যন্তর মন্তরে ককরোচ আন্দোলনের ভিড়ে মিশে নাশকতার ছক কষেছিল জইশ জঙ্গি হামিম মণ্ডল। এমনকি সে জন্য পুলিশের পোশাকও জোগাড় করা হয়েছিল। আসল উদ্দেশ্য ছিল মোদি সরকারকে বদনাম করা। শনিবার ভবানীভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে এমনই বিস্ফোরক তথ্য সামনে আনলেন রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) আইজি গৌরব শর্মা।
শুক্রবার সকাল থেকেই চর্চায় ধৃত জইশ-ই-মহম্মদের সদস্য হামিম মণ্ডল ও তাঁর বান্ধবী অর্পিতা সরকার। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে একাধিক নতুন তথ্য হাতে এসেছে বলে জানান এসটিএফ কর্তারা। পুলিশ সূত্রের খবর, গত চার বছর ধরে বাংলায় আস্তানা গেড়েছিল হামিম। সম্প্রতি হাওড়ার এক মন্ত্রীর ছেলেকে অপহরণের হুমকির তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথম তার সন্ধান পায়। পাক জঙ্গি সংগঠনগুলির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ছিল তার। ইনস্টাগ্রাম বা টেলিগ্রামের মতো এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহার করে সে যোগাযোগ রাখত পাকিস্তানের হ্যান্ডলারদের সঙ্গে। নজরদারি এড়াতে আমেরিকা ও মেক্সিকোর সিম ব্যবহার করা হতো। হামিমের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাকিস্তান থেকে সরাসরি টাকা আসার প্রমাণও মিলেছে।
আইজি গৌরব শর্মা জানান, ওই এনক্রিপ্টেড চ্যাট উদ্ধার করেই নাশকতার পরিকল্পনার কথা জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। এসটিএফের দাবি, আন্তর্জাতিক মহলে মোদি সরকারকে বদনাম করতে এবং কেন্দ্রকে কালিমালিপ্ত করতেই যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারী ‘ককরোচ’দের ভিড়ে মিশে নাশকতার ছক কষা হয়েছিল। সে জন্য ভুয়ো পুলিশ সাজতেও তৈরি ছিল তারা। তবে এই অভিযানে হামিম নিজে দিল্লিতে গিয়েছিল নাকি তার সঙ্গীদের সেখানে পাঠিয়েছিল, তা এখনও তদন্তসাপেক্ষ। ককরোচ আন্দোলনের নেপথ্যে ডিপ স্টেটের হাত রয়েছে বলে যে জল্পনা চলছিল, এই জঙ্গি যোগের খবরে তা আরও জোরালো হলো। কেন্দ্রের মোদি সরকারকে কোণঠাসা ও বদনাম করতে এই ছাত্র আন্দোলনের পিছনে জইশ-ই-মহম্মদের সরাসরি ভূমিকা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

