকে দলীয় কর্মীদের মনোবল যখন তলানিতে, তখন নেতৃত্বের এই আত্মঘাতী স্বীকারোক্তি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ফাটলকে আরও প্রশস্ত করতে পারে। অন্যদিকে, অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও আদালতের হেফাজতে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলেও এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। কাজল শেখ অবশ্য সঙ্ঘবদ্ধভাবে এই পরিস্থিতির মোকাবিলার ডাক দিয়েছেন। তবে দলের অভ্যন্তরে শুদ্ধিকরণ না হলে বেইমানির এই কাঁটা উপড়ানো সম্ভব কি না, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

