Saturday, 06 Oct, 1.31 am দুর্গা পূজা

ইতিহাস
জেনে নিন দুর্গাপুজোর পৌরাণিক ইতিহাস

আমাদের ভারত ডেস্ক, ৫ অক্টোবর: বাঙালি হিন্দুদের সবচেয়ে বড় উত্‍সব দুর্গাপূজা। সারা বছর বিশ্বের সমস্ত বাঙালি অপেক্ষা করে থাকে দুর্গাপুজোর জন্যে। বছরের এই ৪টে দিন সবকিছু ভুলে গিয়ে মনে প্রাণে আনন্দ নেওয়ার দিন। কিন্তু আজকের প্রজন্মের অনেকের কাছে দুর্গাপুজোর পৌরাণিক তাত্‍পর্য কিন্তু অজানা। তাহলে আসুন জেনে নেওয়া যাক, দুর্গাপুজোর পৌরাণিক কাহিনী।

পৌরাণিক মতে, বিশ্বের সকল শক্তির মিলিত রূপ হলেন দেবী দূর্গা। লক্ষ্য করলে দেখা যায়, মহাদেবী দুর্গাশক্তির বিকাশ আনুমানিক ৪র্থ-৫ম খ্রিস্টাব্দে রচিত মার্কন্ডেয় পুরাণ এবং শ্রীশ্রী চন্ডীতে। তবে সূত্রপাত হয় মহাভারত, বিষ্ণু পুরাণ, হরিবংশ, দেবী পুরাণ, ভাগবত ও বাসনপুরাণ, মহাভারতের বিরাটপর্বে ও ভীষ্মপর্বেও দুর্গাস্তব আছে। ভীষ্মপর্বে ত্রয়োবিংশ অধ্যায়ে অর্জুন দেবী দুর্গার স্তবপাঠ করেন। বিষ্ণু পুরাণের পঞ্চম অংশে দেবকির গর্ভে দুর্গার জন্মানোর বৃত্তান্ত আছে। শ্রীশ্রী চন্ডীতে বলা হয়েছে তিনি জগত্‍পালয়ত্রী আদ্যাশক্তি ও সনাতনী।

পুরাকালে মহিষাসুরের অত্যাচারে রাজ্যচ্যুত দেবতারা বিষ্ণু ও মহাদেবের কাছে উপস্থিত হলে মহিষাসুরকে বধ করার জন্য সকল দেবতার তেজ থেকে অপূর্ব নারীমূতি নির্মিত হয়। দেবতারা তাঁকে অস্ত্র ও অলংকার দিয়ে সজ্জিত করলেন। পরে মহিষাসুরের সঙ্গে ভীষন যুদ্ধ করে তাকে মিশেল ত্রিশূল বিদ্ধ করলেন। এছাড়া মধু কৈটভ, শুম্ভ-নিশুম্ভকেও পরাজিত করেন দেবী।


শ্রশ্রী চন্ডীতে বর্ণিত আছে প্রাচীনকালে রাজা সুরথ ও সমাধি বৈশ্য সর্বহারা হয়ে নিজেদের সবকিছু ত্যাগ করে বনে গমন করেন। বনের মধ্যে তারা এক মুনির নিকট যান। মেধা মুনি নামে ওই ঋষিকে তিনি সব খুলে বলেন। মেধা ঋষি সব শোনার পর তাদের বলেন "বিশ্ব সংসারকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য জগতের পালন কর্তা বিষ্ণুর যে মহামায়া শক্তি তারই প্রভাবে এরকম হয়। সেই মহামায়া প্রসন্না এবং বরদা হলে মানবের মুক্তি লাভ হয়। মুনির উপদেশ পেয়ে সুরথ ও সমাধি মাটির প্রতিমা গড়ে ৩ বছর কঠোর তপস্যার পর দেবী তুষ্ট হয়ে তাদের দেখা দেন এবং মনোবাঞ্ছনা পূর্ণ করেন। পরবর্তীতে বসন্তকালকে দুর্গাপূজার উপযুক্ত সময় নির্ধারণ করে বাসন্তী পূজার প্রচলন করেন।

শরত্‍কালের পূজা মায়ের অকাল বোধনের মাধ্যমে হয়, তা আমরা সকলেই জানি। কৃত্তিবাসী রামায়ণে শরত্‍কালে দুর্গাপূজার জন্য বোধনের যে কাল বা অকাল সেটাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। স্বয়ং প্রজাপতি ব্রক্ষ্মার প্রদত্ত বিধি অনুসারে সীতা উদ্ধারের জন্য রাবনকে নিধন করতে ভগবান শ্রীরাম চন্দ্র লঙ্কার সমুদ্র সৈকতে প্রতিমা নির্মান করে শরত্‍কালে ১০৮টি নীল পদ্ম দিয়ে দুর্গামায়ের পূজা করেন এবং মা প্রসন্ন হয়ে বর প্রদান করেন।

১৫৮০ খ্রিস্টাব্দে রাজা কংসনারায়ণ প্রায় নয় লক্ষ টাকা ব্যয় করে দুর্গাপূজা করেছিলেন। আজ থেকে প্রায় ৪৩৭ বছর আগে শরত্‍কালে দুর্গাপূজা করা হয়।

বাংলার ঋতুচক্র ঘুরে শরত্‍কালের পরেই আসে হেমন্তকাল। আর এই ঋতুই শস্যের উদ্ভবকাল। তারই আগমনী যেন ঘোষিত হয় এই শারদীয়া পুজায়। প্রতিমার পাশে তাই নব পত্রিকা স্থাপন করা হয়। কলা (ব্রক্ষাণী), কচু (কালিকা), হলুদ (দুর্গা), জয়ন্তী (কৌমারী), বিল্ব (শিবা), ডালিম (রক্ত দন্তিকা), অশোক (শোকর হিতা), মানকচু (চামুণ্ডা) এবং ধান (রক্ষ্মী)। এরা বোধনের পর আলাদাভাবে পূজিত হলেও কালক্রমে দুর্গার সঙ্গে সম্মিলিত হয়েছে। শ্বেত অপরাজিতা লতা সর্ববিজয় প্রদায়িনী দেবী মহামায়ার বিশেষ রূপ। তাই এই লতা দিয়ে নবপত্রিকাকে বেষ্টন করা হয়।

মায়ের দশহাতে ত্রিশূল, খড়গ, সুদর্শন চক্র, ধনুবার্ন, শক্তি খেটক, পূর্নচাপ, নাগতালা, অংকুশ ও পরশু এ ধরনের অস্ত্র দেখা যায় বলে তিনি দশ প্রহরণ ধারিত্রী।

মহালয়ার পিতৃপক্ষের তিলাঞ্জলি তর্পনের পর হয় দেবীপক্ষের সূচনা। সৌর আশ্বিনের কৃষ্ণপক্ষের নাম 'মহালয়'। মহালয় শব্দ থেকে 'মহালয়ার' এর উত্‍পত্তি।

ষষ্ঠী তিথিতে দুর্গার বোধন সপ্তমীতে মূতির প্রাণ প্রতিষ্ঠা। অষ্টমী ও নবমীতে মহাপূজা ও দশমীতে দেবীর বিসর্জন। এই পূজার বিশেষত্ব হল সন্ধিপূজা অষ্টমী ও নবমী তিথির মিলনক্ষনে সন্ধিপূজা। এর সময়সীমা ৪৮ মিনিট। অষ্টমী ও নবমীর সন্ধিক্ষণে রামচন্দ্র রাবনের দশটি মুন্ড ছিন্ন করেছিলেন। তাই এই সময়ে পূজার মাহাত্ম্য বেশি।

তবে যাই হোক, দুর্গাপুজো বাঙালির জীবনে অন্যতম উত্‍সব। সারা বছর বাদে বাইরে থেকে এসে বহু মানুষ মিলিত হন এই উত্‍সবে। বহু শিল্পীর সারা বছরের রুজি রোজগারও জড়িয়ে থাকে এই ৫ দিনের পুজোর সঙ্গে। তাই আক্ষরিক অর্থেই, দুর্গাপুজো হল বাঙালির শ্রেষ্ঠ উত্‍সব।

Dailyhunt
Disclaimer: This story is auto-aggregated by a computer program and has not been created or edited by Dailyhunt. Publisher: Durga Pooja Bangla 2018
Top