Dailyhunt
সুপ্রিম কোর্টের নয় বিচারপতির বেঞ্চে সাবারিমালা মন্দির প্রবেশ মামলা পুনরুজ্জীবিত: ধর্ম, লিঙ্গ সমতা ও সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে বিতর্ক নতুন করে শুরু।

সুপ্রিম কোর্টের নয় বিচারপতির বেঞ্চে সাবারিমালা মন্দির প্রবেশ মামলা পুনরুজ্জীবিত: ধর্ম, লিঙ্গ সমতা ও সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে বিতর্ক নতুন করে শুরু।

**শবরীমালা বিতর্ক: ধর্ম বনাম মৌলিক অধিকার, সাংবিধানিক বেঞ্চে নতুন শুনানি**

ভারতের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এবং বিতর্কিত শবরীমালা মন্দির প্রবেশ ইস্যুটি আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। সুপ্রিম কোর্টের নয় সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ এই মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্নগুলি খতিয়ে দেখতে বসেছে।

এই শুনানি ভারতের বিচার বিভাগীয় ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত, কারণ আদালত ধর্ম, লিঙ্গ সমতা এবং মৌলিক অধিকারের অন্যতম সংবেদনশীল সংযোগস্থলকে পুনরায় পরীক্ষা করছে। যদিও এই শুনানি সরাসরি ২০১৮ সালের রায় পুনর্বিবেচনা করবে না, তবে এর লক্ষ্য হল বৃহত্তর আইনি নীতিগুলি নির্ধারণ করা যা কেবল এই মামলার জন্যই নয়, সারা দেশে ধর্মীয় অনুশীলন সম্পর্কিত অনুরূপ বিরোধের ক্ষেত্রেও পথ দেখাবে।

**বিশ্বাস বনাম মৌলিক অধিকারের সাংবিধানিক প্রশ্নগুলি মূল মঞ্চে**

প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে নয় সদস্যের বেঞ্চ শবরীমালা সংক্রান্ত পূর্ববর্তী রায়গুলি থেকে উদ্ভূত বৃহত্তর সাংবিধানিক বিষয়গুলির উপর আলোকপাত করছে। আদালত সংবিধানের ২৫ এবং ২৬ অনুচ্ছেদের অধীনে ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারের সাথে ১৪ অনুচ্ছেদের অধীনে সমতার অধিকারের মিথস্ক্রিয়া পরীক্ষা করছে। এই প্রশ্নগুলি কেবল মন্দিরেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং ধর্মীয় অনুশীলন এবং উপাসনালয়ে প্রবেশের সাথে সম্পর্কিত একাধিক মামলার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

এই বিতর্কটি শবরীমালা মন্দিরের ঐতিহ্যবাহী বিধিনিষেধ থেকে উদ্ভূত, যেখানে ঋতুমতী মহিলাদের প্রবেশে ঐতিহাসিকভাবে নিষেধাজ্ঞা ছিল, কারণ দেবতাকে ব্রহ্মচারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০১৮ সালের একটি ঐতিহাসিক রায়ে, সুপ্রিম কোর্ট সকল বয়সের মহিলাদের মন্দিরে প্রবেশের অনুমতি দেয় এবং এই নিষেধাজ্ঞাটিকে অসাংবিধানিক এবং সমতার অধিকারের লঙ্ঘন বলে ঘোষণা করে।

তবে, এই রায় দেশব্যাপী বিক্ষোভের জন্ম দেয় এবং অসংখ্য পুনর্বিবেচনার আবেদন জমা পড়ে, যার ফলে আদালত বিষয়টি একটি বৃহত্তর বেঞ্চে রেফার করতে বাধ্য হয়। বর্তমান শুনানি সরাসরি পূর্ববর্তী রায় পুনর্বিবেচনা করার উদ্দেশ্যে নয়, বরং ধর্মীয় বিষয়ে বিচারিক পর্যালোচনার পরিধি এবং অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলনের সংজ্ঞা নির্ধারণের মতো মৌলিক আইনি প্রশ্নগুলির সমাধান করার জন্য।

শুনানির সময়, আদালত ধর্মীয় রীতিনীতিকে চ্যালেঞ্জ করার অধিকার কার আছে সে সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। আদালত বিতর্ক করেছে যে কোনও নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীর দ্বারা অনুসরণ করা ঐতিহ্যকে অ-ভক্তদের চ্যালেঞ্জ করার অনুমতি দেওয়া উচিত কিনা, যা ব্যক্তিগত অধিকার এবং সম্মিলিত ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার জটিলতাকে তুলে ধরেছে।

**লিঙ্গ সমতা এবং ধর্মীয় স্বায়ত্তশাসনের উপর তীব্র বিতর্ক শুনানিতে প্রভাব ফেলছে**

এই শুনানি লিঙ্গ সমতা এবং ধর্মীয় বিষয়ে বিচার বিভাগের ভূমিকা নিয়ে একটি বৃহত্তর জাতীয় বিতর্ককে পুনরুজ্জীবিত করেছে।
ধর্মের নামে মহিলাদের বর্জনের যৌক্তিকতা নিয়ে আদালতের কড়া প্রশ্ন

**কলকাতা:** ধর্মীয় রীতিনীতির আড়ালে মহিলাদের বাদ দেওয়ার মতো প্রথাগুলি আইনত বৈধ কিনা, তা নিয়ে বিচারব্যবস্থা বর্তমানে কড়া পর্যবেক্ষণে রেখেছে। কিছু বিচারপতি মাসিক চলাকালীন মহিলাদের “অপবিত্র” ভাবার ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। তাঁদের মতে, এই ধরনের ধারণা সংবিধানের মর্যাদা ও সাম্যের নীতির পরিপন্থী হতে পারে।

অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকার তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। তাদের যুক্তি, ধর্মীয় ঐতিহ্যের ক্ষেত্রে আদালতের উচিত সতর্ক থাকা। সরকার মনে করে, বিচারপতিরা আইনের বিশেষজ্ঞ, ধর্মের নন। তাই, গভীর বিশ্বাসে প্রোথিত বিষয়গুলিতে সহজে বিচারিক হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়।

শুনানিতে উত্থাপিত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি হল ভক্তদের অধিকার। সরকার প্রস্তাব দিয়েছে যে মন্দিরে প্রবেশের বিষয়টি ভক্তদের বিশ্বাসের নিরিখে বিচার করা উচিত, যারা কিছু বিধিনিষেধকে তাদের ধর্মীয় আচারের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মনে করেন। এই দৃষ্টিভঙ্গি বিতর্কে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে, কারণ এটি ব্যক্তিগত স্বাধীনতার পাশাপাশি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সম্মিলিত অধিকারকেও সামনে এনেছে।

নয় সদস্যের এই বেঞ্চে বিভিন্ন পটভূমি থেকে আসা বিচারপতিরা রয়েছেন, যার মধ্যে একজন মহিলা বিচারপতিও আছেন। এটি আদালতের এই বিষয়টি বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার প্রচেষ্টাকে প্রতীকায়িত করে। এই শুনানির ফলাফল সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা, লিঙ্গ অধিকার এবং সাংবিধানিক নৈতিকতার আইনি ব্যাখ্যাকে প্রভাবিত করতে পারে।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Cliq India Bangla