ক্লাউড টিভি ডেস্ক: আর মাত্র ১১ দিন পরই পর্দা উঠছে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আসর ফিফা বিশ্বকাপের। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ক্লাউড টিভির বিশেষ ধারাবাহিকে প্রতিদিন তুলে ধরা হচ্ছে বিশ্বকাপ ইতিহাসের একেকটি স্মরণীয় পরিসংখ্যান ও রেকর্ডের গল্প। আজকের পর্বে থাকছে এমন এক কীর্তির কথা, যা গত ৬৮ বছর ধরে অক্ষত রয়েছে-ফ্রান্সের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার জুস্ত ফঁতেনের এক আসরে সর্বাধিক (Most Goals in a World Cup) গোল করার রেকর্ড।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক আসরে সবচেয়ে বেশি গোল করার রেকর্ডটি এখনও জুস্ত ফঁতেনের দখলে। ১৯৫৮ সালে সুইডেনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে মাত্র ছয়টি ম্যাচ খেলেই ১৩টি গোল করেছিলেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। এত বছর পরও কেউ তাঁর সেই রেকর্ড স্পর্শ করতে পারেননি।
ফঁতেনের আগে এক আসরে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ছিল হাঙ্গেরির কিংবদন্তি সান্দর কোচিশের। তিনি ১৯৫৪ সালের সুইজারল্যান্ড বিশ্বকাপে ১১ গোল করেছিলেন। কিন্তু চার বছর পর সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়েন ফঁতেন।
বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বাধিক গোলদাতাদের তালিকায় ফঁতেনের পরেই রয়েছেন পশ্চিম জার্মানির জার্ড মুলার। ১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে তিনি করেছিলেন ১০ গোল। এরপর রয়েছেন ব্রাজিলের আদেমির দে মেনেজেস (১৯৫০ বিশ্বকাপে ৯ গোল) এবং পর্তুগালের ইউসেবিও (১৯৬৬ বিশ্বকাপে ৯ গোল)।
অথচ সুইডেন বিশ্বকাপে ফঁতেনের খেলার সম্ভাবনাই ছিল অনিশ্চিত। তিনি নিজেও ভাবেননি যে দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে উঠবেন। সেই কারণেই বিশ্বকাপে অংশ নিতে গিয়ে মাত্র এক জোড়া বুট সঙ্গে নিয়েছিলেন। কিন্তু দলের কয়েকজন ফুটবলারের চোটের কারণে শেষ মুহূর্তে তাঁকে নিয়মিত একাদশে সুযোগ দিতে বাধ্য হন ফ্রান্সের কোচ।
ভাগ্যের এই সুযোগকে কাজে লাগানোর আগেই নতুন বিপদে পড়েন ফঁতেন। অনুশীলনের সময় তাঁর একমাত্র বুটজোড়া ছিঁড়ে যায়। পরে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, "আমি একদম ভেঙে পড়েছিলাম। মনে হয়েছিল, বিশ্বকাপে আমার যাত্রা বুঝি শেষ হয়ে গেল।"
সৌভাগ্যবশত তাঁর এক সতীর্থ স্তেফানি একই মাপের বুট ব্যবহার করতেন। তিনি নিজের বুটজোড়া ধার দেন ফঁতেনকে। আর সেই ধার করা বুট পরেই শুরু হয় বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলযাত্রা।
প্যারাগুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করেন ফঁতেন। এরপর যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে দুটি এবং স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে একটি গোল করে গ্রুপ পর্ব শেষ করেন। কোয়ার্টার ফাইনালে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের জালে জোড়া গোল করেন তিনি। সেমিফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষেও একটি গোল করেন।
যদিও সেমিফাইনালে ব্রাজিলের কাছে হেরে যায় ফ্রান্স। তবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে আবারও নিজের অসাধারণ দক্ষতার প্রমাণ দেন ফঁতেন। ৬-৩ ব্যবধানে জেতা সেই ম্যাচে একাই চারটি গোল করেন তিনি। সেই চার গোলই তাঁকে পৌঁছে দেয় অবিশ্বাস্য ১৩ গোলের মাইলফলকে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এরপর বহু কিংবদন্তি স্ট্রাইকার এসেছেন-পেলে, গারিঞ্চা, গার্ড মুলার, রোনালদো, মিরোস্লাভ ক্লোজে, লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপে-কিন্তু কেউই এক আসরে ১৩ গোলের সেই রেকর্ড ভাঙতে পারেননি।
বিশ্বকাপের মঞ্চে অসংখ্য রেকর্ড তৈরি হয়েছে, আবার অনেক রেকর্ড হারিয়েও গেছে। কিন্তু জুস্ত ফঁতেনের ১৩ গোলের কীর্তি এখনও ইতিহাসের পাতায় অমলিন। ৬৮ বছর পরও বিশ্বকাপের সবচেয়ে দুর্লভ এবং ধরাছোঁয়ার বাইরের রেকর্ডগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।

