ক্লাউড টিভি ডেস্ক: আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর দেশটির নারীদের জীবনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। শিক্ষা, কর্মক্ষেত্র এবং জনজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে একের পর এক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। সেই প্রভাব পড়ে ক্রীড়াঙ্গনেও। ২০২১ সালে তালেবান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর আফগানিস্তানে কার্যত বন্ধ হয়ে যায় নারীদের ক্রিকেট কার্যক্রম।
ফলে বহু নারী ক্রিকেটারের ক্যারিয়ার অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। তবে দীর্ঘ পাঁচ বছর পর আবারও আন্তর্জাতিক পরিবেশে মাঠে নামার সুযোগ পেতে চলেছেন আফগান (Afghanistan Women Cricket) নারী ক্রিকেটাররা।
জানা গেছে, আগামী মাসে ইংল্যান্ড সফরে যাবে আফগানিস্তান শরণার্থী মহিলা ক্রিকেট দল। এই সফরে দলটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে এবং পাশাপাশি বিভিন্ন অনুশীলন সেশনেও অংশ নেবে। শুধু ম্যাচ খেলার সুযোগই নয়, ইংল্যান্ডের ঐতিহাসিক ক্রিকেট ভেন্যু Lord's Cricket Ground-এ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মহিলা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালও সরাসরি দেখবেন ক্রিকেটাররা।
এই সফর নিয়ে England and Wales Cricket Board (ইসিবি) জানিয়েছে, বিষয়টি শুধু ক্রিকেটীয় দৃষ্টিকোণ থেকেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, এর একটি বড় সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক গুরুত্বও রয়েছে। তাদের মতে, খেলাধুলা মানুষের মধ্যে সংযোগ গড়ে তোলার পাশাপাশি আশা এবং নতুন সম্ভাবনার দরজাও খুলে দিতে পারে।
বর্তমান দলে রয়েছেন আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক চুক্তিবদ্ধ নারী ক্রিকেটাররা। তালেবান শাসন শুরু হওয়ার পর খেলাধুলা থেকে বাদ পড়ার পাশাপাশি জনজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকেও তারা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। অনেকেই নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যতের কথা ভেবে দেশ ছেড়ে অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নেন।
আফগানিস্তানের নারী ক্রিকেটারদের জন্য এই যাত্রা শুধু মাঠে ফেরার সুযোগ নয়, বরং এটি তাঁদের লড়াই, বেঁচে থাকা এবং স্বপ্নকে ধরে রাখার প্রতীক হিসেবেও দেখা হচ্ছে। কারণ ক্রিকেট তাঁদের কাছে শুধু একটি খেলা নয়, এটি পরিচয় এবং নিজের অস্তিত্ব প্রকাশের একটি মাধ্যমও হয়ে উঠেছে।
বিশ্ব ক্রিকেট মহলের অনেকেই মনে করছেন, এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে আফগান নারী ক্রিকেটের জন্য একটি নতুন পথ খুলে দিতে পারে। দীর্ঘ অনিশ্চয়তা ও বাধার পর আবারও আন্তর্জাতিক পরিবেশে মাঠে ফেরার সুযোগ তাঁদের জন্য নতুন আশার বার্তা বহন করছে।

