ক্লাউড টিভি ডেস্ক: দরজায় কড়া নাড়ছে ফুটবল বিশ্বকাপ। বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই ক্রীড়া আসরকে ঘিরে উন্মাদনা এখন তুঙ্গে। বিশ্বকাপ শুরুর আগে ক্লাউড টিভি বাংলার বিশেষ পরিসংখ্যানভিত্তিক ধারাবাহিকে আজ থাকছে ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে এশিয়া (AFC) এবং আফ্রিকা (CAF)-র দলগুলোর মুখোমুখি (Asia vs Africa World Cup Stats) লড়াইয়ের গল্প।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার আধিপত্যের কথা সকলেরই জানা। তবে গত দুই দশকে এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলিও নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বিশ্বকাপগুলোতে এই দুই মহাদেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে বেশ কয়েকটি স্মরণীয় ম্যাচ ফুটবলপ্রেমীদের উপহার দিয়েছে।
পরিসংখ্যান বলছে, গত পাঁচটি বিশ্বকাপে এশিয়া ও আফ্রিকার দলগুলোর মধ্যে মোট ১৬টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই ম্যাচগুলোতে মোট গোল হয়েছে ৪৬টি, অর্থাৎ ম্যাচপ্রতি প্রায় ২.৯ গোল। আরও চমকপ্রদ বিষয় হলো, দুই মহাদেশের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল একেবারেই সমানে সমান। এশিয়ার দলগুলো জিতেছে ৫টি ম্যাচ, আফ্রিকার দলগুলিও জিতেছে ৫টি ম্যাচ। বাকি ৬টি ম্যাচ শেষ হয়েছে ড্রয়ে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এশিয়া-আফ্রিকার লড়াই মানেই প্রায়শই গোল, নাটকীয়তা এবং উত্তেজনা। ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপে তিউনিসিয়া ও সৌদি আরবের ২-২ ড্র ম্যাচটি ছিল অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াই। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছিল।
২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে নাইজেরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার ২-২ ড্র ম্যাচটিও ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই ম্যাচের ফলাফল গ্রুপের সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলেছিল। আফ্রিকার অন্যতম শক্তিশালী দল নাইজেরিয়ার বিরুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ার লড়াকু মানসিকতা সেদিন নজর কেড়েছিল।
২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে আলজেরিয়া বনাম দক্ষিণ কোরিয়া ম্যাচটি এখনও বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম রোমাঞ্চকর AFC-CAF সংঘর্ষ হিসেবে বিবেচিত হয়। ম্যাচটি ৪-২ গোলে জিতে নিয়েছিল আলজেরিয়া। আফ্রিকার দলগুলোর বিশ্বকাপে অন্যতম সেরা আক্রমণাত্মক পারফরম্যান্স ছিল সেটি।
২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে জাপান ও সেনেগালের ২-২ ড্র ম্যাচটি ছিল টেকনিক্যাল ফুটবল বনাম শারীরিক শক্তির এক অসাধারণ উদাহরণ। দুই দলের ফুটবল দর্শনের পার্থক্য সেই ম্যাচে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছিল।
সবচেয়ে সাম্প্রতিক উদাহরণ ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ। দক্ষিণ কোরিয়া ও ঘানার ম্যাচটি বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা ম্যাচ হিসেবে বিবেচিত হয়। ৩-২ গোলে জয় পায় ঘানা। ম্যাচটিতে ছিল পাঁচটি গোল, অসংখ্য সুযোগ এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উত্তেজনা।
এবারের বিশ্বকাপেও এশিয়া ও আফ্রিকার লড়াই বিশেষ আকর্ষণ হতে চলেছে। গ্রুপ পর্বেই দেখা যাবে সাতটি AFC বনাম CAF ম্যাচ। সেগুলি হল:
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এই ম্যাচগুলো শুধু গ্রুপ পর্বের ফল নির্ধারণ করবে না, বরং দুই মহাদেশের ফুটবলের বর্তমান শক্তির তুলনামূলক চিত্রও তুলে ধরবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান ও সৌদি আরব যেমন ধারাবাহিক উন্নতি করেছে, তেমনি সেনেগাল, মরক্কো, আলজেরিয়া, মিশর ও ডিআর কঙ্গোর মতো আফ্রিকান দলগুলোও বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।
বিশেষ করে ২০২২ বিশ্বকাপে আফ্রিকার প্রতিনিধিত্বকারী Morocco National Football Team সেমিফাইনালে পৌঁছে ইতিহাস গড়েছিল। অন্যদিকে এশিয়ার দলগুলিও নকআউট পর্বে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে।
এবারের বিশ্বকাপে তাই এশিয়া বনাম আফ্রিকার (Asia vs Africa World Cup Stats) লড়াই শুধুমাত্র দুই মহাদেশের সংঘর্ষ নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের নতুন শক্তিগুলোর নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের মঞ্চও হতে চলেছে।

