একটা সময় ময়দানের পরিচিত মুখ ছিলেন। ইস্টবেঙ্গল-মহমেডান দলের জার্সিতে খেলেছেন সাহেব আলি ঘরামি। কিন্তু চোটের জেরে অকালেই ফুটবল জীবন সমাপ্ত হয়েছিল। তারপর শুরু জীবন সংগ্রহ। একটা সময় দলের গোল রক্ষা করতে প্রতিপক্ষ ফুটবলারদের দূরপাল্লার শট রুখে দিয়েছিলেন, এখন সংসার চালাতে ভরসা বাসের কন্ডাকটর।
পলাশীপাড়ার পারকুলা গ্রামের এক দিনমজুর পরিবারে ১৯৮৫ সালে জন্ম সাহেব আলির। ছোটবেলা থেকেই ফুটবলই ছিল সবথেকে প্রিয়। ২০০৪ সালে একটি টুর্নামেন্টে নজরকাড়া পারফরম্যান্স করে কলকাতার সোনালি শিবিরের কর্তাদের নজরে পরেন। সোনালি শিবির থেকে পা রাখেন ময়দানের বড় ক্লাবে। ২০০৭ সালে। সুযোগ পান ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে খেলার সুযোগ পান। প্রায় তিন মরশুম লাল হলুদ জার্সিতে খেলেছেন। প্রথম মরশুমে সাত-আটটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পান মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য ও সুভাষ ভৌমিকের কোচিংয়ে। পরে ফিলিপ ডি রাইডারের সাহেবের প্রতিভায় আস্থা রাখেন , প্রথম একাদশে নিয়মিত খেলার সুযোগ পান। এরপর দল বদলে মহামেডান স্পোর্টিংয়ে। তবে ২০১৩ সালে চোট পাওয়ায় বড় দলের দরজা বন্ধ হয়ে যায় । তবে ময়দান ছাড়েননি। পিয়ারলেস ক্লাবে ন’ বছর খেলার পর দেশের বাড়িতে ফিরে আসেন।
ফুটবল খেলে চাকরি পাননি। ওনজিসিতে সুযোগ পেলেও ক্লাব না ছাড়ায় যোগ দিতে পারেননি। চোট পাওয়ার পর বড় দল গুলো ফিরে তাকাওনি সাহেবের দিকে। সংসার চালাতে সাবেহ বেছে নেন বাসের কন্ডাকটরের কাজ। ফুটবলের গ্লাভস ছেড়ে ধরেছেন বাসের টিকিট। সময়ের স্রোতে সাহেবরা হারিয়ে যান ময়দান থেকে।

