দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের পর অবশেষে বৈবাহিক সম্পর্কের ইতি টানতে চলেছেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা (Jammu and Kashmir Chief Minister Omar Abdullah) ও তাঁর স্ত্রী পায়েল। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) দুই পক্ষই জানিয়েছেন, তাঁরা পারস্পরিক সম্মতিতে বিবাহবিচ্ছেদে (Divorce) রাজি।
শুধু তাই নয়, একে অপরের বিরুদ্ধে দায়ের করা সমস্ত মামলাও তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এরপরই শীর্ষ আদালত জানায়, সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের ক্ষমতা প্রয়োগ করে এই সমঝোতার ভিত্তিতেই মামলার নিষ্পত্তি করা হবে।
১৯৯৪ সালে দিল্লির একটি হোটেলে কাজ করার সময় ওমর ও পায়লের পরিচয় হয়। পরে সেই পরিচয় থেকেই বিয়ে। তাঁদের দুই ছেলে রয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে আলাদা থাকতে শুরু করেন দুজন। ২০১১ সালে ওমর আবদুল্লা প্রকাশ্যে জানান, তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্ক ভেঙে গিয়েছে। সম্প্রতি শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্টও জানিয়েছিল, গত ১৬ বছর ধরে আলাদা থাকা এই দম্পতির সম্পর্কে আর ফেরার সম্ভাবনা নেই।
এর আগে স্ত্রী তাঁকে ছেড়ে চলে গিয়েছেন এবং মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে এই অভিযোগ তুলে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেছিলেন ওমর আবদুল্লা। কিন্তু ২০১৬ সালে পারিবারিক আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। পরে দিল্লি হাই কোর্টেও সেই রায় বহাল থাকে। পাশাপাশি হাই কোর্ট পায়লের জন্য মাসে ১.৫ লক্ষ টাকা ভরণপোষণ এবং এক সন্তানের পড়াশোনার জন্য মাসে ৬০ হাজার টাকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।
তবে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর শেষ পর্যন্ত আদালতের বাইরে সমঝোতার পথেই এগিয়েছেন দু'জন। চলতি মাসে যৌথভাবে সুপ্রিম কোর্টে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন জানান তাঁরা। শুনানিতে তাঁদের আইনজীবী কপিল সিব্বল জানান, উভয়েই নতুনভাবে জীবন শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই সুপ্রিম কোর্ট বিবাহবিচ্ছেদ মঞ্জুর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং বাকি সমস্ত আইনি জটিলতারও অবসান ঘটছে।

