Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
সারোগেসি আবেদনে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত যাচাই করতে পারেন না ম্যাজিস্ট্রেট, পর্যবেক্ষণ হাইকোর্টের

সারোগেসি আবেদনে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত যাচাই করতে পারেন না ম্যাজিস্ট্রেট, পর্যবেক্ষণ হাইকোর্টের

সারোগেসি পদ্ধতির (Surrogacy Process) মাধ্যমে সন্তানসুখ পেতে চেয়েছিলেন দম্পতি। সেই মতো আবেদন করেছিলেন, কিন্তু আবেদনকারী বাবার বয়স নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ম্যাজিস্ট্রেট (Magistrate) আবেদন বাতিল করে দেন। কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দৃষ্টি আকর্ষণ করেন দম্পতি। শুনানিতে বড় পর্যবেক্ষণ আদালতের।

বিচারপতি কৌশিক চন্দ (Justice Kaushik Chanda) স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, সারোগেসি আইনে ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা সীমিত। আবেদনকারীর বয়স বা স্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্য যাচাই করা তাঁর কাজ নয়।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিন্দা সৌমেন সেন এবং তাঁর স্ত্রী সারোগেসির মাধ্যমে সন্তান নিতে চেয়ে আলিপুর আদালতের অতিরিক্ত জেলা বিচারকের কাছে আবেদন করেছিলেন। দম্পতির মেডিক্যাল সার্টিফিকেট দেখার পর দ্রুত আবেদন নাকচ করে দেন ম্যাজিস্ট্রেট। কারণ হিসেবে তিনি জানান, এক) আবেদনকারী দম্পতির তরফ থেকে জমা দেওয়া শংসাপত্রগুলির বৈধতার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। দুই) সারোগেট মায়ের মানসিক সুস্থতার সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য নেই পাশাপাশি আবেদনকারী বাবার বয়স ৫৫ পেরিয়ে গেছে। প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাব রয়েছে। অতএব তাঁরা সারোগেসি পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারবেন না বলে জানিয়ে দেন ম্যাজিস্ট্রেট। এরপরই দম্পতি সোজা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। সবকিছু শোনার পর বিচারপতি চন্দ এজলাসে বলেন, ম্যাজিস্ট্রেট কেবল নিশ্চিত করবেন সারোগেট মা স্বেচ্ছায় এই পদ্ধতিতে সম্মতি দিয়েছেন কি না, তাঁকে প্রতারণা করা হয়েছে কি না। বয়স বা স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের ক্ষমতা ম্যাজিস্ট্রেটের নেই। তিনি আইনি দিকগুলি বিচার করবেন, অন্য কিছু নয়।

দম্পতির আইনজীবী আদালতে জানান সারোগেসির নিয়ম মেনেই প্রথমে জেলা মেডিক্যাল বোর্ড থেকে শংসাপত্র সংগ্রহ করেছিলেন তাঁদের মক্কেল। ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অনুমতি নিতে গেলে তিনি বয়স আর স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যার কথা বলে আবেদন খারিজ করে দেন। আইনি অনুমতির জন্য দু'বছর ধরে ঘুরতে হচ্ছে। মামলার কারণেই শংসাপত্রের বৈধতার মেয়াদ ফুরিয়েছে বলেও জানিয়েছেন আইনজীবী। এরপর বিচারপতি খুব স্পষ্ট ভাষায় ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা মনে করিয়ে দেন। বলেন আইনি পরিসরে দেখা দরকার, ওই দম্পত্তি সন্তান জন্মের পর তার দায়িত্ব নেবেন কি না। নিশ্চিত করতে হবে যে তাঁরা শিশুকে পরিত্যাগ করবেন না এবং তাকে প্রতিপালনের প্রয়োজনীয় আর্থিক ও সামাজিক সামর্থ্য তাঁদের রয়েছে। অন্য কিছু ম্যাজিস্ট্রেটের বিবেচনা করার প্রয়োজন নেই। হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে নতুন করে দম্পতির আবেদন বিবেচনা করে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাবেন ম্যাজিস্ট্রেট।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Biswa Bangla Sangbad