সৌদি আরবের (Saudi Arabia) বিমানবন্দরে (Airport) ফের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা (Attack)। স্থানীয় সময় বুধবার রাতে দাম্মাম শহরের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় হাউথিরা। আর তাতেই মৃত্যু হল এক ভারতীয় (Indian Death)-সহ দু'জনের। আহত (Injured) হয়েছেন অন্তত আটজন।
তাঁদের মধ্যে দু’জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। বৃহস্পতিবার এই খবর জানিয়েছে, সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। হামলায় বিমানবন্দরের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাময়িকভাবে ব্যাহত হয় বিমান পরিষেবাও।
মাত্র দু’টি চামচেই ছয় রকম মাপ! অভিনব ভাবনায় আমেরিকায় বড় অঙ্কের লগ্নি ভারতীয়ের
সূত্রের খবর, বুধবার গভীর রাতে বিমানবন্দরটিতে হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর বিমানবন্দরের একাংশে আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল বাহিনী। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। নিরাপত্তার কারণে বিমানবন্দরে আসা একাধিক বিমানকে অন্যত্র পাঠিয়ে দেওয়া হয়। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন এক জন সৌদি আরবের নাগরিক এবং অন্য জন ভারতীয় নাগরিক। সেইসঙ্গে রিয়াধের ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে দু’জন ভারতীয় রয়েছেন। ঘটনার বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ করছে দূতাবাস। পাশাপাশি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তবে এই হামলার পিছনে কারা রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাথমিকভাবে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হাউথি বিদ্রোহীদের দিকে সন্দেহের আঙুল উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের তেল শোধনাগার এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোয় একাধিক হামলার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। তাই মনে করা হচ্ছে কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার সঙ্গে হুথিদেরই যোগ রয়েছে।
এদিকে, সৌদি আরবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় বুধবার মার্কিন বিদেশ মন্ত্রক সে দেশে থাকা মার্কিন দূতাবাসের অপ্রয়োজনীয় কর্মী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। মার্কিন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র টমি পিগট জানিয়েছেন, হুথিদের হামলায় বিমানবন্দর-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। সাধারণ মানুষের জীবনও বিপদের মুখে পড়ছে। সেইজন্য দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুসারে, চলতি মাসেই সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরগুলিতে হামলার ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ২২ জনের। ক্রমাগত হামলার জেরে সৌদি আরবের বিমান চলাচল ও জ্বালানি পরিবহণ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহে প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

