Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
দিনহাটায় শিশুকন্যাকে গণধর্ষণ: টাকা দিয়ে মুখবন্ধের চেষ্টা বিজেপি নেত্রীর! অভিযোগ তৃণমূলের

দিনহাটায় শিশুকন্যাকে গণধর্ষণ: টাকা দিয়ে মুখবন্ধের চেষ্টা বিজেপি নেত্রীর! অভিযোগ তৃণমূলের

বারুইপুরের গণধর্ষণের ছবি এবার দিনহাটায়। সাত বছরের শিশুকন্যাকে গণধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য । শনিবার দিনহাটার পুঁটিমারী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে শিশুটি দিনহাটা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার পরে টাকা দিয়ে পরিবারের মুখবন্ধের চেষ্টা করেছেন স্থানীয় বিজেপি নেত্রী-অভিযোগ তৃণমূলের।

অভিযোগ, বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগ নিয়ে পাঁচজন বাড়িতে ঢুকে শিশুকন্যার উপর গণধর্ষণ চালায়। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। আর এই ঘটনার খবর সামনে আসতেই তৎক্ষণাৎ বিজেপির তরফ থেকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ, এলাকায় ধর্ষণের খবর সামনে আসতেই বিজেপির পক্ষ থেকে শিশুর পরিবারকে ২০ হাজার টাকা অফার করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে সেই প্রলোভনায় পা দেয়নি নির্যাতিতার পরিবার। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থানায় অভিযোগ জানাতে যাওয়ার উদ্যোগ নেয় পরিবার। পরে সিপিএমের প্রতিনিধিরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে থানায় যান।

শিশুটির মায়ের গুরুতর অভিযোগ, বিজেপির নেত্রী শাবানা খাতুন তাঁকে ২০ হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার কথা বলেছিলেন। অভিযুক্ত নেত্রী অবশ্য দাবি করেছেন, ঘটনা জানার পর তিনি শিশুটির বাড়িতে গিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন এবং পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিযুক্তদের নাম জানান। শাবানা খাতুনের বক্তব্য, ঘটনাটি জানার পর তিনি রাতে শিশুটির বাড়িতে যান এবং তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। পাশাপাশি পুলিশের সঙ্গেও যোগাযোগ করেন বলে দাবি তাঁর। বিরোধীরা এই ঘটনাকে রাজনৈতিক চক্রান্তের রং দেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। অন্যদিকে, শিশুটির মায়ের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁর দাবি, টাকা দিয়ে ঘটনাটি মিটিয়ে ফেলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তিনি কোনও সমঝোতা চান না, অভিযুক্তদের শাস্তি চান। এই ঘটনা প্রসঙ্গে দিনহাটা থানার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই নিয়ে সরব হয়েছে তৃণমূল। সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে ভয়ঙ্কর ঘটনার তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে বিজেপি সরকার নারী সুরক্ষা ও নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। অবৈধ জয়ের পর সেই প্রতিশ্রুতিগুলি কী হল? মহিলাদের সুরক্ষা ক্রমশ কমছে। কাউকেই যেন রেহাই দেওয়া হচ্ছে না, এমনকী ছোট ছোট শিশুরাও নয়। যে সরকার বিচার নিশ্চিত করার পরিবর্তে অপরাধীদের আড়াল করে, তারা তাদের সবচেয়ে মৌলিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ। ভুক্তভোগীদের রক্ষা করুন। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করুন। সুবিচার নিশ্চিত করুন। কোনো অজুহাতই নীরবতাকে সমর্থন করতে পারে না! ধিক্কার এই জনবিরোধী সরকারকে।

আরজি কর- এর তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুন ঘটনায় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্যাতিতা পরিবরের পাশে থাকার জন্য তাদের আর্থিক সাহায্য দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তা নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। সেইসময় বিরোধী শিবিরের তরফে বারবার বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকারের সমালোচনা করা হয়। এই অভিযোগ যারা তুলেছিল সেই বিজেপিই এখন বাংলার সরকারে। আর এবার দিনহাটায় তাদের দলের নেত্রী গিয়ে টাকা দিয়ে করে গণধর্ষণের বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। এই ঘটনা সামনে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। নির্বাচনী রাজনীতিতে নারী সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। বিজেপিও বিভিন্ন নির্বাচনী প্রচারে নারী সুরক্ষা, কঠোর আইন এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির ফারাক কতটা তা বারুইপুরের ১২ বছরের কিশোরীকে গণধর্ষণের ঘটনার পর দিনহাটার মতো ঘটনা সেই প্রশ্নই ফের সামনে আনছে।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Biswa Bangla Sangbad