ইরানের সঙ্গে সমস্ত বাণিজ্যিক ও আর্থিক লেনদেন বন্ধ করে দিল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। মঙ্গলবার এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে UAE সরকার।
ইরান থেকে দুটি ব্যালিস্টিক মিসাইল ছোড়ার অভিযোগ ঘিরেই নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। UAE-র দাবি, দুটি মিসাইল তাদের দিকে ছোড়া হয়েছিল।
তবে ইরান সেই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে।
UAE প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুটি ব্যালিস্টিক মিসাইল শনাক্ত করে। মিসাইল দুটির লক্ষ্য ছিল সামুদ্রিক নৌ চলাচল। একটি মিসাইল UAE-র জলসীমার বাইরে গিয়ে পড়ে। অন্যটি UAE-র জলসীমার মধ্যে সমুদ্রে পড়ে বলে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনার কিছুক্ষণ আগে UAE-র বাসিন্দাদের কাছে মিসাইল হামলার সম্ভাবনা নিয়ে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। মোবাইল ফোনে সেই জরুরি সতর্কবার্তা পৌঁছে যায়। বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
তবে কিছুক্ষণ পরেই সেই সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়। এই ঘটনার পরই আবু ধাবি তেহরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়।
UAE-র বিদেশ মন্ত্রকের স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশনস বিভাগের ডিরেক্টর আফরা আল হামেলি জানান, আঞ্চলিক পরিস্থিতির অবনতির কারণে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শান্তি ও নিরাপত্তার উপর প্রভাব ফেলছে এমন পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেছে UAE।
UAE জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে সমস্ত বাণিজ্য, বাণিজ্যিক আদানপ্রদান এবং আর্থিক লেনদেন বন্ধ থাকবে। তবে এই সিদ্ধান্ত কতদিন কার্যকর থাকবে, তার নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।
আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দীর্ঘদিন ধরেই দু'দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক যোগাযোগ রয়েছে। ফলে নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব ব্যবসা ও আর্থিক লেনদেনের উপর পড়তে পারে।
গত কয়েক সপ্তাহে UAE-র সঙ্গে ইরানের সম্পর্কও ক্রমশ উত্তপ্ত হয়েছে। UAE-র রাষ্ট্রীয় তেল সংস্থা ADNOC-এর সঙ্গে যুক্ত জাহাজগুলিকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগও উঠেছে। গত সপ্তাহে দুটি ADNOC জাহাজকে ইরান আক্রমণ করেছে বলে অভিযোগ করেছিল UAE।
তবে ইরান UAE-র অভিযোগ মেনে নেয়নি। তেহরান বরাবরই এই ধরনের অভিযোগকে অস্বীকার করে আসছে।
এই পরিস্থিতিতে নজর রয়েছে হরমুজ প্রণালীর দিকে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ এই জলপথ। UAE-র বন্দর থেকে বেরিয়ে আন্তর্জাতিক জলপথে যেতে অনেক জাহাজকেই হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করতে হয়।
ইরান জানিয়েছে, আমেরিকার সঙ্গে শান্তি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকবে। ফলে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
UAE-র নতুন সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। একদিকে সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে। অন্যদিকে বাণিজ্যিক সম্পর্কও ধাক্কা খাচ্ছে।
তবে UAE জানিয়েছে, তারা এখনও সংলাপ ও আঞ্চলিক সহযোগিতার পক্ষে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন মেনে আর্থিক ব্যবস্থার নিরাপত্তা বজায় রাখার কথাও জানিয়েছে আবু ধাবি।
এখন মূল নজর ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। তেহরান যদি ফের কোনও সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতিও বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

