বাঁকুড়ার আশা কর্মী রুম্পা মণ্ডলের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সরগরম হয়ে উঠল রাজ্যের একাধিক জেলা। উত্তর থেকে দক্ষিণ— সর্বত্রই আছড়ে পড়ল আন্দোলনের ঢেউ। কোচবিহারের সিএমওএইচ দফতর থেকে শুরু করে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ এবং বাঁকুড়ার কোতুলপুর বিডিও দফতর— সর্বত্রই প্রতিবাদী আশা কর্মীদের ক্ষোভে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়।
মৃতের পরিবারের জন্য ৫০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বিজেপি বিধায়িকা চন্দনা বাউরির মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে দিনভর চলল বিক্ষোভ, স্মারকলিপি প্রদান ও মৌন মিছিল।
প্রতিবাদের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে একটি সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া ভিডিও, যেখানে শালতোড়ার বিজেপি বিধায়িকা চন্দনা বাউরীকে আশা কর্মীদের ‘চোর’ বলে কটাক্ষ করতে দেখা গিয়েছে বলে অভিযোগ। জানা গিয়েছে, গত ২ আগস্ট এই ঘটনার পর থেকেই মারাত্মক মানসিক চাপে ছিলেন গঙ্গাজলঘাটির আশা কর্মী রুম্পা মণ্ডল। গত ৩ আগস্ট আচমকাই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া পশ্চিমবঙ্গ আশা কর্মী ইউনিয়নের দাবি, কাজের অতিরিক্ত চাপ এবং বিধায়িকার এই অপমানের কারণেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে মৃত্যু হয়েছে রুম্পার।
মঙ্গলবার সকালে কোচবিহারে পশ্চিমবঙ্গ আশা কর্মী ইউনিয়নের উদ্যোগে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের (সিএমওএইচ) দফতরের সামনে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন ব্লক থেকে আসা শয়ে শয়ে কর্মী প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন ও ব্যানার হাতে নিয়ে দফতর ঘেরাও করেন। পরে সিএমওএইচ-এর মাধ্যমে রাজ্য সরকারের উদ্দেশে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। একই ছবি ধরা পড়েছে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জেও। সেখানে বিডিও দফতরের সামনে শোক দিবস পালনের পাশাপাশি নীরবতা পালন করেন আন্দোলনকারীরা। নেতৃত্বে ছিলেন জেলা সম্পাদিকা মিনতি সরকার।
অন্যদিকে, ঘটনার কেন্দ্রস্থল বাঁকুড়ার কোতুলপুরে পরিস্থিতি ছিল আরও থমথমে। সেখানে আশা কর্মীরা মুখে কালো কাপড় বেঁধে মৌন মিছিলে শামিল হন। মিছিল শেষে কোতুলপুর বিডিও দফতরের সামনে মৃত রুম্পা মণ্ডলের ছবিতে মাল্যদান করে মাটিতে বসেই চলে নিরব প্রতিবাদ। পরে বিডিও-র কাছে লিখিত দাবি পেশ করা হয়। আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট বক্তব্য, শালতোড়ার বিধায়িকাকে প্রমাণ করতে হবে যে আশা কর্মীরা কোথায় চুরি করেছেন। প্রমাণ দিতে না পারলে তাঁকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে এবং বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে।
আন্দোলনকারী নেত্রীদের কথায়, মাতৃসুরক্ষা, শিশু স্বাস্থ্য ও টিকাকরণের মতো একদম তৃণমূল স্তরের স্বাস্থ্য পরিষেবা সামলান আশা কর্মীরা। অথচ কোনও প্রশিক্ষণ ছাড়াই কাজের অতিরিক্ত চাপ চাপানো হচ্ছে। তার উপর জনপ্রতিনিধিদের অসম্মানজনক আচরণ সহ্য করা সম্ভব নয়। রুম্পা মণ্ডলের পরিবারের জন্য ৫০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ও একজনের সরকারি চাকরির পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা না মিললে আগামিকাল থেকে রাজ্যজুড়ে আরও বৃহত্তর সংগ্রামের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইউনিয়ন নেতৃত্ব।

