Dailyhunt
৩৫ বছর পর ব্যালট ছেড়ে ইভিএমে! ভোট দিয়ে আপ্লুত বেলঘরিয়ার সমীর মজুমদার

৩৫ বছর পর ব্যালট ছেড়ে ইভিএমে! ভোট দিয়ে আপ্লুত বেলঘরিয়ার সমীর মজুমদার

শেষবার যখন বুথে গিয়েছিলেন, তখন চারিদিকে কাগজের ব্যালট আর কাঠের বাক্সের দাপট। তারপর কেটে গিয়েছে দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক। টিভি বা মোবাইলের পর্দায় বৈদ্যুতিন ভোটযন্ত্র বা ইভিএম দেখেছেন ঠিকই, কিন্তু ছুঁয়ে দেখা হয়নি কোনোদিন। এবার সেই আক্ষেপ মিটল বেলঘরিয়ার বাসিন্দা, কবি সমীর মজুমদারের।

৩৫ বছর পর কল্যাণী বিধানসভা কেন্দ্রে নিজের আদি বাড়িতে গিয়ে জীবনের প্রথমবার ইভিএমে বোতাম টিপলেন তিনি। আর সেই অভিজ্ঞতায় রীতিমতো আপ্লুত পঞ্চান্নোর্ধ্ব এই কবি।

পেশা ও নেশায় সমীর মজুমদার আগাগোড়াই ভাবুক মানুষ। মুহূর্তের মধ্যে কবিতা বুনে ফেলা বা ফ্যান্টাসির জগতে ডুবে থাকাই তাঁর স্বভাব। রাজনীতি বা ভোট নিয়ে দীর্ঘকাল একপ্রকার অনীহাই ছিল তাঁর। কিন্তু এবার হঠাৎ কী মনে হওয়ায় পৌঁছে গিয়েছিলেন বুথে। তাঁর কথায়, "বয়স হচ্ছে তো, কবে আছি কবে নেই! তাই ভাবলাম ইভিএমটা একবার হাত দিয়ে ছুঁয়েই দেখি। বোতাম টেপার পর যখন শব্দ হলো, মুগ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছিলাম কিছুক্ষণ। শেষে এক ভোটকর্মী তাড়া দিয়ে বের করে দিলেন।"

পরিবার বলতে স্ত্রী আর এক ছেলে। আড্ডাপ্রিয় মানুষটি সব বিষয়ে কথা বললেও রাজনীতি বা দলাদলি নিয়ে খুব একটা উচ্চবাচ্য করেন না। এমনকি নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়েও তাঁর বিশেষ শৌখিনতা নেই। তাঁর মতে, ভোট না হওয়াই ভালো। তবে নির্বাচন না হলে সরকার চলবে কীভাবে, সে উত্তর তাঁর কাছেও নেই। অগত্যা এবার যখন দেখলেন চারদিকে ভোটের বিপুল উৎসাহ, তখন নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেননি। তাঁর সাফ কথা, "ভাগ্যিস ভোটটা দিতে গিয়েছিলাম। এত মানুষ লাইন দিয়ে ভোট দিচ্ছেন, আমি না গেলে পরে হয়তো আফসোস হতো।"

প্রথমবার ইভিএম ব্যবহারের আনন্দ কবিকে এতটাই উৎসাহিত করেছে যে, এখন তিনি বলছেন আগামী দিনেও প্রতিবার ভোট দিতে যাবেন। আঙুলের নীল কালির দাগ দেখিয়ে মৃদু হাসলেও, কোন প্রতীকে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেন, তা নিয়ে অবশ্য স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই রহস্য বজায় রেখেছেন কবি। শুধু জানিয়েছেন, প্রযুক্তির এই ছোঁয়া আর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পেরে তিনি আজ বেজায় খুশি।

_

_

_

_

_

_

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Biswa Bangla Sangbad