Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story

Explainer: আমেরিকা যাওয়ার স্বপ্নে নতুন কাঁটা, H-1B ও L-1 ভিসায় আরও চড়া ফি ও কড়াকড়ির মুখে ভারতীয়রা

মেরিকায় (US) কাজের ভিসা নিয়ে ফের অনিশ্চয়তার মুখে ভারতীয় পেশাদারেরা। এইচ-১বি (H-1B) এবং এল-১ (L-1) ভিসা নিয়ে একের পর এক নিয়ম বদলে দিশাহারা লক্ষ লক্ষ আবেদনকারী। শুধু নতুন আবেদনকারীই নন, চিন্তায় রয়েছেন ভিসা পুনর্নবীকরণের (renewal) অপেক্ষায় থাকা কর্মীরাও। কলকাতার মার্কিন কনস্যুলেট (US Consulate Kolkata) পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, সিকিম-সহ উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলির আবেদন খতিয়ে দেখে।

ফলে এই বদল সরাসরি প্রভাব ফেলছে বাংলার বহু তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীর কেরিয়ারে।

নতুন বায়োমেট্রিক ফি চাপানোর প্রস্তাব

আমেরিকার হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দফতরের (Department of Homeland Security) তরফে একটি নতুন প্রস্তাব সামনে এসেছে। একে বলা হচ্ছে ৯/১১ রেসপন্স অ্যান্ড বায়োমেট্রিক এন্ট্রি-এক্সিট ফি (9-11 Response and Biometric Entry-Exit Fee)। এত দিন এই বাড়তি ফি নেওয়া হত শুধু নতুন আবেদন এবং নিয়োগকারী সংস্থা বদলের ক্ষেত্রে। প্রস্তাবিত নিয়মে, এখন থেকে ভিসা পুনর্নবীকরণেও এই ফি বাধ্যতামূলক হতে পারে। বড় সংস্থাগুলিকে, অর্থাৎ যাদের কর্মী সংখ্যা পঞ্চাশের বেশি এবং তার অর্ধেকের বেশি এইচ-১বি বা এল-১ ভিসাধারী, তাদের প্রতিটি আবেদনে গুনতে হতে পারে অতিরিক্ত ৪০০০ ডলার (H-1B) থেকে ৪৫০০ ডলার (L-1) পর্যন্ত।

এক লক্ষ ডলারের ফি খারিজ

গত জুন মাসে ম্যাসাচুসেটসের একটি ফেডারেল আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের চাপানো এক লক্ষ ডলারের এইচ-১বি ফি খারিজ করে দিয়েছিল। বিচারকের মতে, এই ফি আসলে একপ্রকার কর, যা কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই চাপানো হয়েছিল। তবে স্বস্তি বেশি দিন টেকেনি। রিপাবলিকান সাংসদদের একাংশ সংসদে নতুন বিল এনেছেন, যার নাম এন্ড এইচ-১বি ভিসা অ্যাবিউজ অ্যাক্ট অফ ২০২৬ (End H-1B Visa Abuse Act of 2026)। এই বিলে তিন বছরের জন্য নতুন এইচ-১বি ভিসা বন্ধ রাখা এবং ন্যূনতম বার্ষিক বেতন দুই লক্ষ ডলারে বেঁধে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

ইন্টারভিউ ওয়েভার

আগে যাঁরা একই সংস্থায় ভিসা পুনর্নবীকরণ করাতেন, তাঁদের বড় অংশ ড্রপবক্স (Dropbox) পদ্ধতিতে সরাসরি সাক্ষাৎকার ছাড়াই ভিসা পেয়ে যেতেন। ২০২৫ সালের শেষ থেকেই সেই ছাড়ের নিয়ম অনেকটা কঠোর হয়েছে। এখন অধিকাংশ আবেদনকারীকেই সশরীরে সাক্ষাৎকারের জন্য হাজির হতে হচ্ছে। তৃতীয় কোনও দেশ থেকে ভিসা স্ট্যাম্পিং করানোর সুযোগও কমে গিয়েছে। ফলে ভারতীয় নাগরিকদের নিজের দেশে ফিরেই আবেদন করতে হচ্ছে।

দীর্ঘ অপেক্ষা

গত ডিসেম্বর থেকে এইচ-১বি আবেদনকারী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সমাজমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট প্রকাশ্যে (public) রাখার নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। বলা হয়েছে এই পদক্ষেপের লক্ষ্য, পরিচয় ও নিরাপত্তা যাচাই। এর জেরে বহু সাক্ষাৎকারের তারিখ পিছিয়ে চলে গিয়েছে ২০২৭ সালে। দিল্লি, মুম্বই, চেন্নাই, হায়দরাবাদের পাশাপাশি কলকাতা কনস্যুলেটেও নতুন করে নিয়মিত ভিসা স্ট্যাম্পিংয়ের তারিখ মিলছে না বলে অভিযোগ। আমেরিকায় কর্মরত বহু ভিসাধারী তাই ভারতে এসে স্ট্যাম্পিংয়ের ঝুঁকি নিতেও ভয় পাচ্ছেন।

দেশে ফিরছেন পেশাদারেরা

এই অনিশ্চয়তার জেরে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধেই সাত হাজারের বেশি ভারতীয় প্রযুক্তি কর্মী দেশে ফিরে এসেছেন। ২০২৫ সাল জুড়ে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ১৫০০০। উল্টো দিকে, আমেরিকায় পাড়ি দেওয়ার সংখ্যাও কমেছে অনেকটাই। গুগল, অ্যামাজন, মাইক্রোসফটের মতো সংস্থা এই কারণেই বেঙ্গালুরু-সহ ভারতের বিভিন্ন শহরে নিয়োগ বাড়াচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের ধারণা, আগামী দিনে এই প্রবণতা আরও জোরালো হতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে বাংলার তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রেও।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Dainikstatesman