ক্লাউড টিভি ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার আবহে ফের বড় দাবি করল ইরান। তেহরানের দাবি, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীর কাছে একটি "শত্রু ড্রোন" ভূপাতিত করেছে তাদের সেনাবাহিনী। আর এই অভিযানে ব্যবহার করা হয়েছে নতুন দেশীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা "Arash-e Kamangir" । ইরানের সরকারি ও রাষ্ট্রঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট সামনে আসতেই আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা (Arash e Kamangir Iran Drone Defense)।
ইরানের সংবাদসংস্থা Fars News Agency-এর দাবি, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর কাছে কেশম (Qeshm) দ্বীপ সংলগ্ন এলাকায় ওই ড্রোনটিকে শনাক্ত করা হয়। পরে Arash-e Kamangir নামের নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাহায্যে সেটিকে ধ্বংস করা হয়। ইরানের বক্তব্য, দেশের আকাশসীমা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা রক্ষার অংশ হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।
ইরানি সূত্রের দাবি, ভূপাতিত ড্রোনটি ছিল মার্কিন সেনাবাহিনীর ব্যবহৃত MQ-9 Reaper শ্রেণির ড্রোন। ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) আরও দাবি করেছে, ড্রোনটির পাশাপাশি একটি RQ-4 নজরদারি ড্রোন এবং একটি F-35 যুদ্ধবিমানও ইরানের আকাশসীমার কাছাকাছি এসেছিল, পরে তারা সরে যায়। যদিও এই দাবির স্বাধীন কোনও আন্তর্জাতিক নিশ্চিতকরণ এখনও সামনে আসেনি।
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে Arash-e Kamangir। ইরানের দাবি, এটি একটি নতুন দেশীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Arash e Kamangir Iran Drone Defense), যার মধ্যে রয়েছে "গোপন সক্ষমতা" বা hidden capabilities। ইরানি কর্মকর্তাদের বক্তব্য, এই ব্যবস্থার প্রথম যুদ্ধক্ষেত্রের ব্যবহারেই শত্রু ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। তবে এর প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য, কার্যক্ষমতা বা অস্ত্র ব্যবস্থার পূর্ণ বিবরণ এখনও প্রকাশ করেনি তেহরান।
আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই দাবি সত্য হলে তা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন ও ইজরায়েলি নজরদারি প্রযুক্তির বিরুদ্ধে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে ইরান। নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সফল ব্যবহার প্রমাণিত হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
তবে এখনও পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই ঘটনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও ড্রোন হারানোর কথা স্বীকার করেনি। ফলে ইরানের দাবি নিয়ে সংশয়ও রয়ে গেছে। অতীতেও ড্রোন ভূপাতিত করা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরস্পরবিরোধী দাবি সামনে এসেছে।
ঘটনাটি এমন সময় সামনে এল, যখন হরমুজ প্রণালী ঘিরে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েকদিনে ড্রোন হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ এবং সামরিক সংঘর্ষের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। মার্কিন সেনাবাহিনীও জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালীর কাছে একাধিক ইরানি ড্রোন গুলি করে নামিয়েছে এবং ইরানের একটি ড্রোন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রেও হামলা চালিয়েছে।
এর জবাবে ইরানও মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে। যদিও উভয় পক্ষই বলছে, তারা পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ চায় না এবং বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে আগ্রহী। তবুও পরিস্থিতি যে এখনও অত্যন্ত স্পর্শকাতর, তা স্পষ্ট।
বিশেষজ্ঞদের মতে, Arash-e Kamangir নিয়ে ইরানের দাবি শুধু সামরিক সাফল্যের প্রচার নয়, বরং এটি একটি কৌশলগত বার্তাও। তেহরান দেখাতে চাইছে যে, দীর্ঘ সংঘাত ও নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও তারা নিজেদের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নত করতে সক্ষম হয়েছে।
এখন নজর থাকবে মার্কিন প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের যাচাইয়ের দিকে। সত্যিই যদি MQ-9 Reaper-এর মতো উন্নত ড্রোন ভূপাতিত হয়ে থাকে, তাহলে তা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে উঠতে পারে।

