Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
গাছ থেকে পড়ে হারিয়েছিলেন একটি হাত, আজ কমনওয়েলথ গেমসে সোনা! দিলীপ গাভিতের লড়াই কোটি ভারতীয়ের অনুপ্রেরণা

গাছ থেকে পড়ে হারিয়েছিলেন একটি হাত, আজ কমনওয়েলথ গেমসে সোনা! দিলীপ গাভিতের লড়াই কোটি ভারতীয়ের অনুপ্রেরণা

Cloud TV 1 week ago

শান্তি রায়চৌধুরী: জীবনে প্রতিকূলতা যত বড়ই হোক, অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে সাফল্যের শিখরে পৌঁছানো যায়। সেই সত্যিই আবার প্রমাণ করলেন মহারাষ্ট্রের প্যারা-অ্যাথলিট দিলীপ মহাদু গাভিত। মাত্র চার বছর বয়সে এক দুর্ঘটনায় ডান হাত হারিয়েছিলেন। সেই ছোট্ট ছেলেই আজ কমনওয়েলথ গেমসের মঞ্চে ভারতের জন্য ঐতিহাসিক স্বর্ণপদক জিতে গোটা দেশকে গর্বিত করেছেন।

বৃহস্পতিবার গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসের পুরুষদের ১০০ মিটার টি-৪৭ বিভাগে দিলীপ গাভিত দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে ১০.৭১ সেকেন্ডে ফিনিশ লাইন অতিক্রম করেন। শেষ ৩০ মিটারে তাঁর বিস্ফোরক গতি প্রতিদ্বন্দ্বীদের অনেক পিছনে ফেলে দেয়। শুধু স্বর্ণপদকই নয়, তিনি গড়েন গেমস রেকর্ড। পাশাপাশি, প্যারা-অ্যাথলেটিক্সে কমনওয়েলথ গেমসে স্বর্ণজয়ী প্রথম ভারতীয় পুরুষ ক্রীড়াবিদ হিসেবেও ইতিহাসের পাতায় নাম লেখান।

টি-৪৭ বিভাগে প্রতিযোগিতা করেন সেই সব প্যারা-অ্যাথলিট, যাঁদের এক পাশের হাত বা বাহুতে অক্ষমতা রয়েছে। এই শারীরিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তাঁরা বিশ্বের সেরাদের সঙ্গে সমানতালে লড়াই করেন।

কিন্তু দিলীপের সাফল্যের গল্প শুধুমাত্র একটি স্বর্ণপদকের গল্প নয়। এটি এক অসাধারণ সংগ্রামের কাহিনি।

মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলার কাছে তোরণ ডোঙ্গারি গ্রামের এক ক্ষুদ্র কৃষক পরিবারে জন্ম তাঁর। মাত্র চার বছর বয়সে একটি গাছ থেকে পড়ে গিয়ে কনুইয়ের নীচে ডান হাতটি গুরুতর জখম হয়। পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতা এবং সচেতনতার অভাবে তাঁকে প্রথমে হাসপাতালে না নিয়ে যাওয়া হয় এক আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকের কাছে। সময়মতো আধুনিক চিকিৎসা না পাওয়ায় ক্ষতস্থানে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের তাঁর ডান হাত কেটে ফেলতে হয়।

অনেকের জীবন সেখানেই থেমে যেতে পারত। কিন্তু দিলীপ গাভিতের ক্ষেত্রে সেটাই হয়ে ওঠে নতুন শুরুর অধ্যায়।

তিনি কখনও নিজেকে অন্যদের থেকে কম মনে করেননি। বরং স্বাভাবিক দৌড়বিদদের সঙ্গেই নিয়মিত অনুশীলন ও প্রতিযোগিতা করেছেন। নিজের সীমাবদ্ধতাকে শক্তিতে পরিণত করেছেন কঠোর পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাসে।

একটি স্থানীয় স্কুল প্রতিযোগিতায় তাঁর প্রতিভা প্রথম নজরে আসে কোচ বৈজনাথ দয়ানন্দ কালে-র। তিনিই শুধু কোচ নন, অভিভাবকের ভূমিকাও পালন করেন। দিলীপকে নাসিকে এনে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন এবং তাঁর সমস্ত খরচ বহনের দায়িত্ব নেন। সেই বিশ্বাসই আজ আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের জন্য সোনার ফসল এনে দিয়েছে।

স্বর্ণপদক জয়ের পর আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় দিলীপ বলেন,
"শুরুটা একটু ধীর ছিল। পরে আমি গতি বাড়াই। আগামীবার আরও ভালো করার চেষ্টা করব। সাধারণত আমি ৪০০ মিটার দৌড়াই। সেটাই আমার প্রধান ইভেন্ট। কিন্তু এখানে ১০০ মিটার দৌড়ে আমি খুব উপভোগ করেছি।"

এরপর তিনি নিজের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষের কথা স্মরণ করেন।

"আমি একটি ছোট গ্রাম থেকে এসেছি। আগে চাষের কাজ করতাম। আমার স্যার আমাকে দৌড়াতে দেখে নাসিকে প্রশিক্ষণের জন্য নিয়ে আসেন। তিনি বলেছিলেন, সমস্ত খরচ তিনিই বহন করবেন। আজ গুরু পূর্ণিমা। তাই এই স্বর্ণপদক আমি আমার গুরুকে উৎসর্গ করছি।"

গ্লাসগোতে দিলীপ গাভিতের এই সাফল্যের ফলে ভারতের পদক সংখ্যা আরও বেড়েছে। তবে পদকের সংখ্যার চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে তাঁর জীবনের গল্প। কারণ এই স্বর্ণপদক শুধু একজন অ্যাথলিটের জয় নয়; এটি অদম্য সাহস, অধ্যবসায় এবং একজন শিক্ষকের প্রতি শিষ্যের কৃতজ্ঞতার প্রতীক।

দিলীপের লক্ষ্য এখন আরও বড়। আগামী কমনওয়েলথ গেমস, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ এবং প্যারালিম্পিক্সে দেশের জন্য আরও পদক জয় করতে চান তিনি। তাঁর বিশ্বাস, কঠোর পরিশ্রমের কোনও বিকল্প নেই।

মহারাষ্ট্রের প্রত্যন্ত গ্রামের এক কৃষক পরিবারের ছেলে থেকে আন্তর্জাতিক মঞ্চের স্বর্ণজয়ী-দিলীপ গাভিতের এই যাত্রা আজ কোটি ভারতীয়, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম এবং ভিন্নভাবে সক্ষম ক্রীড়াবিদদের কাছে এক অনন্য অনুপ্রেরণার নাম।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Cloud TV