ক্লাউড টিভি ডেস্ক: আইপিএল ২০২৬ মরশুমে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটতে চলেছে কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR)। লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে দিল্লি ক্যাপিটালসের কাছে হেরে পয়েন্ট তালিকার সপ্তম স্থানে থেকে অভিযান শেষ করেছে কলকাতা। প্রত্যাশার তুলনায় অনেক নিচে শেষ করায় ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্তৃপক্ষ চরম অসন্তুষ্ট বলে জানা গিয়েছে।
আর সেই কারণেই আগামী মরশুমের আগে স্কোয়াড পুনর্গঠনের পরিকল্পনা (KKR Release List 2026) শুরু করেছে কেকেআর ম্যানেজমেন্ট।
সূত্রের খবর, অন্তত পাঁচজন ক্রিকেটারকে ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছে কলকাতা। সেই তালিকায় রয়েছেন দলের অধিনায়ক আজিঙ্কা রাহানে থেকে শুরু করে ক্যামেরুন গ্রিন, বৈভব অরোরা, মাথিশা পাথিরানা এবং রমনদীপ সিং।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে অধিনায়ক আজিঙ্কা রাহানেকে ঘিরে। অভিজ্ঞতার কারণে তাঁকে নেতৃত্বের দায়িত্ব দেওয়া হলেও গত দুই মরশুমে দলকে সাফল্যের পথে ফেরাতে পারেননি তিনি। ৩৭ বছর বয়সী এই ব্যাটারের নেতৃত্বে গত বছর অষ্টম এবং এবার সপ্তম স্থানে শেষ করেছে কলকাতা। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে বোলিং পরিবর্তন, ফিল্ডিং সেটআপ এবং কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়ে একাধিকবার সমালোচনার মুখে পড়েছেন রাহানে। ফলে তাঁর অধিনায়কত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।
দ্বিতীয় নামটি আরও চমকপ্রদ-অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার ক্যামেরুন গ্রিন। প্রায় ২৫ কোটি টাকার বিপুল অঙ্কে তাঁকে দলে নিয়েছিল কলকাতা। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্স সেই বিনিয়োগের ধারেকাছেও পৌঁছতে পারেনি। ১৪ ম্যাচে মাত্র ৩২২ রান করেছেন গ্রিন। বোলিংয়েও প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হন তিনি। চোটের কারণে প্রথম কয়েকটি ম্যাচে বল করতে পারেননি, আর পরে ১০ ম্যাচে মাত্র ৭টি উইকেট পান। এত বড় বিনিয়োগের তুলনায় তাঁর অবদান অত্যন্ত হতাশাজনক বলে মনে করছে টিম ম্যানেজমেন্ট।
পেস বিভাগেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। বৈভব অরোরাকে ঘিরে শুরুতে অনেক আশা ছিল। হর্ষিত রানা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বোলারদের অনুপস্থিতিতে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ধারাবাহিকভাবে রান খরচ করে এবং উইকেট তুলতে ব্যর্থ হয়ে দলের ভরসা হারিয়েছেন তিনি। ফলে আগামী মরশুমে তাঁকে রাখা হবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
শ্রীলঙ্কার তারকা পেসার মাথিশা পাথিরানাকে নিয়েও হতাশ কলকাতা। তাঁকে দলে নেওয়ার জন্য বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করা হলেও পুরো মরশুমজুড়ে ফিটনেস সমস্যায় ভুগেছেন। টুর্নামেন্টের প্রথম ভাগে মাঠে নামতেই পারেননি। পরে দলে যোগ দিলেও চোট কাটিয়ে ধারাবাহিকভাবে খেলতে পারেননি। গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে ম্যাচে মাত্র ১.২ ওভার বল করার পর আবার চোট পেয়ে ছিটকে যান। এত ব্যয়বহুল ক্রিকেটারকে বারবার চোটের কারণে না পাওয়ায় নতুন করে ভাবতে বাধ্য হচ্ছে কেকেআর।
তালিকার শেষ নাম রমনদীপ সিং। তাঁকে রিঙ্কু সিংয়ের সঙ্গে দলের ফিনিশার হিসেবে ভাবা হয়েছিল। কিন্তু প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হন তিনি। পুরো টুর্নামেন্টে তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল মাত্র ১২০.৫৮, যা আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের মানদণ্ডে যথেষ্ট নয়। ম্যাচের শেষদিকে দ্রুত রান তোলার যে দায়িত্ব তাঁর উপর ছিল, তা পালন করতে পারেননি রমনদীপ।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, KKR-এর সমস্যার মূল কারণ ছিল দল নির্বাচনে ভারসাম্যের অভাব, ব্যর্থ বিদেশি ক্রিকেটার এবং নেতৃত্বের দুর্বলতা। আন্দ্রে রাসেল, সুনীল নারিন ও রিঙ্কু সিংয়ের মতো কয়েকজন ক্রিকেটার ছাড়া অধিকাংশ খেলোয়াড়ই নিজেদের সেরাটা দিতে পারেননি।
ফলে আগামী আইপিএলের আগে বড়সড় পরিবর্তন দেখতে পাওয়া যেতে পারে কলকাতা নাইট রাইডার্সে। নতুন অধিনায়ক, নতুন বিদেশি তারকা এবং তরুণ ক্রিকেটারদের উপর ভরসা করে আবারও চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখছে শাহরুখ খানের ফ্র্যাঞ্চাইজি।

