বারুইপুরে এক ৯ বছরের নাবালিকার ওপর ঘটে যাওয়া নৃশংস ঘটনার রেশ এবার এসে পৌঁছাল খোদ কলকাতার হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে। ঘটনার ভয়াবহতা শুনে মৃত শিশুর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে বারুইপুর যাওয়ার কথা ভেবেছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তার আগেই পুলিশি তৎপরতায় কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে তাঁর বাসভবন সংলগ্ন এলাকা।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে ধিক্কার জানালেন তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন। হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের মুখে পুলিশের বিশাল বাহিনী ও ঘেরাটোপ দেখে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, "রাজ্যে কি সুপার ইমার্জেন্সি বা জরুরি অবস্থা চলছে?"
এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দোলা সেন জানান, বারুইপুরের মর্মান্তিক ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকেই সেখানকার মানুষ অত্যন্ত উত্তেজিত এবং শোকাচ্ছন্ন। তিনি বলেন, "বারুইপুরে একটি নয় বছরের বাচ্চার ওপরে সাংঘাতিক ও জঘন্য ঘটনা ঘটেছে। দিদির মতন একজন জননেত্রী, যিনি মানুষের জন্য রাজনীতি করেন, তিনি কি এমন ঘটনার পর চুপ করে ঘরে বসে থাকতে পারেন?"
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে দোলা সেন বলেন, "দিদি সাত বারের সাংসদ, ছ' বার কেন্দ্রের মন্ত্রী এবং তিন বারের মুখ্যমন্ত্রী। সর্বোপরি তিনি মা-মাটি-মানুষের নেত্রী, এক জন মাস লিডার। বারুইপুরের ওই নাবালিকার ওপর হওয়া জঘন্য অত্যাচারের কথা শুনে তিনি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথা ভেবেছিলেন। এটাই কি তাঁর অপরাধ?" তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যাওয়ার ভাবনার কথা জেনেই পুলিশ পুরো এলাকা ঘিরে ফেলেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে স্বয়ং দোলা সেনের গাড়িও ওই রাস্তায় ঢুকতে সমস্যায় পড়ে।
এই পরিস্থিতিকে দেশের গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো এবং সংবিধানের ওপর আঘাত বলে উল্লেখ করেছেন দোলা সেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "আমরা সাংবিধানিক পদে আছি। ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী এই ধরনের ঘটনা কখনই মেনে নেওয়া যায় না। ওনারা কি এইভাবে নজরবন্দি করে বা হাউস অ্যারেস্ট করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটকে রাখতে পারবেন? সাধারণ মানুষের কাছে পুলিশ প্রশাসন নিজেদের কীভাবে জাস্টিফাই করবে?"
পুরো ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক’ এবং ‘লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়ে দোলা সেন পুলিশ প্রশাসনকে অবিলম্বে স্বাভাবিক হওয়ার এবং দেশের সংবিধান মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। পুলিশের এই অতি-সক্রিয়তার বিরুদ্ধে তীব্র ধিক্কার জানিয়ে তিনি সাফ জানিয়েছেন, কোনো কোর্ট অর্ডার বা আইনি নিষেধাজ্ঞা ছাড়া একজন জননেত্রীকে মানুষের কাছে যাওয়া থেকে এভাবে কোনোভাবেই রুখে রাখা যায় না।

