KMC Office Election Commission Takeover
ক্লাউড টিভি ডেস্ক | কলকাতা : বিধানসভা ভোটের আগে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করতে এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। কলকাতা পুরসভা (KMC)-র একটি দফতরকে সরাসরি নির্বাচনী কাজে ব্যবহার করার জন্য নিজেদের অধীনে নিচ্ছে কমিশন।
সূত্রের খবর, উত্তর কলকাতার একটি পুরসভার দফতরকে নির্বাচনী আধিকারিকের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হবে (KMC Office Election Commission Takeover) , যেখানে ভোট সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ পরিচালিত হবে।
এই পদক্ষেপকে ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ, সাধারণত স্থানীয় প্রশাসনের অধীনস্থ দফতরগুলিই ভোটের কাজে ব্যবহার করা হলেও, সরাসরি নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া-এমন সিদ্ধান্ত বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। কমিশনের যুক্তি, ভোটের আগে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুবিধার জন্য এই পদক্ষেপ জরুরি।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন ইতিমধ্যেই ঘোষণা হয়েছে এবং ২৩ ও ২৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ হবে। এই পরিস্থিতিতে ভোট পরিচালনার জন্য বিভিন্ন স্তরে প্রশাসনিক প্রস্তুতি জোরদার করা হচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে কমিশন বিভিন্ন দফতর, আধিকারিক এবং অবকাঠামোর উপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ বাড়াচ্ছে।
সূত্রের মতে, উত্তর কলকাতার এই KMC দফতরটি নির্বাচনী রিটার্নিং অফিসারের অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হবে। এখান থেকেই মনোনয়ন গ্রহণ, যাচাই, প্রার্থী সংক্রান্ত নথি প্রক্রিয়াকরণ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কাজ সম্পন্ন হবে। ফলে এই অফিস কার্যত ভোট পরিচালনার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠবে।
এদিকে, নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও সামনে আসতে শুরু করেছে। শাসকদলের একাংশ মনে করছে, স্থানীয় প্রশাসনের উপর আস্থা না থাকার কারণেই কমিশন এই ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। অন্যদিকে বিরোধীদের মতে, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কমিশনের এই সিদ্ধান্ত যথার্থ।
প্রসঙ্গত, ভোট ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে একাধিক প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। শীর্ষ আমলাদের বদলি, পুলিশ আধিকারিকদের সরানো, এমনকি বিভিন্ন ঘটনায় সাসপেনশন-সব মিলিয়ে কমিশনের সক্রিয়তা নজরে পড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারাবাহিকতার মধ্যেই KMC অফিস দখলে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে দেখতে হবে।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে কমিশন মূলত একটি বার্তা দিতে চাইছে-ভোট পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনওরকম রাজনৈতিক প্রভাব বা প্রশাসনিক পক্ষপাত যেন না থাকে। একই সঙ্গে দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ কাঠামো গড়ে তুলছে কমিশন।
সব মিলিয়ে, কলকাতা পুরসভার দফতরকে নির্বাচনী কাজে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়-এটি ভোটের আগে ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এখন দেখার, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবে ভোট পরিচালনায় কতটা প্রভাব ফেলে এবং রাজনৈতিক বিতর্ক কতটা তীব্র হয়।
টলিপাড়ায় আতঙ্ক! নিখোঁজ পরিচালক উৎসব মুখোপাধ্যায়-২ দিনেও মেলেনি খোঁজ, দুশ্চিন্তায় পরিবার
ভবানীপুর কাণ্ডে কড়া পদক্ষেপ, চার কলকাতা পুলিশ অফিসারকে সাসপেন্ড করল নির্বাচন কমিশন

