ক্যানসার প্রতিরোধের ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনও একটি অভ্যাস বদলালেই ক্যানসার পুরোপুরি ঠেকানো যায় না। বিশেষজ্ঞদের মতে, একাধিক ঝুঁকিপূর্ণ অভ্যাস কমানো জরুরি।
এই প্রতিবেদনে এমন পাঁচটি দৈনন্দিন অভ্যাসের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ধূমপান, ঘুমের অনিয়ম, খাওয়ার সময়, প্লাস্টিকের ব্যবহার এবং অ্যালকোহল।
তবে সবগুলির পক্ষে বৈজ্ঞানিক প্রমাণের মাত্রা সমান নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, তামাক ও অ্যালকোহল ক্যানসারের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য ঝুঁকি। নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর ওজন এবং সুষম খাবারও গুরুত্বপূর্ণ।
ক্যানসারের ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে প্রথমেই আসে তামাক বর্জন। সিগারেটের ধোঁয়ায় বহু ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকে। এর মধ্যে বেশ কিছু উপাদান ক্যানসার সৃষ্টিকারী হিসেবে পরিচিত।
শুধু ধূমপান নয়, পরোক্ষ ধূমপানও শরীরের জন্য ক্ষতিকর। তাই দিনে সিগারেটের সংখ্যা কমানোর বদলে পুরোপুরি ছাড়ার চেষ্টা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
WHO জানিয়েছে, তামাক ক্যানসারের অন্যতম প্রধান প্রতিরোধযোগ্য কারণ।
২০২৬ সালের WHO-IARC বিশ্লেষণেও তামাককে প্রতিরোধযোগ্য ক্যানসারের সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এই প্রতিবেদনে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর কথা বলা হয়েছে। রাতে ঘর অন্ধকার রাখার কথাও বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে শরীরের জৈবিক ঘড়ি এবং মেলাটোনিনের প্রসঙ্গ রয়েছে।
তবে নির্দিষ্ট ভাবে রাত ১১টার মধ্যে ঘুমোলেই ক্যানসারের ঝুঁকি কমবে, এমন সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠিত নয়। তাই নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম এবং স্থির ঘুমের সময়কে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস হিসেবে দেখা উচিত। ক্যানসার প্রতিরোধের নিশ্চিত পদ্ধতি হিসেবে নির্দিষ্ট শোওয়ার সময়কে দেখার সুযোগ নেই।
খাবারের ক্ষেত্রেও প্রতিবেদনে দীর্ঘ সময় পেট খালি রাখার কথা বলা হয়েছে।
এটি মূলত সময়-নির্ধারিত খাওয়ার বা time-restricted eating-এর ধারণার সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে ১০, ১২ বা ১৬ ঘণ্টা না খেলেই ক্যানসার প্রতিরোধ হবে, এমন শক্ত প্রমাণ নেই।
বরং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সুষম খাবার, স্বাস্থ্যকর ওজন এবং নিয়মিত শরীরচর্চার উপর বেশি জোর দেওয়া হয়।
প্রতিবেদনে গরম খাবার প্লাস্টিকের পাত্রে না রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে খাবার রাখার উপযোগী নয় এমন প্লাস্টিক এড়িয়ে চলা ভাল। গরম খাবারের জন্য কাচ বা স্টিলের পাত্র ব্যবহার করা তুলনামূলক নিরাপদ বিকল্প হতে পারে।
তবে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমালেই নির্দিষ্ট কয়েক ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি কমবে, এমন সরাসরি সিদ্ধান্ত এখনও করা যায় না। তাই এই বিষয়টিকে সতর্কতামূলক অভ্যাস হিসেবে দেখা উচিত।
অন্যদিকে অ্যালকোহলের সঙ্গে ক্যানসারের সম্পর্কের প্রমাণ যথেষ্ট শক্তিশালী। WHO জানিয়েছে, অ্যালকোহল একাধিক ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
American Cancer Society-ও বলছে, ক্যানসার প্রতিরোধের ক্ষেত্রে অ্যালকোহল না খাওয়াই সবচেয়ে ভাল। যাঁরা পান করেন, তাঁদের পরিমাণ সীমিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সুতরাং ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে শুধু পাঁচটি অভ্যাসের উপর নির্ভর করলে হবে না।
তামাক বর্জন, অ্যালকোহল কমানো বা এড়ানো, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা জরুরি।
পাশাপাশি ফল, সব্জি, গোটা শস্য ও ডালজাতীয় খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা দরকার।
প্রয়োজনে বয়স ও ঝুঁকি অনুযায়ী ক্যানসার স্ক্রিনিংও করা উচিত। কোন পরীক্ষা কখন প্রয়োজন, তা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঠিক করা ভাল।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, জীবনযাত্রায় ছোট ছোট পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে কোনও অভ্যাসই ক্যানসার প্রতিরোধের শতভাগ নিশ্চয়তা দেয় না।

