“স্রেফ রাজ্যের একটি জেলা থেকেই বেআইনি ভাবে পাথর পাচার করে গত ১৫ বছরে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে ১৫ হাজার কোটি টাকা“- এর জন্য গত রাজ্য সরকারকে নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকরী (Suvendu Adhukari)। শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে এখনও পর্যন্ত টুলু মণ্ডলের (Tulu Mandol) কত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে তার খতিয়ান দেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দু বলেন, “টুলু মণ্ডলের বিভিন্ন অ্য়াকাউন্টে থাকা ৯৩ কোটি টাকা ফ্রিজ করেছি।“
বীরভূমের (Birbhum) পাথর ব্যবসায়ী টুলুর আত্মীয়র বাড়ি থেকে পাহাড়প্রমাণ সম্পত্তি উদ্ধার হয়েছে। এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “টুলু মণ্ডলের বিভিন্ন অ্য়াকাউন্টে থাকা ৯৩ কোটি টাকা ফ্রিজ করেছি। এছাড়া নগদ ৫৩ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করেছি। ২৬৮ গ্রাম সোনা, ৪০০ গ্রাম রুপো ও ৬৩ গ্রাম প্ল্যাটিনাম। ৩টি টাকা গোনার মেশিন, ১ কম্পিউটার ও সিপিইউ, ২টি পেনড্রাইভ পাওয়া গিয়েছে। ৮৩টি ট্রাক ও ডাম্পার। বিএমডব্লিউ, অডি মিলিয়ে মোট ২৪২টি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।” শুভেন্দু আরও বলেন, “মোট ২১টি সম্পত্তির খোঁজ। তাম মধ্যে রয়েছে ৭টি বাড়ি, ১টি ফার্মহাউস, ২টি পেট্রল পাম্প, ১টি পার্কিং, ২টি ক্রাশার। সবমিলিয়ে ৩০০ বিঘা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে।”
এর পরেই দুর্নীতি নিয়ে জিরো টলারেন্সের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “মূল মাথার খোঁজে যা যা করার করব। এত বড় দুর্নীতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সাপোর্ট ছাড়া হতে পারে না। এতদিন ধরে এত বড় দুর্নীতি, সবাই যুক্ত রয়েছে। এটা একদিনের একটা ঘটনা নয়। আমার রাজ্যে কী ঘটছে, তার জন্য আমি দায়ী নয়। কিন্তু তারপর কী ব্যবস্থা নিচ্ছেন, সেটাই আসল। এত সম্পত্তি তো একদিনে হয় না। এতদিন ধরে কী করছিলেন? উঁচুতলা থেকে নির্দেশ না গেলে, এটা হয় না। বেচারি পুলিশ, জেলাশাসককে দোষ দিয়ে কী লাভ আছে। তবে যারা যুক্ত তাদের সকলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বেপাত্তা টুলু বিদেশে গিয়ে গা ঢাকা দিতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি রাজ্য় পুলিশের প্রশংসা করে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান বলেন, টুলুকে খুঁজে বের করবে রাজ্য পুলিশই, বীরভূমের পুলিশই।
বিগত সরকারকে নিশানা করে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “প্রতি বছর ১০০ কোটি টাকা সরকারি খাতায় জমা পড়লেও প্রায় ১০০০ কোটি টাকা কালো পথে বাইরে বেরিয়ে যেত। গত ১৫ বছরে শুধু বীরভূমের পাথরখাত থেকেই রাজ্যের অন্তত ১৫,০০০ কোটি টাকার রাজস্ব চুরি হয়েছে। এই বিপুল অর্থ সরকারি তহবিলে এলে আরও নতুন হাসপাতাল তৈরি হত, নতুন স্কুল বিল্ডিং হতো, লক্ষ লক্ষ বেকার যুবক-যুবতীর কর্মসংস্থান হতে পারত।”
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট অভিযোগ, “প্রতিষ্ঠান প্রধানের সম্মতি ছাড়া এত বড় অসাধু ব়্যাকেট বছরের পর বছর চলতে পারে না। ‘মিস্টার মণ্ডল আমাদের লোক, ওর দিকে তাকাবে না’— শীর্ষ স্তর থেকে এমন নির্দেশ ছিল বলেই নিচুতলার আধিকারিকরা চোখ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিলেন। তাই এর দায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ওপরেই বর্তায়।”
শুভেন্দু জানান, তাঁর আমলে পূর্ব বর্ধমানে তৃণমূল নেতাদের ফেলে রাখা বেআইনি বালি প্রকাশ্যে অকশন করে এক লপ্তে সাড়ে ১৩ কোটি টাকা রাজ্য কোষাগারে এসেছে।

