Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
শুভেন্দু অধিকারীর সহকারীকে গুলি করে হত্যা, তৃণমূলের বিরুদ্ধে 'প্রতিহিংসার' অভিযোগ বিজেপির

শুভেন্দু অধিকারীর সহকারীকে গুলি করে হত্যা, তৃণমূলের বিরুদ্ধে 'প্রতিহিংসার' অভিযোগ বিজেপির

 WB BJP & ANIবাম দিকে- চন্দ্রনাথ রথ, ডানদিকে- হামলার সময় যে গাড়িতে ছিলেন তিনি

পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক বা সহকারী চন্দ্রনাথ রথকে বুধবার রাতে গুলি করে হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনীতি।

বুধবার রাতে বাড়ি ফেরার সময়, উত্তর ২৪ পরগণার মধ্যমগ্রামে রাস্তার উপর চন্দ্রনাথ রথের গাড়িকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।

স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।

হামলায় তার গাড়ির চালক গুরুতর জখম হন। তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, "পরিকল্পিতভাবে ঠান্ডা মাথায় এই হত্যা করা হয়েছে"।

রাজনৈতিক 'প্রতিহিংসার' অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিকদের বলেন, "আমার পিএ না হলে ওকে টার্গেট করা হতো না। এর একটাই কারণ হতে পারে, শুভেন্দু অধিকারী মমতা ব্যানার্জীকে হারিয়েছে। আমি পরিবারের পাশে রয়েছি। দ্রুত চার্জশিট পেশ করে যাতে সর্বোচ্চ শাস্তি হয় তার চেষ্টা করব"।

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশ হয়েছে চৌঠা মে। বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছে বিজেপি এবং নতুন মুখ্যমন্ত্রীর সম্ভাব্য তালিকায় যাদের নাম উঠে এসেছে তাদের মধ্যে মি. অধিকারীও রয়েছেন। আগামী নয়ই মে বিজেপির নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। তারই মাঝে তার অন্যতম বিশ্বস্ত সঙ্গী হিসেবে পরিচিত চন্দ্রনাথ রথকে খুন করা হলো।

ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরই যে হাসপাতালে চন্দ্রনাথ রথকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তার বাইরে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন।

রাতেই শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার, অগ্নিমিত্রা পাল, রুদ্রনীল ঘোষ-সহ একাধিক নেতা উপস্থিত হন। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তা সহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও রাতেই পৌঁছান সেখানে।

হত্যার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করা হয়েছে বৃহস্পতিবার। এই তদন্তকারী দলে রাজ্য পুলিশের পাশাপাশি সিআইডি-র কর্মকর্তারাও রয়েছেন।

অগ্নিমিত্রা পাল বিবিসিকে বলেছেন, "একজন অ্যাক্টিভ ছেলে যে ভবানীপুরে এলওপি'র (বিধানসভায় বিরোধী দল নেতা শুভেন্দু অধিকারী) নির্বাচনের সময়ে এত সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে, তাকে এভাবে হত্যা করা হলো। এটা অন্যন্ত দুঃখের এবং ক্ষোভের"।

বিজেপি নেতা রুদ্রনীল ঘোষ বুধবার রাতে হাসপাতালের সামনে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "যে নৃশংসতার পরিচয় তৃণমূল দিয়েছে, তা থেকে বলা যায় তারা স্বভাব পরিবর্তন করবে না"।

"আইন আইনের পথে চলবে, কাউকে ক্ষমা করা হবে না"।

বুধবার রাতেই অবশ্য এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছে তৃণমূল। আদালতের পর্যবেক্ষণে সিবিআই তদন্তও দাবি করেছে।

ইনস্টাগ্রামে বিবিসি বাংলা ফলো করতে ক্লিক/ট্যাপ করুন এখানে

 BBCবুধবার রাতে হামলার শিকার হয় চন্দ্রনাথ রথের গাড়ি।

কী ঘটেছিল?

কাজ শেষে কলকাতার উপকন্ঠে মধ্যমগ্রামে তার বাড়িতে ফিরছিলেন চন্দ্রনাথ রথ। গাড়িতে তিনি ও তার চালক ছিলেন। সেই সময় ওই গাড়ি থামিয়ে গুলি করা হয়।

চন্দ্রনাথ রথ ও তার পরিবার শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। তাদের সম্পর্কও দীর্ঘদিনের।

গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে স্থানীয় এক হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। গাড়ির চালককেও আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে তাকে কলকাতার ইএম বাইপাস সংলগ্ন বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসতেই বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের একটা অনেকেই যে হাসপাতালে মি. রথকে আনা হয়েছিল, সেখানে উপস্থিত হন। তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভও প্রকাশ করেন।

বিবিসি বাংলায় আরও পড়তে পারেন

 BBCবুধবার রাতে হাসপাতালে উপস্থিত একজন বিজেপিকর্মী

বিবিসি সংবাদদাতা দিলনওয়াজ পাশাকে সেখানে উপস্থিত বিজেপি সমর্থকেরা বলেছেন, "কী করে শান্ত থাকব বলুন। দলের পক্ষ থেকে আমাদের শান্ত থাকতে বলা হয়েছিল, সেটাই মেনে চলছিলাম। কিন্তু কীভাবে খুন করা হলো"।

আরেক ব্যক্তি সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, "আমাদের সুরক্ষা কোথায়? শুভেন্দু অধিকারীর পিএ-কে মেরে ফেলল। আমরা তো সামান্য বুথ লেভেলের কর্মী। আমাদের মারতে তো বাইরের কাউকে পাঠাতে হবে না"।

 ANIরাতেই হাসপাতালে পৌঁছান সুকান্ত মজুমদার ও শুভেন্দু অধিকারীসহ অন্যান্য বিজেপি নেতারা

শুভেন্দু অধিকারী ঘনিষ্ঠ

বছর ৪১-এর চন্দ্রনাথ রথ মূলত পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরের বাসিন্দা। এই অঞ্চল শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক উত্থানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।

এক সময়ের রহড়া রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র চন্দ্রনাথ রথ ভারতীয় বিমান বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। সেখান থেকে অবসর গ্রহণের পর শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক হিসেবে কাজ শুরু করেন। তার পরিবারের সঙ্গে অধিকারী পরিবারের যোগ দীর্ঘদিনের।

মি. রথের মা হাসি রথ বিজেপির সক্রিয় সদস্য। এক সময় পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ‍ ছিলেন তিনি। প্রথমে তৃণমূলের অংশ হলেও পরে শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর মা হাসি রথও গেরুয়া শিবিরেই যোগ দেন।

 ANIচন্দ্রনাথ রথের মা হাসি রথ বিজেপির সক্রিয় সদস্য

ফাঁসি নয় দোষীদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পক্ষে নিহতের মা

চন্দ্রনাথ রথের মা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেছেন, "আমি চাই অপরাধীদের শাস্তি হোক। আমি একজন মা এবং আমি চাই না তাদের ফাঁসি হোক। আমি চাই তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হোক"।

তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

"বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে বলেই ওরা এই সব করেছে। আমাদের রাজ্য সভাপতি এবং নেতারা রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার কথা বারবার বলেছেন, কিন্তু শাসক দলের সদস্যরা নানা ধরনের উসকানিমূলক মন্তব্য করছিলেন। তারা বলছিলেন যে চার তারিখের পর দিল্লির বাবারাও আমাদের বাঁচাতে পারবেন না"।

"ঠিক সেটাই করলেন। আমার ছেলে যদি দুর্ঘটনায় মারা যেত, তাহলে আমার এত কষ্ট হতো না। শুভেন্দু বাবু মমতা ব্যানার্জীকে হারানোর পর থেকেই আমার পরিবার হুমকির মধ্যে রয়েছে"।

চন্দ্রনাথ রথের দেহ ময়নাতদন্তের পর পূর্ব মেদিনীপুরে তার বাড়ি নিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।

 ANIপশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তা

পুলিশ কী বলছে?

বুধবার রাতেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি রাস্তায় লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনাস্থলে এসেছিল ফরেনসিক টিম। প্রয়োজনীয় নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

বুধবার রাতে পুলিশের মহানির্দেশক সিদ্ধনাথ গুপ্তা বলেছেন, "আমরা তদন্ত শুরু করেছি। হামলার জন্য ব্যবহৃত চার চাকার গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তবে তার নম্বর প্লেট ভুয়ো। সেখানে কারচুপি করা হয়েছে"।

"ঘটনাস্থল থেকে তাজা গুলি ও ব্যবহৃত কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। সেগুলো পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে"।

 ANIঅগ্নিমিত্রা পাল

বিজেপি কী বলেছে?

পশ্চিমবঙ্গে সদ্য দুই দফা ভোট সম্পন্ন হয়েছে। বিক্ষিপ্ত বিশৃঙ্খলার ঘটনা বাদ দিলে মোটের উপর বড়-সড় ঘটনা এড়ানো গিয়েছে বলেও কিছুটা 'স্বস্তিতে' ছিল নির্বাচন কমিশন।

কিন্তু চৌঠা মে ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকে রাজ্যের একাধিক জায়গা থেকে সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে।

বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেস তাদের পার্টি অফিসে ভাংচুর, কর্মীদের মারধরের অভিযোগ তুলছে।

অন্যদিকে, বিজেপি অবশ্য সদস্যদের শান্তি বজায় রাখার কথা বলেছে। পাশাপাশি, তাদের অভিযোগ, বিজেপি কর্মী 'সেজে' তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরাই এই ঘটনা ঘটাচ্ছে। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল।

চন্দ্রনাথ রথ হত্যার ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে বিজেপির শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, "অন্যকিছু করতে না পেরে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ককে গুলি করল"।

"অত্যন্ত নৃশংস, মর্মান্তিক, হৃদয়বিদারক একটা ঘটনা। ওর মা আমাদের দীর্ঘদিনের কর্মী। এটা শুধু শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ককে হত্যা নয়, এটা একটা বার্তা দেওয়া"।

 BBCবারাসত হাসপাতালে পোস্ট মর্টেম হচ্ছে চন্দ্রনাথ রথের

বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল সরাসরি তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেছেন, "এটা সম্ভবত ভবানীপুরে মমতা ব্যানার্জীর পরাজয়েরই ফল... সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে... চন্দ্র খুবই বিশ্বস্ত ছিলেন। বিরোধী দলনেতার কার্যালয়ের সমস্ত কার্যক্রম তদারকি করত। আমাদের কাছে ভাইয়ের মতো ছিল। ছোটখাটো কাজও সামলাত..."।

"বিজেপির সঙ্গে যার বিন্দুমাত্র সম্পর্ক ছিল না, এমন একজন মানুষকে কেন হত্যা করা হলো? জনগণের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে...আমরা শান্তি চেয়েছিলাম, কিন্তু কিছুক্ষণ আগেই আমাদের একজন বুথ কর্মীর উপর হামলা করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন"।

ভোটের ফল প্রকাশের পর বিজেপিকর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ তুলেছেন শুভেন্দু অধিকারী।

"গত ১৫ বছর ধরে রাজ্যে প্রতিহিংসার রাজনীতি চলেছে। বুধবারই খড়দহে বোমা পড়েছে, বরাহনগরে ছুরি নিয়ে হামলা চালানো হয়েছে, বসিরহাটে গুলিতে আক্রান্ত হয়েছেন বিজেপিকর্মী"।

 এই হত্যার নিন্দা করেছে তৃণমূল- প্রতীকী ছবি

তৃণমূল কী বলছে

ঘটনার পরই তৃণমূলের পক্ষ থেকে

শ করে চন্দ্রনাথ রথের হত্যার নিন্দা করা হয়।

ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "আদর্শ আচরণবিধি বলবৎ থাকা সত্ত্বেও, গত তিন দিন ধরে বিজেপি-সমর্থিত দুষ্কৃতকারীদের দ্বারা সংঘটিত নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় আরও তিনজন তৃণমূল কর্মীর হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি আমরা"।

"এই বিষয়ে সম্ভাব্য কঠোরতম ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি, যার মধ্যে আদালত-পর্যবেক্ষিত সিবিআই তদন্তও অন্তর্ভুক্ত, যাতে দোষীদের অবিলম্বে শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনা যায়। গণতন্ত্রে সহিংসতা ও রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের কোনো স্থান নেই এবং দোষীরা যাতে জবাবদিহি করতে পারে দ্রুত তার ব্যবস্থা করতে হবে"।

BBC

source: bbc.com/bangla

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: BBC Bangla