Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
'পরস্পরের শক্তিকে কাজে লাগাক ভারত-চিন', দিল্লিতে মোদীকে বার্তা জিনপিংয়ের

'পরস্পরের শক্তিকে কাজে লাগাক ভারত-চিন', দিল্লিতে মোদীকে বার্তা জিনপিংয়ের

শিয়ার দুই শক্তিধর দেশ ভারত ও চিনকে পরস্পরের ক্ষমতা ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা দিলেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। শনিবার দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে তিনি বলেন, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং যৌথ উন্নয়নের লক্ষ্যে দুই দেশকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

গলওয়ান সংঘাতের পর এই প্রথম ভারতের মাটিতে মুখোমুখি বৈঠকে বসলেন দুই রাষ্ট্রনেতা।

বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি সহযোগিতার সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলি নিয়েও আলোচনা হয়। মোদী বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারস্পরিক স্বার্থ, শ্রদ্ধা এবং সংবেদনশীলতার বিষয়গুলিকে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে ভারত-চিনের মতপার্থক্য যেন কখনও সংঘাতে পরিণত না হয়, সে বিষয়েও জোর দেন দুই নেতা।

জিনপিং বলেন, 'একে অপরের ক্ষমতা থেকে শিক্ষা নিয়ে যৌথ উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করতে পারে ভারত এবং চিন।' তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, দিল্লির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ও কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী বেজিং। অন্য দিকে মোদীও স্পষ্ট করে দেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির জন্য সীমান্ত পরিস্থিতি শান্ত ও স্থিতিশীল রাখা জরুরি।

২০২৪ সালে রাশিয়ার কাজানে মোদী ও জিনপিংয়ের বৈঠকের পর থেকেই ভারত-চিন সম্পর্কে বরফ গলতে শুরু করে। ২০২০ সালের গলওয়ান সংঘাতের পর দুই দেশের সম্পর্কে যে দীর্ঘ শৈত্য তৈরি হয়েছিল, ধীরে ধীরে তা কাটানোর চেষ্টা শুরু হয়। গত বছর চিনের তিয়ানজিনেও দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে বৈঠক হয়েছিল। এ বার দিল্লিতে ফের মুখোমুখি হলেন তাঁরা।

চিনের তরফে দীর্ঘদিন ধরেই ভারত-চিন সহযোগিতার পক্ষে সওয়াল করা হচ্ছে। দুই দেশের শক্তিকে বোঝাতে 'হাতি' ও 'ড্রাগন'-এর উপমাও একাধিক বার ব্যবহার করেছে বেজিং। আমেরিকা-চিন শুল্কযুদ্ধের সময়ও চিনের তরফে বলা হয়েছিল, 'ড্রাগন' ও 'হাতি'কে একসঙ্গে এগোতে হবে। এশিয়ার দুই বৃহত্তম অর্থনীতি পরস্পরের সহযোগী হলে তার সুফল গোটা বিশ্বই পাবে বলে বার্তা দিয়েছিল বেজিং।

বৈঠকের আগে দিল্লিতে চিনা রাষ্ট্রদূত শু ফেইহংও ভারত-চিন সম্পর্ক নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দেন। তাঁর বক্তব্য, জিনপিং ও মোদীর কৌশলগত নির্দেশনায় দুই দেশ মিলেমিশে কাজ করবে। দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর কথাও বলেন তিনি। মতপার্থক্য তৈরি হলে তা আলোচনার মাধ্যমে সামাল দেওয়ার বার্তাও দেন চিনা রাষ্ট্রদূত।

২০১৯ সালে শেষ বার ভারতে এসেছিলেন জিনপিং। তার পরেই ২০২০ সালের গলওয়ান সংঘাত ভারত-চিন সম্পর্কে বড় ধাক্কা দেয়। কয়েক বছর ধরে সীমান্ত উত্তেজনার জেরে দুই দেশের সম্পর্ক কার্যত তলানিতে পৌঁছেছিল। ২০২৪ সালের কাজান বৈঠকের পর সেই সম্পর্ক নতুন করে স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ধারাবাহিক কূটনৈতিক তৎপরতার পর এ বার দিল্লিতে ফের মুখোমুখি হলেন এশিয়ার দুই শক্তিধর দেশের রাষ্ট্রনেতা।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Dainikstatesman