উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ঘটে যাওয়া একাধিক হিংসাত্মক ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মধ্যমগ্রামে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সহকারী চন্দ্রনাথ রথের খুনের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল পানিহাটি। স্থানীয় সূত্রের খবর, পানিহাটির ২ নম্বর ওয়ার্ডের দত্ত রোডে বিজেপি কর্মীদের লক্ষ্য করে ভয়াবহ বোমাবাজি করা হয়েছে।
এই ঘটনায় অন্তত ৫ জন বিজেপি সমর্থক গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের তড়িঘড়ি আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই বোমাবাজির ঘটনাটি ঘটেছে পানিহাটির বিধায়কের বাসভবন তথা ‘অভয়ার মা’-র বাড়ির ঠিক কাছেই।
রাজনৈতিক সংঘাত ও অভিযোগের তির
বিজেপির অভিযোগ, তাদের কর্মীরা যখন এলাকায় জনসংযোগ করছিলেন, তখনই মোটরবাইকে চড়ে আসা একদল দুষ্কৃতী তাঁদের লক্ষ্য করে বোমা ছোড়ে। গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে এই হামলার নেপথ্যে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের দায়ী করা হলেও শাসক দল সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে খড়দহ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি শুরু করেছে। একই সময়ে বসিরহাটেও রোহিত রায় নামে এক বিজেপি কর্মী গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়ায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
তদন্তে তৎপর প্রশাসন ও সম্ভাব্য প্রভাব
মধ্যমগ্রামে চন্দ্রনাথ রথের খুনের ঘটনায় ইতিমধ্যেই তদন্তে নেমেছেন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা এবং সিআইডি আধিকারিকরা। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পর পর এই হামলা ও খুনের ঘটনা জেলায় বড় ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে বিরোধী শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও রাজ্য পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের সক্রিয়তা এই ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বর্তমানে পুরো জেলাজুড়ে কড়া নজরদারি জারি করা হয়েছে এবং স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে।

