কলকাতা পুরসভার বিরুদ্ধে চরম গাফিলতির অভিযোগ তুলে কড়া মন্তব্য কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court)। একটি ফ্ল্যাট ভাঙার আগে সংশ্লিষ্ট নথি ও অনুমোদনের রেকর্ড যাচাই না করেই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে আদালতের পর্যবেক্ষণ। পরে আদালতে পুরসভার তরফে সেই তথ্য নজরে না আসার যুক্তি পেশ করা হলেও বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর (Justice Raja Basu Chowdhury) বেঞ্চ তা মেনে নিতে অস্বীকার করে।
আদালতের মন্তব্য, এ ধরনের আচরণ ‘অত্যন্ত বেপরোয়া’।
মামলার শুনানিতে আদালত জানায়, কোনও নির্মাণ ভাঙার মতো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সরকারি রেকর্ড খতিয়ে দেখা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মৌলিক দায়িত্ব। সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই ব্যবস্থা নেওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ফ্ল্যাটের ভেঙে যাওয়া ছাদ দ্রুত পুনর্নির্মাণ করতে হবে। এই কাজ সম্পূর্ণ করার জন্য কলকাতা পুরসভাকে (Kolkata Municipal Corporation) আট সপ্তাহের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে হাই কোর্ট।
ঘটনার সূত্রপাত আনন্দ পালিত রোডের একটি আবাসনকে ঘিরে। ওই আবাসনের চতুর্থ তলার বাসিন্দা তাপস মজুমদার (Tapas Majumdar) আদালতের দ্বারস্থ হয়ে অভিযোগ করেন, অনুমোদিত জি+৪ ভবনের অংশ হয়েও তাঁর ফ্ল্যাটের ছাদ ভেঙে দিয়েছে পুরসভা। অভিযোগ ছিল, বাড়ির উপরের তলায় বেআইনি নির্মাণ করা হয়েছিল। শুনানিতে কেএমসি জানায়, ২০১৪ সালে অনুমোদনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় পঞ্চম তলার অংশ ভাঙা হয়েছে। তবে আদালত জানায়, ভাঙার নির্দেশে এমন কোনও কারণ উল্লেখ ছিল না এবং পরে হলফনামায় নতুন যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে।
ক্ষতিপূরণের দাবি নিয়ে হাই কোর্ট জানিয়েছে, সে বিষয়ে উপযুক্ত আইনি ফোরামের দ্বারস্থ হতে পারবেন মামলাকারী। তবে ফ্ল্যাট ভাঙার ঘটনায় পুরসভার ভূমিকা নিয়ে আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পুনর্নির্মাণের নির্দেশ প্রশাসনিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

