Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
কেন্দ্রকে বিপুল অঙ্কের ডিভিন্ডেড দেবে আরবিআই

কেন্দ্রকে বিপুল অঙ্কের ডিভিন্ডেড দেবে আরবিআই

রান-আমেরিকা সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি যখন অনিশ্চয়তার মুখে, তখন ভারতীয় অর্থনীতির জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর শোনাল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে কেন্দ্রীয় সরকারকে রেকর্ড ২.৮৭ লক্ষ কোটি টাকা ডিভিডেন্ড দেওয়ার ঘোষণা করেছে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ৬২৩তম সেন্ট্রাল বোর্ড অব ডিরেক্টর্সের বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববাজারে অস্থিরতার আবহে এই বিপুল অঙ্কের ডিভিডেন্ড কেন্দ্রের আর্থিক অবস্থাকে কিছুটা শক্তিশালী করবে বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদদের একাংশ। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চাপ তৈরি হওয়ায় ভারতীয় অর্থনীতিতেও তার প্রভাব পড়েছে। এই অবস্থায় আরবিআইয়ের তরফে রেকর্ড ডিভিডেন্ড ঘোষণাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

Advertisement

গত কয়েক বছরে কেন্দ্রীয় সরকারকে দেওয়া আরবিআইয়ের ডিভিডেন্ডের অঙ্ক ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে কেন্দ্রকে ২.৬৯ লক্ষ কোটি টাকা ডিভিডেন্ড দিয়েছিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। যা ছিল তার আগের অর্থবর্ষের তুলনায় প্রায় ২৭.৪ শতাংশ বেশি। ২০২৩-২৪ সালে এই পরিমাণ ছিল ২.১ লক্ষ কোটি টাকা। আবার ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে কেন্দ্রীয় সরকার পেয়েছিল ৮৭ হাজার ৪১৬ কোটি টাকা। ফলে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই ডিভিডেন্ডের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

Advertisement

আরবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি অর্থবর্ষে তাদের ব্যালেন্স শিট প্রায় ২০.৬১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিদেশি মুদ্রার ভান্ডার, সুদের আয় এবং বাজারে আর্থিক ব্যবস্থাপনার কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের আয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। সেই কারণেই এবার এত বড় অঙ্কের উদ্বৃত্ত কেন্দ্রীয় সরকারকে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

তবে এই বিপুল ডিভিডেন্ড পাওয়ার পরেও কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক চ্যালেঞ্জ পুরোপুরি কাটছে না বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, আরবিআইয়ের এই ডিভিডেন্ড সত্ত্বেও কেন্দ্রের ৪.৩ শতাংশ রাজস্ব ঘাটতির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা কঠিন হতে পারে। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা, যুদ্ধ পরিস্থিতি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং সরকারি ব্যয়ের চাপ আগামী দিনে অর্থনীতির উপর বাড়তি প্রভাব ফেলতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, আরবিআইয়ের এই সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের হাতে অতিরিক্ত আর্থিক শক্তি জোগাবে। পরিকাঠামো উন্নয়ন, সামাজিক প্রকল্প, ভর্তুকি এবং প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় মেটাতে এই অর্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। তবে একইসঙ্গে বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় কেন্দ্রকে আরও সতর্ক আর্থিক নীতি গ্রহণ করতে হবে বলেও মত বিশেষজ্ঞদের।

Advertisement

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Dainikstatesman