Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের দিকে তাকিয়ে অভিবাসীরা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার বহাল থাকায় আপাতত স্বস্তি ফিরে এসেছে লক্ষ লক্ষ অভিবাসী পরিবারের জীবনে। এই রায় শুধু একটি আইনি প্রশ্নের নিষ্পত্তি নয়, বরং আমেরিকার সংবিধানিক মূল্যবোধ- বিশেষ করে চতুর্দশ সংশোধনীর- একটি পুনঃপ্রতিষ্ঠা।

দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত এই নীতির মূল কথা স্পষ্ট- যে কেউ যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নেবে, সে-ই সেই দেশের নাগরিক।
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এই প্রথাগত ধারণাকে বদলে দিতে চেয়েছিল। তাদের যুক্তি ছিল, যেসব অভিভাবক অবৈধভাবে বা অস্থায়ী ভিসায় আমেরিকায় রয়েছেন, তাঁদের সন্তানদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়া উচিত নয়। কিন্তু আদালত এই যুক্তি গ্রহণ করেনি। কারণ, এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে গড়ে ওঠা আইনি নজির এবং সংবিধানের ভাষা- দুটোই এই অধিকারকে সুরক্ষিত করে রেখেছে।
এই রায় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষের জন্য। যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৫৪ লক্ষ ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষ বাস করেন, যা বিশ্বের বৃহত্তম ভারতীয় প্রবাসী সম্প্রদায়। তাঁদের মধ্যে অনেকেই উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন পেশাজীবী, যারা দীর্ঘদিন ধরে এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে কাজ করছেন। কিন্তু স্থায়ী নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা জটিলতা, বিশেষ করে গ্রিন কার্ডের দীর্ঘ অপেক্ষা, তাঁদের জীবনে অনিশ্চয়তা তৈরি করে।
এই অবস্থায় জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার তাঁদের সন্তানের ভবিষ্যৎ কিছুটা হলেও সুরক্ষিত রাখে। যদি এই অধিকার কেড়ে নেওয়া হতো, তাহলে সেই সব শিশুদেরও একই অনিশ্চয়তার পথে হাঁটতে হতো- যে পথে তাঁদের বাবা-মা বহু বছর ধরে অপেক্ষা করছেন। ফলে, এই রায় শুধু একটি নীতির জয় নয়, বরং অসংখ্য পরিবারের স্থিতিশীলতার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে এই ঘটনায় আরেকটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে- অভিবাসন নিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে বিভাজন আরও গভীর হয়েছে। একসময় জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে দুই দলের মধ্যে প্রায় কোনও মতভেদ ছিল না। কিন্তু এখন এটি একটি তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে। ট্রাম্পের অবস্থান এই বিতর্ককে আরও উস্কে দিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই ইস্যু নিয়ে রাজনৈতিক সংঘাত অব্যাহত থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আদালতের রায়ে আপাতত এই অধিকার বজায় থাকলেও, অভিবাসীদের জন্য সামগ্রিক পরিস্থিতি খুব সহজ নয়। ইতিমধ্যেই কঠোর অভিবাসন নীতির ফলে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের হার কমে গেছে। বিভিন্ন নিয়মকানুন ও সীমাবদ্ধতা নতুন অভিবাসীদের জন্য পথ কঠিন করে তুলছে। এমনকি যারা বহু বছর ধরে সেখানে বসবাস করছেন, তাঁদেরও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে বিদেশি কর্মীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ- প্রায় এক-পঞ্চমাংশ কর্মীই বিদেশে জন্মগ্রহণ করেছেন। প্রযুক্তি, চিকিৎসা, শিক্ষা- বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁদের অবদান অস্বীকার করা যায় না। তাই অভিবাসন হ্রাস পেলে তার প্রভাব সরাসরি অর্থনীতিতে পড়তে পারে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আদালতের এই রায়ের পর কী হবে? ট্রাম্প ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি কংগ্রেসের মাধ্যমে আইন পরিবর্তনের চেষ্টা করতে পারেন। যদিও সংবিধান সংশোধন করা সহজ নয়, তবুও রাজনৈতিক চাপ এবং জনমতকে কাজে লাগিয়ে এই বিষয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের এই রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক মূল্যবোধকে রক্ষা করেছে। কিন্তু একইসঙ্গে এটি মনে করিয়ে দেয়, অভিবাসন নিয়ে লড়াই এখনও শেষ হয়নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি বহুজাতিক সমাজে এই প্রশ্নের সহজ উত্তর নেই। মানবিকতা, আইনের শাসন এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে একটি সুষম নীতি গড়ে তোলাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
এই প্রেক্ষাপটে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার শুধু একটি আইনি বিষয় নয়, বরং একটি বৃহত্তর সামাজিক প্রতিশ্রুতি- যা বলে, জন্মের ভিত্তিতে মানুষকে সমান মর্যাদা দেওয়া হবে। সেই প্রতিশ্রুতিই আপাতত অটুট থাকল, কিন্তু ভবিষ্যতের পথ এখনও অনিশ্চিত।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Dainikstatesman