Pakistan Mediator Iran US Ceasefire
ক্লাউড টিভি ডেস্ক | আন্তর্জাতিক : মধ্যপ্রাচ্যের জটিল যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝে একটি প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায়-কেন ইরান ও United States দু'পক্ষই ভরসা করল Pakistan-এর উপর? সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে ইসলামাবাদের ভূমিকা শুধু গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
বিশ্লেষণে উঠে আসছে, এই আস্থার পেছনে রয়েছে একাধিক কৌশলগত কারণ। প্রথমত, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান Asim Munir-এর ব্যক্তিগত কূটনৈতিক যোগাযোগ। রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁর মার্কিন প্রশাসন এবং ইরানের প্রতিরক্ষা মহলের সঙ্গে গভীর যোগাযোগ রয়েছে, যা দুই পক্ষের মধ্যে আস্থার সেতু তৈরি করতে সাহায্য করেছে।
দ্বিতীয়ত, গত এক বছরে পাকিস্তান-আমেরিকা সম্পর্কের উন্নতি। একসময় টানাপোড়েন থাকলেও, সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে সামরিক ও কৌশলগত সহযোগিতা বেড়েছে। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump প্রকাশ্যে আসিম মুনিরকে প্রশংসাও করেছেন বলে রিপোর্টে উল্লেখ।
তৃতীয়ত, পাকিস্তানের 'ব্যালান্সিং পজিশন'। একদিকে তাদের ইরানের সঙ্গে সীমান্ত ও ধর্মীয় সম্পর্ক রয়েছে, অন্যদিকে সৌদি আরব ও উপসাগরীয় দেশগুলির সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ। ফলে ইসলামাবাদ এমন একটি অবস্থানে রয়েছে, যেখানে তারা একাধিক পক্ষের সঙ্গে কথা বলতে পারে এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য থাকতে পারে।
পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর প্রধান আসিম মুনিরের হাতে আরও ক্ষমতা? সংবিধান সংশোধনে নতুন বিতর্ক
এই কূটনৈতিক ভারসাম্যই পাকিস্তানকে 'নিরপেক্ষ মধ্যস্থ' হিসেবে তুলে ধরেছে। শুধু তাই নয়, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পাকিস্তান সরাসরি কোনও পক্ষ নেয়নি-বরং শুরু থেকেই সংযম এবং আলোচনার পথের পক্ষে সওয়াল করেছে। এই অবস্থানও তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়িয়েছে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল পাকিস্তানের সক্রিয় কূটনৈতিক উদ্যোগ। ইসলামাবাদ শুধু প্রস্তাব দেয়নি, বরং আলোচনার জন্য নিজেদের দেশকে কেন্দ্র হিসেবেও তুলে ধরেছে। তথাকথিত 'Islamabad Accord'-এর মাধ্যমে তারা যুদ্ধবিরতির একটি কাঠামো তৈরি করে, যা শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষই আলোচনার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করে।
আন্তর্জাতিক মহলেও পাকিস্তানের এই ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে। একাধিক দেশ প্রকাশ্যে ইসলামাবাদের কূটনৈতিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে এবং এই চুক্তির পেছনে তাদের ভূমিকার কথা স্বীকার করেছে।
তবে সবটাই একমুখী নয়। কিছু রিপোর্টে আবার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, চীনের মতো দেশও পর্দার আড়ালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। অর্থাৎ, পাকিস্তান সামনে থাকলেও, বৃহত্তর কূটনৈতিক খেলায় আরও একাধিক শক্তি যুক্ত ছিল।
সব মিলিয়ে, পাকিস্তানের এই ভূমিকা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যে দেশকে একসময় আঞ্চলিক সংকটে সীমাবদ্ধ ভাবা হত, সেই দেশই এখন বৈশ্বিক সংঘাত নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থ হয়ে উঠছে।
এখন নজর
কারণ, ইরান-আমেরিকা সংঘাতে এই 'মধ্যস্থ পাকিস্তান'-ই এখন নতুন ভূরাজনৈতিক সমীকরণের কেন্দ্রবিন্দু।
১০ দফা শর্তে যুদ্ধবিরতি! ইউরেনিয়াম থেকে হরমুজ-ইরানের কঠিন দাবিতে চাপের মুখে আমেরিকা
ডেডলাইনের ৯০ মিনিট আগে চুক্তি! নেপথ্যে খামেনেই : ইরান-আমেরিকা যুদ্ধবিরতিতে নাটকীয় মোড়

