Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতির ছোবল, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী

বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতির ছোবল, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী

পার্থ প্রতীম চট্টোপাধ্যায়

প্তাহব্যাপী আমাদের শেয়ার বাজার ছিল 'রক্ত-স্নাত'। আমাদের দেশের ট্রেড ব্যালান্সে আমদানির প্রাধান্য বেশি থাকায় বর্তমান সময়ে যখন অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশ ছুঁয়ে ফেলেছে তখন ইম্পোর্ট পেমেন্ট বেশি হওয়ার জন্য কিছুটা ব্যাকফুটে দেশের ব্যালান্সে অফ পেমেন্ট (বিওপি)।

কেবল আমাদের দেশ বলেই নয় সমস্ত ইমপোর্ট অরিয়েন্টেড দেশের বিওপি-র এই একই অবস্থা। সম্প্রতি পেট্রোল এবং ডিজেলের লিটার প্রতি তিন টাকা দাম বাড়ার ফলে পকেটের টান পড়বে মধ্যবিত্তের। অবশ্য ব্যাপক লসের বোঝা মাথায় নেওয়া সরকারি তেল কোম্পানিগুলির কাছে এটা কিছুটা স্বস্তিদায়ক। তাছাড়া অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশে পেট্রোল এবং ডিজেলের দাম বৃদ্ধির হার অনেকটা কম। অবশ্য প্রশ্ন থেকে যায় এই তিনেই কি আটকে থাকবে না ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে তেলের দাম? এই প্রশ্নের উত্তর আটকে আছে আমেরিকা, ইরান, ইজরাইলের যুদ্ধের ভবিষ্যতের গতি প্রকৃতির ওপর। ডলারের দাম ছুঁয়ে নিয়েছে ৯৬-এর ঘর। এর সঙ্গে বেড়েছে পাইকারি মুদ্রাস্থিতির হারও যা প্রায় ৮.৩ শতাংশের কাছে, ৪২ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। টাকার দাম তথা দেশের অর্থনীতির হাল ফেরাতে আসলে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও। ডলারের দাম বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতির হার বৃদ্ধি নিয়ে অর্থনীতিবিদরাও শঙ্কিত। এই দুই নিয়ন্ত্রণ রেখা ছাড়িয়ে গেলে অর্থনীতির জন্য আসতে পারে 'অশনি সংকেত'। কেবল ভারতবর্ষে নয়, মুদ্রাস্ফীতির ছোবলে আক্রান্ত আমেরিকা তথা ল্যাটিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশও। বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতির এই ভয়াবহতা যুদ্ধরত দেশগুলোকে দিচ্ছে যুদ্ধবিরতির জোরালো বার্তা-এখনই শুধরে যাবার নয়তো ফলাফল হতে পারে আরও ভয়াবহ।

Advertisement

অবশ্য ভারতের অর্থনৈতিক অবস্থা বিচারে অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেকটা স্থিতিশীল বর্তমান পরিস্থিতির বিচারে। এই সংকটকালীন সময়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে কিছু বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন, তার মধ্যে যেমন ভোজ্য তেল এবং পেট্রোলিয়ামের ব্যবহার কমানো, এক বছর সোনা কেনা এবং অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমন থেকে বিরত থাকা, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট যথাসম্ভব ব্যবহার করা ইত্যাদি। এর ফলে প্রভাব আসতে পারে স্বর্ণ শিল্প এবং পর্যটন শিল্পে। অনেকের প্রশ্ন এক বছর সোনায় না কেন প্রধানমন্ত্রীর? এর মধ্যে রয়েছে গভীর দূরদর্শিতা। ভারত চিনের পরেই দ্বিতীয় বৃহত্তম সোনা আমদানিকারী দেশ। ভারতবাসীর কাছে সোনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাচীন কাল থেকেই এই ধাতু আমাদের কাছে অর্থনৈতিক স্থায়িত্বের প্রতীক। মরগ্যান স্ট্যানলির একটি রিপোর্ট অনুযায়ী ভারতের পরিবার, ধর্মস্থান, ব্যাঙ্কের লকার, সিন্দুকে প্রায় ৩৪ হাজার টনেরও বেশি সোনা গচ্ছিত রয়েছে, যার মূল্য বর্তমানে প্রায় পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলারের আশেপাশে। সোনাকে দেশের অনেকেই এখনও একমাত্র বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে মনে করেন। তাছাড়াও সহজে সোনা কেনা যায়, ফলে সোনার গ্রহণ যোগ্যতা দিনে দিনে বেড়েছে,এবং কয়েক দশকের ক্রমবর্ধমান সোনার দামের বৃদ্ধি এতে ইন্ধন জুগিয়েছে। সোনার ক্রমাগত চাহিদা বৃদ্ধির ফলে বর্তমানে প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ টন সোনা দেশকে প্রতিবছর আমদানি করতে হয়, ফলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা এর জন্য খরচ হয়। এই গচ্ছিত সোনার অর্থায়ন না হওয়া বা খুব কম পরিমাণে হওয়ার ফলে দেশের অর্থনীতিতে এই বিপুল সম্পদের ভান্ডার সেভাবে কাজে লাগে না। উল্টোদিকে বড় অংকের ডলার বেরিয়ে যাচ্ছে এর দাম মেটাতে। যেহেতু সোনা দৈনন্দিন জীবনে ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, তাই এই অর্থনৈতিক সংকটের সময়, যখন দ্রুত গতিতে বাড়ছে ডলারের দাম, সেই পরিপ্রেক্ষিতে দেশবাসীর কাছে প্রধানমন্ত্রীর এই সাবধান বাণী।

Advertisement

বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অবশ্য বর্তমানে শর্ট টার্ম বন্ডের ইল্ড ভালো থাকার জন্য গুণগত মান সম্পন্ন ভালো বন্ডে টাকা রাখতে পারেন। মিডিয়াম টার্মের জন্য লিকুইড ফান্ড বা বন্ড ফান্ডে টাকা রেখে সেখান থেকে লার্জ এন্ড মিডক্যাপ ফান্ডে এসটিপি (সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান) করার কথা ভাবতে পারেন। STP-র মেয়াদ কমপক্ষে এক থেকে দুই বছর রাখবেন। আরও দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের জন্য এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড কিংবা লার্জ এন্ড মিড ক্যাপ ফান্ড অথবা মাল্টি অ্যাসেট ফান্ডে বিনিয়োগের কথা ভাবতে পারেন। কেবল একবারে সমস্ত টাকা বিনিয়োগ করবেন না বাজার পড়ার সুযোগ নিয়ে ছোট ছোট করে বিনিয়োগ করবেন। এই পরিস্থিতিতে কোনভাবেই এসটিপি (সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান) বন্ধের কথা ভাববেন না।তবে যেভাবেই বিনিয়োগ করুন না কেন আপনার বিনিয়োগ পরামর্শদাতা পরামর্শ অবশ্যই গ্রহণ করবেন কিম্বা নিজে করে নেবেন বিনিয়োগ সংক্রান্ত যথাযথ হোমওয়ার্ক।

Advertisement

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Dainikstatesman