ক্লাউড টিভি ডেস্ক: Nico Paz - নামটা এখনই মনে রাখুন। কারণ আগামী দিনের আর্জেন্টিনা ফুটবলের অন্যতম বড় ভরসা হিসেবেই উঠে আসছেন এই তরুণ মিডফিল্ডার। বাঁ-পায়ের নিখুঁত ড্রিবলিং, দুর্দান্ত ভিশন এবং সৃজনশীল পাসিংয়ের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই ইউরোপীয় ফুটবলে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন তিনি। ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে এই তরুণ তারকা (Nico Paz Argentina World Cup) বড় মঞ্চে কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন, এখন সেদিকেই নজর ফুটবল বিশ্বের।
মাত্র কুড়ির কোঠায় থাকা নিকোলাস পাজ মার্টিনেজ, যাকে সবাই নিকো পাজ নামেই চেনে, বর্তমানে খেলছেন ইতালির Como 1907 ক্লাবের হয়ে। মূলত আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে খেললেও ডান উইংয়েও সমান কার্যকর তিনি। তাঁর খেলার ধরনে একদিকে যেমন রয়েছে দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলের স্বাভাবিক ছন্দ, তেমনই ইউরোপীয় কৌশলগত পরিপক্বতার ছাপও স্পষ্ট।
নিকো পাজের ফুটবল যাত্রা শুরু হয়েছিল স্পেনে। রিয়াল মাদ্রিদের বিখ্যাত যুব একাডেমি 'লা ফ্যাব্রিকা'-তেই গড়ে ওঠেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই তাঁর টেকনিক্যাল স্কিল, বল কন্ট্রোল এবং ম্যাচের গতি বোঝার ক্ষমতা কোচদের নজর কাড়ে। ধীরে ধীরে বয়সভিত্তিক দল পেরিয়ে তিনি রিয়ালের রাডারে উঠে আসেন।
২০২৪ সালের গ্রীষ্মে তাঁকে ইতালির কোমো ১৯০৭ দলে পাঠানো হয় নিয়মিত খেলার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য। কিন্তু মাত্র দুই মরশুমের মধ্যেই তাঁর পারফরম্যান্স এতটাই নজর কাড়ে যে, Real Madrid CF ২০২৬ সালের গ্রীষ্মে ৯ মিলিয়ন ইউরোর বাই-ব্যাক ক্লজ ব্যবহার করে তাঁকে আবার দলে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়।
ইতালির সেরি এ-তে তাঁর পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ। গোল তৈরির দক্ষতা, দূরপাল্লার শট এবং ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা তাঁকে দ্রুত ইউরোপের অন্যতম প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর খেলার ধরনে অনেকটাই Lionel Messi-র ছায়া দেখা যায়, বিশেষ করে বাঁ-পায়ের ব্যবহার এবং ছোট জায়গায় বল নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে।
২০২৪ সালের অক্টোবরে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে তাঁর সিনিয়র অভিষেক হয়। সেই ম্যাচেই বোঝা যায়, আন্তর্জাতিক ফুটবলের চাপ সামলানোর মতো মানসিক দৃঢ়তা তাঁর রয়েছে। কোচিং স্টাফের একাংশ ইতিমধ্যেই তাঁকে "আর্জেন্টিনার ভবিষ্যৎ প্রকল্প" হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন।
তবে তাঁর যাত্রা সবসময় মসৃণ ছিল না। ২০২৬ সালের এপ্রিলে ইতালির লিগে একটি ম্যাচ চলাকালীন মাথায় গুরুতর চোট পান নিকো। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল। যদিও কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি সুস্থ হয়ে মাঠে ফেরেন এবং আবারও নিজের ছন্দ ফিরে পান। সেই প্রত্যাবর্তন আরও পরিণত করেছে তাঁকে।
বর্তমানে ট্রান্সফার মার্কেটে তাঁর মূল্য প্রায় ৬৫ মিলিয়ন ইউরো বলে ধরা হচ্ছে, যা তাঁর দ্রুত উত্থানেরই প্রমাণ। ইউরোপের একাধিক বড় ক্লাব ইতিমধ্যেই তাঁর উপর নজর রাখছে।
নিকো পাজের ফুটবল প্রতিভা যেন রক্তেই রয়েছে। তাঁর বাবা Pablo Paz-ও ছিলেন আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের ফুটবলার এবং ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। ফলে আন্তর্জাতিক ফুটবলের আবহ ছোটবেলা থেকেই তাঁর পরিচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগে নিকো পাজ হতে পারেন "এক্স-ফ্যাক্টর"। কারণ তিনি শুধু গোল করতে পারেন না, ম্যাচের গতি বদলে দেওয়ার মতো পাসও দিতে পারেন। মিডফিল্ড থেকে আক্রমণ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর সৃজনশীলতা প্রতিপক্ষের জন্য বড় সমস্যা হয়ে উঠতে পারে।
2026 FIFA World Cup-এ যখন আর্জেন্টিনা শিরোপা রক্ষার লড়াইয়ে নামবে, তখন নজর থাকবেই মেসিদের উত্তরসূরি প্রজন্মের দিকে। আর সেই তালিকায় সবচেয়ে উজ্জ্বল নামগুলির মধ্যে একটি নিঃসন্দেহে নিকো পাজ।

