অশোক সিঙ্ঘলের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে রবিবার কলকাতার আলিপুরে আয়োজন করা হয়েছিল এক বিশেষ অনুষ্ঠান। ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একদিকে নাম না করে ককরোচদের নিয়ে বার্তা দিয়েছেন তেমন অপরদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও কড়া আক্রমণ করেছেন। এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, দেশের নানা প্রান্তে এখন জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলনে নেমে পড়েছে ককরোচরা।
জেন-জি আন্দোলনের ঢেউ যে কোনওদিন আছড়ে পড়তে পারে কলকাতা শহরে। সেদিক থেকে আগাম সতর্ক করে দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে দুর্গাপুজো নিয়ে আগের সরকার যে নিয়ম মানেনি সে কথাও তুলে ধরেন তিনি।
এদিকে রাষ্ট্রবাদী সরকার ফেলার ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই ষড়যন্ত্র ঠেকাতে সকলকে সতর্ক এবং ঐক্যবদ্ধ থাকার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এমনকী ছারপোকাদের থেকে সাবধান থাকারও পরামর্শ দেন তিনি। আর অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে নাম না করে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। এদিন হিন্দু ধর্ম অবমাননা নিয়ে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই বিষয়ে শুভেন্দু অধিকারীর তোপ, 'চারিদিকে অনেক ছারপোকা বেরিয়েছে, হালকাভাবে নেবেন না। আর হিন্দু ধর্মকে যারা অপমান করেছে, কালের নিয়মে তারা বিদায় নিয়েছে। আগের সরকারের আমলে ধর্ম দেখে অত্যাচার করা হতো পশ্চিমবঙ্গে। এই রাজ্যে কয়েক বছর ধরে ধর্ম দেখে অত্যাচার করা হয়েছে। আমি তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছি।'
অন্যদিকে এখন দেশের নানা প্রান্তে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন দেখা যাচ্ছে। বহু ককরোচ সদস্য পশ্চিমবঙ্গে আছে বলে মনে করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাই তাদের ঠেকাতে পথ বাতলে দিয়েছেন তিনি। এমনকী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এখন কেন এমন হাল নাম না করে সবার সামনে নিয়ে এসেছেন। এই নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর বার্তা, 'দেশের ভিতরে এই সব ছারপোকারা ঢুকে আছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন। আর হিন্দু ধর্ম, হিন্দু সংগঠন, হিন্দু দেবদেবী, পরম্পরা এবং সংস্কৃতিকে আঘাত করেছিলেন বলেই গণতান্ত্রিকভাবে ওনার এই পরিণতি হয়েছে। কলকাতা 'ডিভোশনাল ক্যাপিটাল'।'
তাছাড়া দুর্গাপুজো নিয়ে নিয়ম না মেনে কাজ করেছিল আগের সরকার বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। রাষ্ট্রবাদী সরকারের মাটিতে এসব করা যে যাবে না সেটাও জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে হরগোবিন্দ এবং চন্দন দাসকে খুনের প্রসঙ্গও উঠে আসে। শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, 'হরগোবিন্দ, চন্দন দাসকে খুন করা হয়েছে। আগের সরকার সংবিধান মেনে চলত না। কিন্তু এখনকার সরকার সংবিধান মেনে চলবে। আগের সরকার পঞ্জিকা মেনে দুর্গাপুজো করত না। আগের মুখ্যমন্ত্রী বিজয়া দশমীর দিন বদলে দিয়েছেন। কিন্তু চলতি বছর তেমনটা হবে না। পিতৃপক্ষে কোনও দুর্গাপুজোর উদ্বোধন হবে না। মহালয়ার দিন ইডেনে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই মা আসবেন বঙ্গে। মোদীজি ভারতবর্ষকে বিশ্বগুরু করে দিয়েছেন। কিন্তু ভিতরে যারা ঢুকে আছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও ঐক্যবদ্ধ, সংঘবদ্ধ হতে হবে। প্রশাসনকেও ব্যবস্থা নিতে হবে। ৬ মাসের মধ্যে লাভ জিহাদ, ল্যান্ড জিহাদ, ধর্ম পরিবর্তন কঠোর এবং কঠিন আইন এনে বন্ধ করব। সকলে নিজের ইচ্ছে মতো ধর্মগ্রহণ করতে পারবেন। কেউ জোর করবে না কোনও ধর্মগ্রহণে। দু'বছরের মধ্যেই প্রায় ১ হাজার কোটি টাকায় তীর্থক্ষেত্র সার্কিট গড়ে তুলব আমরা।'

