দুর্গাপুজোর মধ্যে এলাকার মানুষের কাছে যেতে পারছেন না। দুঃখে চোখে জল কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের (Madan Mitra)। তাঁর সেই সাক্ষাৎকার প্রকাশ হওয়ার পরেই সেই সুরে সুর মিলিয়ে কেশপুরের বিধায়ক শিউলি সাহার (Siuli Saha) আর্তনাদ, "মদনদার মতো আমাদেরও চোখে জল।" কারণ, বিধায়ক হিসেবে কোনও পরিষেবায় এলাকার মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারছেন না।
শিউলির দাবি, নিরাপত্তাহীনতার কারণেই নাকি পৌঁছতে পারছেন না তিনি। তবে সাংবাদিক মহলের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ছবি এবং নাম ব্যবহার করে জেতার পরে তাঁর হাত ছেড়ে 'গদ্দারদের' দলে নাম লিখিয়েই এলাকায় জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন শিউলি। ফলে ১০৫০০ ভোটে জেতার পরেও এলাকায় যাওয়ার সাহস হচ্ছে না তার।
কামারহাটির বিধায়ক মদন বলেন, "এতো চোখের জল কোনও পুজোয় পড়েনি। আমি চারবারের বিধায়ক, অথচ নিজের কেন্দ্রে যেতে পারলাম না। আতঙ্ক-সন্ত্রাস-নিরাপত্তাহীনতার জন্য যেতে পারলাম না। খুনিরা অস্ত্র নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বুঝতে পারলাম, ঈশ্বর ছাড়া কেউ আশ্রয় দিতে পারেন না।" এই নিয়ে কেশপুরের বিধায়ক শিউলিকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, "মদনদার চোখে কালকে জল দেখিয়েছে... আর উনি যখন বলছিলেন তখন আমাদেরও চোখের জল এসেছে"
শিউলি সাহার অভিযোগ, তিনি এলাকায় যেতে পারছেন না। তাঁকে সংখ্যালঘুরা ভোট দিয়েছেন। হিন্দু বুথগুলিতেও ভোট পেয়েছেন তিনি। কিন্তু তারপরেও এলাকায় যাওয়া হচ্ছে না। বর্ষায় ত্রিপল দিতে পারেননি। পুজোর জামা কাপড়ও দিতে পারেনি এলাকাবাসীকে। এতে কেশপুরের বিধায়কের ভারি আফসোস। তিনি জানান, ত্রাণের ত্রিপল পড়ে রয়েছে বিডিও-র কাছে। আগে সরাসরি বিধায়কের কাছেই এই ত্রাণ পাঠানো হত। এখন সেগুলি বিডিও-র কাছে যায়। সেখান থেকে আসে বিধায়কের কাছে। শিউলি বিডিওকে জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি যখন যাবেন তখনই সেই ত্রাণ বিলি করবেন।
কিন্তু কেন এলাকায় যেতে পাচ্ছেন না শিউলি সাহারা? তাঁর অভিযোগ, নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তিনি। একজন বিধায়ক হয়ে, এতদিনের রাজনীতিবিদ হয়ে এলাকায় যাওয়ার সাহস পাচ্ছেন না। এ বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। কিন্তু এর আগেও তিনি বিধায়ক হয়েছেন। রাজ্যের প্রতিমন্ত্রীও হয়েছেন। তখন তো এলাকায় যেতে সমস্যা হয়নি। তাহলে এখন হচ্ছে কেন? রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে পালাবদলে তৃণমূল ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পরেই কালীঘাটের রাস্তা ভুলেছেন শিউলিরা। নাম লিখিয়েছেন ঋতব্রত শিবিরে। যে শিবির বকলমে বিজেপিরই বি টিম। ফলে এলাকার মানুষ যাঁরা বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূলের এই শিউলি সাহাদের মতো প্রার্থীদের ভোট দিয়ে জয়ী করেছেন, তাঁরা এই শিবিরবদলুদের উপর বেজায় খাপ্পা। ফলে ভয়ের চোটে আর নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে যেতে পারছেন না মদন মিত্র, শিউলি সাহারা।
সম্প্রতি নিজের লোকসভা কেন্দ্র আরামবাগে গিয়ে "গো ব্যাক" স্লোগান শুনে স্থানীয়দের তাড়া খেয়েছেন তৃণমূল ছেড়ে NCPI-তে যাওয়া সাংসদ মিতালি বাগ (Mitali Bag)। সেই উদাহরণ দেখে বোধহয় আরও সাহস করছেন না মদন, শিউলিরা। সেই কারণেই এই আর্তনাদ! কিন্তু যে বিজেপি সরকারের হাত শক্ত করতে তাঁরা মমতা শিবির ছাড়লেন, সেই প্রশাসন তাঁদের নিরাপত্তা দিচ্ছে না কেন? জবাব নেই দলবদলু বিধায়কদের কাছে।

