ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম সফল ক্লাব লিভারপুলের মালিকানায় এবার যুক্ত হলেন বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যবসায়ী জেফ বেজোস। আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা বেজোস যোগ দিচ্ছেন অমিত ভাটিয়ার নেতৃত্বাধীন একটি বিনিয়োগকারী জোটে। এই জোট লিভারপুলের প্রায় ৩০ শতাংশ শেয়ার অধিগ্রহণের চুক্তি করেছে।
ব্রিটিশ-ভারতীয় ব্যবসায়ী অমিত ভাটিয়া এই বিনিয়োগকারী গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
তিনি ভারতের ধনকুবের লক্ষ্মী মিত্তালের জামাতা। ফেসবুকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এদুয়ার্দো সাভেরিনও এই জোটের অংশ।
আগে এই চুক্তি নিয়ে কয়েক মাস ধরে আলোচনা চলছিল। তবে এখন আর শুধু আলোচনা নয়। ১৪ আগস্ট চুক্তির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে এসেছে।
চুক্তি অনুযায়ী, লিভারপুলের প্রায় ৩০ শতাংশ অংশীদারি বিক্রি হয়েছে। এই অংশীদারির মূল্য প্রায় ১.৬৫ বিলিয়ন পাউন্ড। চুক্তির ভিত্তিতে লিভারপুলের মোট মূল্যায়ন দাঁড়াচ্ছে ৫.২ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি।
তবে এই চুক্তির ফলে লিভারপুলের নিয়ন্ত্রণ হাতবদল হচ্ছে না। ক্লাবের নিয়ন্ত্রণকারী মালিক হিসেবে থাকছে ফেনওয়ে স্পোর্টস গ্রুপ বা FSG। অর্থাৎ বেজোস এবং তাঁর সহযোগীরা সংখ্যালঘু অংশীদার হিসেবেই থাকছেন।
এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কারণ প্রাথমিক খবর প্রকাশের পর অনেকের ধারণা হয়েছিল, হয়তো লিভারপুলের সম্পূর্ণ মালিকানা বদল হতে চলেছে। বাস্তবে আপাতত তেমন কিছু হচ্ছে না।
FSG ২০১০ সালে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন পাউন্ডে লিভারপুল কিনেছিল। এরপর গত ১৬ বছরে ক্লাবটির মূল্য এবং বাণিজ্যিক আয় ব্যাপকভাবে বেড়েছে। নতুন চুক্তি সেই মূল্যবৃদ্ধিরই বড় প্রমাণ।
এই চুক্তিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অমিত ভাটিয়ার। তাঁর নেতৃত্বেই বিনিয়োগকারী জোটটি তৈরি হয়েছে। লিভারপুলের নতুন বোর্ড কাঠামোয় ভাটিয়া ভাইস-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেবেন।
ভাটিয়ার ফুটবলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। তিনি এর আগে কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্সের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাই লিভারপুলের মালিকানা কাঠামোয় তাঁর প্রবেশকে শুধু আর্থিক বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে না।
অন্যদিকে, জেফ বেজোসের নাম এই চুক্তিকে আরও আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যবসায়ী। তাঁর ক্রীড়া দুনিয়ায় প্রবেশের ক্ষেত্রেও লিভারপুলের এই বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ।
ফেসবুকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এদুয়ার্দো সাভেরিনও এই জোটের অংশ। ফলে প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক ব্যবসা জগতের একাধিক বড় নাম এখন লিভারপুলের মালিকানা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত।
নতুন বিনিয়োগকারীরা এলেও লিভারপুলের দৈনন্দিন নিয়ন্ত্রণ FSG-র হাতেই থাকবে।
খেলোয়াড় কেনাবেচা বা ক্লাব পরিচালনার সিদ্ধান্তে সরাসরি পরিবর্তনের ঘোষণা হয়নি।
তবে এই বিনিয়োগের কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। বিশ্বের বড় প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর সঙ্গে লিভারপুলের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হতে পারে। বিশেষ করে ডিজিটাল কনটেন্ট, আন্তর্জাতিক বাজার এবং বাণিজ্যিক সম্প্রসারণে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
লিভারপুলের সাম্প্রতিক সাফল্যও ক্লাবটির মূল্যবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। জুর্গেন ক্লপের সময়ে ক্লাবটি প্রিমিয়ার লিগ এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছে। বিশ্বজুড়ে লিভারপুলের সমর্থকসংখ্যাও বেড়েছে।
তাই বেজোস, সাভেরিন এবং ভাটিয়ার মতো বিনিয়োগকারীদের আগ্রহকে অনেকেই লিভারপুলের ব্র্যান্ড ভ্যালির স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন।
তবে সমর্থকদের মধ্যে প্রশ্নও রয়েছে। ভবিষ্যতে এই সংখ্যালঘু বিনিয়োগ কি আরও বড় মালিকানা পরিবর্তনের পথ তৈরি করবে? নাকি FSG-র নিয়ন্ত্রণেই নতুন বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারি চলবে?
এই মুহূর্তে নিশ্চিত বিষয় একটাই। লিভারপুলের মালিকানা কাঠামোয় বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যবসায়ী জেফ বেজোসের প্রবেশ ঘটেছে। আর সেই জোটের নেতৃত্বে রয়েছেন ব্রিটিশ-ভারতীয় ব্যবসায়ী অমিত ভাটিয়া।

