Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
'চীনের অর্থনৈতিক বিস্ময়' এখন ঋণের দুঃস্বপ্ন? বাড়ছে উদ্বেগ

'চীনের অর্থনৈতিক বিস্ময়' এখন ঋণের দুঃস্বপ্ন? বাড়ছে উদ্বেগ

Cloud TV 2 days ago

রিন্দম নাথ : একসময় বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতির প্রতীক ছিল চীন। অবকাঠামো, শিল্প, রপ্তানি ও প্রযুক্তিতে অভাবনীয় উন্নতির মাধ্যমে গত তিন দশকে "Chinese Economic Miracle" শব্দবন্ধই বিশ্ব অর্থনীতির অভিধানে জায়গা করে নিয়েছিল। কিন্তু এখন সেই অর্থনৈতিক বিস্ময় ধীরে ধীরে ঋণের দুঃস্বপ্নে পরিণত (China Debt Crisis) হচ্ছে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন আন্তর্জাতিক অর্থনীতিবিদদের একাংশ।

বিশাল কর্পোরেট ঋণ, রিয়েল এস্টেট সংকট, স্থানীয় প্রশাসনের আর্থিক চাপ এবং দুর্বল ভোক্তা চাহিদা-সব মিলিয়ে চীনের অর্থনীতিকে ঘিরে উদ্বেগ দ্রুত বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের মূল কেন্দ্র হল "debt-driven growth model"। অর্থাৎ দীর্ঘদিন ধরে বিপুল ঋণ নিয়ে অবকাঠামো, রিয়েল এস্টেট ও শিল্প সম্প্রসারণের মাধ্যমে অর্থনীতিকে বাড়ানো হয়েছে। প্রথমদিকে এই মডেল অত্যন্ত সফল হলেও এখন তার চাপ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। International Monetary Fund (IMF)-এর তথ্য অনুযায়ী, চীনের মোট ঋণের পরিমাণ GDP-র ৩০০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে রিয়েল এস্টেট খাতে। Evergrande, Country Garden-সহ একাধিক বড় নির্মাণ সংস্থা আর্থিক সংকটে পড়েছে। বহু প্রকল্প মাঝপথে আটকে গিয়েছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ বাড়ির জন্য আগাম টাকা দিলেও এখনও ফ্ল্যাট হাতে পাননি। ফলে সাধারণ মানুষের আস্থাও কমতে শুরু করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, চীনের অর্থনীতির বড় অংশ রিয়েল এস্টেট নির্ভর হওয়ায় এই সংকট পুরো অর্থনৈতিক কাঠামোকেই নাড়িয়ে দিয়েছে।

এর পাশাপাশি চীনের স্থানীয় প্রশাসনগুলির আর্থিক পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। গত এক দশকে বিপুল ঋণ নিয়ে রাস্তা, সেতু, মেট্রো, শিল্পাঞ্চল ও আবাসন প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই সেই প্রকল্প থেকে প্রত্যাশিত আয় আসেনি। ফলে Local Government Financing Vehicles বা LGFV-গুলির উপর ঋণের চাপ দ্রুত বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ভবিষ্যতে বড় আর্থিক বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।

চীনের অর্থনীতিতে আরও একটি বড় সমস্যা হল দুর্বল ভোক্তা ব্যয়। করোনা পরবর্তী সময়ে অনেক দেশ দ্রুত ঘুরে দাঁড়ালেও চীনে সাধারণ মানুষের খরচ করার প্রবণতা তুলনামূলকভাবে কমে গিয়েছে। যুবকদের মধ্যে বেকারত্বও উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি ও রিয়েল এস্টেট খাতে চাকরির সুযোগ কমে যাওয়ায় মধ্যবিত্ত শ্রেণির উপর চাপ বাড়ছে।

আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিও চীনের অর্থনীতির উপর প্রভাব ফেলছে। আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধ, প্রযুক্তি রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা এবং supply chain diversification-এর কারণে বহু আন্তর্জাতিক সংস্থা এখন China Plus One strategy গ্রহণ করছে। অর্থাৎ শুধুমাত্র চীনের উপর নির্ভর না করে ভারত, ভিয়েতনাম, মেক্সিকো ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশে বিনিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে। ফলে বিশ্ব উৎপাদন ব্যবস্থায় চীনের একচেটিয়া প্রভাব কিছুটা কমছে।

তবে অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি। কারণ চীনের হাতে বিশাল বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার রয়েছে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতাও অত্যন্ত শক্তিশালী। Beijing ইতিমধ্যেই সুদের হার কমানো, রিয়েল এস্টেট খাতে সহায়তা এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থায় liquidity বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ নিয়েছে।

কিন্তু সমালোচকদের দাবি, শুধু স্বল্পমেয়াদি stimulus দিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। চীনের অর্থনৈতিক কাঠামোতে বড় সংস্কার প্রয়োজন। বিশেষ করে ঋণনির্ভর বৃদ্ধি থেকে সরে এসে ভোক্তা ব্যয়, innovation এবং private sector growth-এর উপর জোর দিতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে চীনের এই সংকট শুধু তাদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়। বিশ্ব বাণিজ্য, জ্বালানি বাজার, প্রযুক্তি শিল্প এবং উন্নয়নশীল দেশগুলির উপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। কারণ আফ্রিকা থেকে এশিয়া-বিশ্বের বহু দেশ চীনা বিনিয়োগ ও বাজারের উপর নির্ভরশীল।

সব মিলিয়ে, যে চীনকে একসময় "অর্থনৈতিক অলৌকিকতা" বলা হত, সেই দেশ এখন কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি। আগামী কয়েক বছরেই স্পষ্ট হবে-চীন কি এই ঋণের চাপ সামলে নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে, নাকি বিশ্বের সামনে আরও বড় অর্থনৈতিক সঙ্কট তৈরি হবে।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Cloud TV