এশিয়ান গেমস ২০২৬-এর কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। মঙ্গলবার টোকিওতে অনুষ্ঠিত হল বিশেষ মশাল প্রজ্বলন অনুষ্ঠান। জাপানি স্প্রিন্টার ইয়োশিহিদে কিরিউ এই অনুষ্ঠানে মশাল প্রজ্বলন করেন।
২০তম এশিয়ান গেমস অনুষ্ঠিত হবে জাপানের আইচি-নাগোয়া অঞ্চলে। প্রতিযোগিতা শুরু হবে ১৯ সেপ্টেম্বর। চলবে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত।
এবারের গেমসে প্রায় ১৫ হাজার প্রতিযোগী এবং কর্মকর্তার উপস্থিতি প্রত্যাশিত।
অলিম্পিকের পর বিশ্বের অন্যতম বড় বহুক্রীড়া প্রতিযোগিতা হিসেবে এশিয়ান গেমসের গুরুত্ব যথেষ্ট। এবারও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সেরা ক্রীড়াবিদরা অংশ নেবেন।
টোকিওর ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে মশাল প্রজ্বলন করেন ইয়োশিহিদে কিরিউ। এই স্টেডিয়ামের সঙ্গে জাপানের ক্রীড়া ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে।
২০২১ সালে এখানেই টোকিও অলিম্পিকের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত তৈরি হয়েছিল। করোনা মহামারির কারণে সেই অলিম্পিক নির্ধারিত সময়ের এক বছর পরে অনুষ্ঠিত হয়। অধিকাংশ প্রতিযোগিতাই দর্শকশূন্য পরিবেশে হয়েছিল।
কিরিউ মনে করেন, এবার এশিয়ান গেমসে দর্শকদের উপস্থিতি ক্রীড়াবিদদের জন্য বিশেষ শক্তি হয়ে উঠবে। তাঁর মতে, গ্যালারির উল্লাস খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।
সরাসরি মাঠে বসে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা দেখার অভিজ্ঞতাও আলাদা। টেলিভিশনের পর্দায় খেলা দেখার সঙ্গে স্টেডিয়ামে বসে সেই মুহূর্ত অনুভব করার কোনও তুলনা নেই।
এশিয়ান গেমসের মশাল প্রজ্বলনের কর্মসূচি শুধু টোকিওতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। ১৯৫৮ সালে এশিয়ান গেমসের আয়োজন করেছিল টোকিও। সেই ঐতিহ্যের কথা মাথায় রেখেই রাজধানীতে এই বিশেষ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এরপর বৃহস্পতিবার হিরোশিমায় আরও একটি মশাল প্রজ্বলন অনুষ্ঠান হবে। ১৯৯৪ সালে এশিয়ান গেমসের আয়োজক ছিল হিরোশিমা।
এরপর শনিবার নাগোয়ায় দুই শিখা একত্রিত করা হবে। সেখান থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে এশিয়ান গেমসের মশাল দৌড়।
এই প্রতীকী কর্মসূচির মাধ্যমে জাপানের ক্রীড়া ঐতিহ্য এবং এবারের আয়োজনকে একসূত্রে বাঁধার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এবারের এশিয়ান গেমসে একাধিক তরুণ প্রতিভার দিকে নজর থাকবে। ফিলিপাইনের টেনিস তারকা আলেকজান্দ্রা ইয়ালার নাম ইতিমধ্যেই আলোচনায় রয়েছে।
ভারতের ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর থাকবে ১৫ বছর বয়সি বৈভব সূর্যবংশীর দিকে। তরুণ এই ক্রিকেটারকে ঘিরে ইতিমধ্যেই ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
চীনের ১৩ বছর বয়সি সাঁতারু ইউ জিদিও থাকবেন প্রতিযোগিতার অন্যতম আকর্ষণ। এত কম বয়সে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি বিশেষ নজর কাড়তে চলেছে।
এবারের গেমসে ক্রীড়াবিদদের থাকার ব্যবস্থাতেও থাকছে অভিনবত্ব। বিভিন্ন ধরনের আবাসনের পাশাপাশি একটি প্রমোদতরীকেও ব্যবহার করা হবে। জাপানের টাইফুন মরশুমের কথা মাথায় রেখেই সেটিকে নোঙর করে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে এশিয়ান গেমস ২০২৬ ঘিরে জাপানে ইতিমধ্যেই উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। টোকিওর মশাল প্রজ্বলনের পর এখন নজর হিরোশিমা এবং নাগোয়ার দিকে। শনিবার দুই শিখা একত্রিত হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে মশাল দৌড়।
১৯ সেপ্টেম্বর গেমস শুরু হলে এশিয়ার সেরা ক্রীড়াবিদদের লড়াই দেখার অপেক্ষায় থাকবে গোটা মহাদেশ।

