Dailyhunt
আঁশফল বা কাঠ লিচুর পুষ্টিমান ও ঔষধিগুণ

আঁশফল বা কাঠ লিচুর পুষ্টিমান ও ঔষধিগুণ

আঁশফল বা কাঠ লিচু আমাদের দেশের স্থানীয় ফল হলেও গুণগতমান তেমন ভালো নয়। সম্প্রতি আঁশফল বেশ কিছু উন্নতমানের জাত প্রবর্তনের মাধ্যমে বিস্তার লাভ করেছে। আঁশফল লিচু পরিবারের একটি সদস্য। ফলের উপরিভাগ মসৃণ, ফলের রঙ বাদামি, আকার গোল এবং লিচুর চেয়ে অনেক ছোট হলেও ফলের শাঁস অবিকল লিচুর মতো এবং ফল খেতে প্রায় লিচুর মতো বা লিচুর চেয়ে বেশি মিষ্টি। আঁশফলে প্রচুর পরিমাণে শর্করা ও ভিটামিন 'সি' থাকে। এ ফলের শাঁস সাদা, কচকচে। আঁশফলের বীজ গোলাকার চকচকে কালো এবং শাঁস বীজকে আবৃত করে রাখে এবং সহজেই বীজ থেকে আলাদা করা যায়। সাধারণত আগস্ট মাসের শেষার্ধ থেকে সেপ্টেম্বরের প্রথমার্ধ পর্যন্ত আঁশফল আহরণ করা হয়। ফলে দীর্ঘদিন ধরে লিচুর স্বাদ গ্রহণ ও ফলের মৌসুম দীর্ঘায়িত করতে আঁশফল বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে।

আঁশফলের বৈজ্ঞানিক নাম Euphoria longana। সম্প্রতি আঁশফল, রাম্বুতান ফল দুটি বাংলাদেশে সাফল্যজনকভাবে প্রবর্তন করা সম্ভব হয়েছে। পুষ্টিমান ও ঔষধিগুণ আঁশফলে বিভিন্ন খনিজ উপাদান, শর্করা ও ভিটামিন সি এর প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। প্রতি ১০০ গ্রাম ভক্ষণযোগ্য অংশে ৭২ ভাগ পানি, ১০৯ কিলোক্যালোরি শক্তি, ৮.০ মিগ্রা.

ভিটামিন সি, ২৮০ আইইউ ভিটামিন এ, ২.০ মি.গ্রা. ক্যালসিয়াম, ৬.০ মি.গ্রা. ফসফরাস, ১.০ গ্রাম প্রোটিন ও ০.৫ গ্রাম ফ্যাট বিদ্যমান। আঁশফলের শুকানো শাঁস ভেষজ ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

যেমন- এটি পাকস্থলীর প্রদাহে, অনিদ্রা দূর করতে ও বিষের প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর পাতা অ্যালার্জি, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস ও কার্ডিওভাসকুলার রোগ নিরাময়ের জন্য ব্যবহার করা যায়। এই ফল উদারাময় নিবারক ও কৃমিনাশকে দারুণ কার্যকর। অনেকে এই ফলকে বলকারক হিসেবে মনে করে।

বাংলাদেশে বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলে এ গাছ দেখা যায়। গাছ ৮ থেকে ১০ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। এ গাছের ঠান্ডা সহ্য করার ক্ষমতা কম। চাষের জন্য বিশেষ কোনো মাটির প্রয়োজন না হলেও দো-আঁশ মাটিতে এটি ভালো জন্মে। সাধারণত এপ্রিল-মে মাসে বীজ সংগ্রহ করতে হয়।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Breaking Gram