জুলাই মাসে ভারতের উৎপাদন ক্ষেত্রের বৃদ্ধির গতি কমেছে। HSBC India Manufacturing Purchasing Managers' Index (PMI) নেমে এসেছে ৫৩.৫-এ, যা ২০২১ সালের অগস্টের পর সর্বনিম্ন। তবে সূচকটি এখনও ৫০-এর উপরে থাকায় উৎপাদন ক্ষেত্র সংকোচনের বদলে সম্প্রসারণের পর্যায়েই রয়েছে।
HSBC-এর সমীক্ষা অনুযায়ী, জুলাই মাসে নতুন অর্ডার, উৎপাদন এবং কর্মসংস্থান-তিন ক্ষেত্রেই বৃদ্ধির গতি কমেছে।
বিশেষ করে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা কিছুটা দুর্বল হওয়ায় উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রভাব পড়েছে।
তবে রপ্তানির ক্ষেত্রে কিছুটা ইতিবাচক ছবি দেখা গিয়েছে। কানাডা, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, দক্ষিণ আফ্রিকা, থাইল্যান্ড-সহ একাধিক বাজার থেকে অর্ডার বাড়ায় রপ্তানি বৃদ্ধিতে সহায়তা মিলেছে।
জুলাই মাসে উৎপাদন বৃদ্ধির নিরিখে ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে জাপানের কারখানা উৎপাদন ১২ বছরের মধ্যে দ্রুততম হারে বেড়েছে বলে আন্তর্জাতিক সমীক্ষায় উঠে এসেছে।
অন্যদিকে, ইরান-সংক্রান্ত সংঘাত, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক চাহিদা কমে যাওয়ার প্রভাব বিশ্বের অধিকাংশ উৎপাদনশীল অর্থনীতিতেই পড়েছে।
ভারতের জন্য স্বস্তির খবর হল, PMI এখনও ৫০-এর অনেক উপরে রয়েছে। অর্থাৎ উৎপাদন খাত এখনও বাড়ছে।
চিনের সরকারি উৎপাদন সূচক ইতিমধ্যেই সংকোচনের ইঙ্গিত দিয়েছে। কয়েকটি এশীয় অর্থনীতিতেও উৎপাদন খাতে দুর্বলতা দেখা যাচ্ছে। সেই তুলনায় ভারতের শিল্প খাত এখনও স্থিতিশীল রয়েছে বলে অর্থনীতিবিদদের মত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক মাসে অভ্যন্তরীণ চাহিদা, রপ্তানি এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির উপরই নির্ভর করবে ভারতের উৎপাদন খাতের ভবিষ্যৎ গতি।

