ক্লাউড টিভি ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের দুই সাংসদের দ্বন্দ্ব এবার পৌঁছে গিয়েছে লোকসভার দরজায়। বারাসতের সাংসদ Kakoli Ghosh Dastidar-এর অভিযোগের জেরে শ্রীরামপুরের সাংসদ Kalyan Banerjee লোকসভায় বড়সড় চাপে পড়তে পারেন বলে জোর রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, অভিযোগটি যদি লোকসভার স্পিকার Om Birla প্রিভিলেজ কমিটি বা এথিক্স কমিটির কাছে পাঠান, তাহলে বিষয়টি আনুষ্ঠানিক তদন্তের (Kalyan Banerjee Privilege Committee) মুখে পড়তে পারে।
এমনকি নিয়ম অনুযায়ী সাংসদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সুপারিশও করা হতে পারে।
সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা একটি চিঠিতে কাকলি ঘোষ দস্তিদার অভিযোগ করেছেন যে, লোকসভার ভিতরে তাঁকে বারবার মৌখিকভাবে হেনস্থা করেছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, এই আচরণ শুধু তাঁর সঙ্গেই নয়, অন্য মহিলা সাংসদদের ক্ষেত্রেও হয়েছে। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেছেন যে, এই ধরনের আচরণ 'misogyny' বা নারী বিদ্বেষমূলক মানসিকতার প্রতিফলন। সেই কারণেই তিনি স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানানোর অনুমতি ও হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।
সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, কোনও সাংসদের বিরুদ্ধে বিশেষাধিকার লঙ্ঘন, অসংসদীয় আচরণ বা নৈতিকতার প্রশ্ন উঠলে স্পিকার বিষয়টি প্রিভিলেজ কমিটি বা এথিক্স কমিটির কাছে পাঠাতে পারেন। এরপর সংশ্লিষ্ট কমিটি অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে রিপোর্ট জমা দেয়। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
ঘটনাচক্রে বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ কারণ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই বর্তমানে সংসদের প্রিভিলেজ কমিটির সদস্য। ফলে অভিযোগ (Kalyan Banerjee Privilege Committee) যদি সেই কমিটিতে যায়, তাহলে রাজনৈতিক ও সাংসদীয় মহলে বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।
এই বিতর্কের পটভূমিতেও রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ অস্বস্তি। কয়েকদিন আগেই কাকলি ঘোষ দস্তিদার দলীয় সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। নিজের ইস্তফাপত্রে তিনি শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন এবং অভিযোগ করেন যে, একজন মহিলা সাংসদের প্রতি 'অশোভন আচরণ'-এর বিরুদ্ধে দলীয় স্তরে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, যদি তিনি সংসদের ভিতরে কোনও অনৈতিক বা অসংসদীয় আচরণ করে থাকেন, তাহলে বিষয়টি স্পিকার ও সংশ্লিষ্ট কমিটি খতিয়ে দেখতে পারে। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং দলীয় দায়িত্বে রদবদলের জেরেই এই অভিযোগ সামনে এসেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। লোকসভায় তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ দুই সাংসদের প্রকাশ্য বিরোধ দলীয় অস্বস্তিকে সামনে এনে দিয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আগামী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এই বিতর্ক শাসকদলের জন্য বিব্রতকর হতে পারে।
বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ মুখদের মধ্যে রয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কাকলি দীর্ঘদিন ধরে দলের মহিলা সংগঠন ও সাংসদীয় রাজনীতির অন্যতম পরিচিত মুখ। অন্যদিকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলের প্রধান মুখপাত্রসুলভ সাংসদদের একজন এবং দলের চিফ হুইপ হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
এখন নজর লোকসভার স্পিকারের সিদ্ধান্তের দিকে। অভিযোগটি আদৌ প্রিভিলেজ কমিটি বা এথিক্স কমিটির কাছে পাঠানো হয় কি না, এবং হলে তদন্ত কোন দিকে এগোয়, সেটাই আগামী দিনের বড় রাজনৈতিক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

