প্রত্যাশা ছিল অভিমান উপচে পড়বে তাঁর কথায়। হয়ত ক্ষোভ উগড়ে দেবেন তাঁদের বিরুদ্ধে, যাঁদের জন্য একদিন তাঁকে কলকাতা (Kolkata) ছাড়তে হয়েছিল। শনিসন্ধেয় কানায় কানায় ভরা রবীন্দ্রসদনে তিনি যা বললেন, সংবাদ মাধ্যমের ভাষায় তাঁর প্রতিটি লাইনই শিরোনাম। ধারালো আক্রমণ নয়, ক্ষোভ প্রকাশ নয়, কিন্তু ছত্রেছত্রে অভিমান আর অস্মিতা প্রকাশ করলেন তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin)।
এককথায় বলতে গেলে এদিন তাঁর ভাষণের পুরোটাই যেন কাব্য।
মৌলবাদ থেকে শুরু করে লেখকের সম্মান, নারীর স্বাধীনতা থেকে মুক্ত চিন্তা- একের পর এক বিষয় নিয়ে বক্তব্য রাখেন তসলিমা। আর ৩৮ মিনিট ২০ সেকেন্ডে ধরে বলা তাঁর কথা তাঁর লেখনির মতোই ধারালো, স্পষ্ট, ঋজু। এক একটি বাক্য বলছেন তসলিমা, আর দর্শকাসন থেকে মুহুর্মূহ করতালিতে ভরে যাচ্ছে প্রেক্ষাগৃহ। তসলিমা বলেন, তিনি কোনও সরকারের বিপক্ষে বা পক্ষে বলতে আসেননি। তিনি বাক স্বাধীনতা, লেখকের স্বাধীনতার পক্ষে বলতে এসেছেন। তাঁর কথায়, “আমি কলকাতায় ফিরে এসেছি-এই কথা বলতে আমার ১৯ বছর লাগল।“
প্রথম থেকেই মৌলবাদ ছিল তসলিমার নিশানায়। একই সঙ্গে তিনি জানান, কেন শুধু ইসলাম মৌলবাদের বিরুদ্ধেই বলেন লেখিকা? তাঁর কথায়, “আমি সেটাকেই কাছ থেকে দেখেছি।“ তবে, তিনি যে সব মৌলবাদের বিরুদ্ধে তা স্পষ্ট করেন নির্বাসিত লেখিকা। জানান, যত দিন বাঁচবেন, ততদিন লিখে যেতে চান।
লেখিকার স্মৃতিচারণায় উঠে এসেছে ৩২ বছর আগে বাংলাদেশে থেকে বিতড়ন থেকে শুরু করে ১৯ বছর আগে কলকাতা থেকে চলে যাওয়ার কথা। তসলিমার কথায়, এদিন তাঁর এই অনুষ্ঠানে আসা, আসলে বন্ধ দরজা খোলা।

