Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
'ভয়ে ঘরছাড়া শিক্ষিকা, স্কুলেও যেতে পারছেন না', পুলিশকে তীব্র ভর্ৎসনা হাইকোর্টের

'ভয়ে ঘরছাড়া শিক্ষিকা, স্কুলেও যেতে পারছেন না', পুলিশকে তীব্র ভর্ৎসনা হাইকোর্টের

প্রাণনাশের হুমকিতে ঘরছাড়া এক সহকারী প্রধান শিক্ষিকা। আতঙ্কে নিজের স্কুলেও যেতে পারছেন না তিনি। বার বার অভিযোগ জানিয়েও পুলিশের কাছ থেকে কোনও কার্যকরী পদক্ষেপ মেলেনি। এরপরেই বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করলেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।

১৯৯৯ সালে নদীয়ার ধুবুলিয়া শ্যামাপ্রসাদ শিক্ষায়তনে সহকারী প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে কাজে যোগ দিয়েছিলেন ওই শিক্ষিকা।

তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর গত ৫ মে থেকে তিনি আর স্কুলে যেতে পারছেন না। শুধু স্কুল নয়, প্রাণনাশের হুমকির জেরে যে বাড়িতে থাকতেন, সেখানেও থাকতে পারছেন না। পরিবারকে নিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন তিনি। অভিযোগের তীর বর্তমান শাসকদলের কর্মীদের বিরুদ্ধে।

এই পরিস্থিতিতে গত ১ আগস্ট নবদ্বীপ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ওই শিক্ষিকা। কিন্তু অভিযোগের পরেও পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি বলে আদালতে অভিযোগ করেন তিনি। বরং পরবর্তী সময়েও তাঁকে একাধিকবার হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে বলে দাবি।

মামলার শুনানিতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কার্যত ক্ষোভ উগরে দেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। তাঁর প্রশ্ন, "একজন স্কুল শিক্ষিকাকে এই ভাবে দিনের পর দিন হুমকি দেওয়া হচ্ছে, পুলিশ কী করছে? কেন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না?"

বিচারপতির আরও পর্যবেক্ষণ, একজন শিক্ষিকা যদি আতঙ্কে স্কুলেই যেতে না পারেন, তাহলে তাঁর চাকরি চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রধান বিচারপতির প্রশ্ন, তিনি স্কুলে যেতে পারছেন না, পুলিশ বসে বসে দেখছে। তিনি স্কুলে না যাওয়ার কারণে তাঁর চাকরি চলে যেতে পারে। তার দায়িত্ব কে নেবে?

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেলকে বিষয়টি জানাতে বাধ্য হবেন বলেও মন্তব্য করেন বিচারপতি। রাজ্যের পক্ষে আইনজীবী আদালতে জানান, ওই শিক্ষিকা তাঁর নির্দিষ্ট ঠিকানায় থাকেন না। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। তবে তাতেও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সন্তুষ্ট হয়নি আদালত। বিচারপতির প্রশ্ন, কেন ওই শিক্ষিকা বাড়িতে থাকতে পারছেন না, তা কি পুলিশ জানে না? কেন এখনও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হয়নি?

শেষ পর্যন্ত ওই শিক্ষিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাঁকে স্কুলে ফেরানোর নির্দেশ দেন বিচারপতি। নবদ্বীপ থানার ইন্সপেক্টর ইনচার্জ আগামী ৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় পুলিশি নিরাপত্তায় স্কুলে যেতে হবে তাঁকে। স্কুলে গিয়ে রেজিস্টারে সই করার সুযোগও দিতে হবে। শুধু শিক্ষিকা নন, তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আগামী শুনানিতে পুলিশ কী কী পদক্ষেপ করেছে, তার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।

একজন শিক্ষিকার জন্য আদালতের এই নির্দেশ যেন স্পষ্ট বার্তা, ভয়ের কারণে কোনও শিক্ষিকাকে তাঁর কর্মস্থল থেকে দূরে থাকতে বাধ্য করা যায় না। নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব পুলিশের, আর সেই নিরাপত্তার অভাবে কোনও শিক্ষিকার চাকরি অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে না।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Dainikstatesman