Pakistan Asim Munir Power Expansion
ইসলামাবাদ: পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর ভূমিকা দীর্ঘদিন ধরেই রাজনীতির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত। সেখানকার ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে যে নির্বাচিত সরকারের ওপরে সেনাবাহিনী একটি কার্যকর এবং গভীর প্রভাব রাখে। এবার সেই প্রভাব আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কারণ পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে সংবিধানে পরিবর্তন আনার একটি নতুন উদ্যোগ দেখা দিয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের হাতে আরও বেশি ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হতে পারে।
প্রস্তাবিত সংশোধনীর অন্যতম অংশ হলো সংবিধানের Article 243 এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষা সম্পর্কিত ধারা পুনর্বিন্যাস। এতে বলা হচ্ছে, সেনা, নৌ এবং বিমান বাহিনীর কমান্ড ও কৌশলগত পরিকল্পনা আরও একই কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হবে। এবং সেই কাঠামোর প্রধান হিসেবে আসিম মুনিরকে "Chief of Defence Forces" বা সমতুল্য ক্ষমতাসম্পন্ন পদে বসানোর প্রস্তাব রয়েছে। অর্থাৎ সামরিক বাহিনীর তিন শাখার নিয়ন্ত্রণ এক ব্যক্তির হাতে আসতে পারে।
তবে এখানেই সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কারণ পাকিস্তানে সেনাবাহিনী আগেই রাজনৈতিক ক্ষমতায় প্রভাবশালী। অতীতে সামরিক শাসন একাধিকবার গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করেছে। তাই অপজিশন দলগুলো আশঙ্কা করছে যে নতুন পরিবর্তন সেনা আধিপত্যকে আরও স্থায়ী করে তুলতে পারে।
চিনা ন্যারেটিভ এর পরিপন্থী হওয়ায় হোয়াইট হাউসে শি জিনপিংয়ের হাসির ছবি চীনে প্রকাশ করা হচ্ছে না
তবে সরকারি পক্ষ ভিন্ন যুক্তি দিচ্ছে। তাদের দাবি, দেশের নিরাপত্তা পরিকাঠামো ক্রমশ জটিল হচ্ছে। সীমান্ত উত্তেজনা, অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং জঙ্গিবাদ দমনের মতো ইস্যুতে সমন্বিত সামরিক কমান্ড প্রয়োজন। এই ধরনের সুসংগঠিত নেতৃত্ব নাকি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা জোরদারে সহায়ক হবে। এছাড়া তারা বলছে, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে প্রশাসন আরও দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে এবং জাতীয় কৌশল বাস্তবায়ন সহজ হবে।
কিন্তু প্রশ্ন হলো - এই শক্তির অনুশীলনের উপর তদারকি করবে কে? কারণ গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভিত্তি হলো ক্ষমতার ভারসাম্য। নির্বাচিত সরকার, সংসদ এবং বিচার বিভাগের মধ্যে পারস্পরিক নিয়ন্ত্রণ থাকা জরুরি। সেই জায়গাতেই এই প্রস্তাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদি সেনাবাহিনীর প্রধানের হাতে অতিরিক্ত স্বাধীনতা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আসে, তাহলে সংসদ ও সরকারের কর্তৃত্ব ক্ষীণ হয়ে যেতে পারে।
এখনো পর্যন্ত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাবটি সংসদে তোলে নি। তবে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। সেনাপ্রধানের সমর্থনে থাকা অংশ বলছে যে এই পরিবর্তন জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন। অন্যদিকে মানবাধিকার সংস্থা ও নাগরিক সমাজ বলছে যে এটি পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য সংবেদনশীল।
আন্তর্জাতিকভাবেও বিষয়টি নজরে এসেছে। বিশেষত ভারত, চীন, সৌদি আরব এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের কূটনৈতিক সম্পর্ক ও সামরিক চুক্তির প্রেক্ষিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ। যদি সামরিক প্রভাব আরও বাড়ে, তাহলে প্রতিবেশী অঞ্চলের কৌশলগত ভারসাম্যেও প্রভাব পড়তে পারে।
সার্বিকভাবে দেখা যাচ্ছে, পাকিস্তান আবার সেই পুরোনো দ্বন্দ্বের সামনে দাঁড়িয়েছে - গণতন্ত্র নাকি সেনা প্রভাবের স্থায়ী আধিপত্য? আগামী কয়েক সপ্তাহের রাজনৈতিক পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে এই বিতর্ক কোনদিকে গড়ায়।
আরও পড়ুন :
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট Claudia Sheinbaum জনসমক্ষে যৌন হয়রানির শিকার
Zohran Mamdani মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদে লড়তে পারবেন না

