দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুই গুরুত্বপূর্ণ শিল্পনগরী—আসানসোল ও দুর্গাপুর। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ কাজ, ব্যবসা, পড়াশোনা ও চিকিৎসার প্রয়োজনে এই দুই শহরের মধ্যে যাতায়াত করেন। দীর্ঘদিন ধরেই দ্রুত, নিরাপদ এবং আধুনিক গণপরিবহণের দাবি উঠেছে। সেই প্রত্যাশাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল রাজ্য সরকার।
শনিবার দুর্গাপুরে আসানসোল-দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদ (এডিডিএ)-র বৈঠকের পর পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, আসানসোল-দুর্গাপুরের মধ্যে সম্ভাব্য 'এরিয়াল মেট্রো' পরিষেবা চালুর লক্ষ্যে সমীক্ষার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে।
রাজ্য বাজেটে এই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কথা ঘোষণা করেছিলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। সেই ঘোষণার পর এবার বাস্তবের পথে এগোতে শুরু করেছে পরিকল্পনা। দেশের অন্যতম অভিজ্ঞ অবকাঠামো পরামর্শদাতা সংস্থা রাইটস (RITES)-কে এই সমীক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংস্থার বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যেই কাজকর্ম শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
শনিবারের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক পন্নমবলম এস, এডিডিএ-র সিইও অদিতি চৌধুরী, দুর্গাপুরের বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুই, চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ জেলার ছয়জন বিধায়ক এবং প্রশাসনের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক। বৈঠক শেষে মন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকারের লক্ষ্য শুধুমাত্র একটি নতুন পরিবহণ ব্যবস্থা তৈরি করা নয়, বরং আসানসোল ও দুর্গাপুরকে আগামী দিনের আধুনিক, পরিকল্পিত ও প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট সিটি হিসেবে গড়ে তোলা। সেই ভাবনার অন্যতম ভিত্তি হবে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা। আর সেই কারণেই দুই শহরের মধ্যে 'এরিয়াল মেট্রো' চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, সমীক্ষার রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর প্রকল্পের আর্থিক, প্রযুক্তিগত এবং বাস্তবায়নের দিকগুলি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যদি প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে শুধু যাতায়াতের সময়ই কমবে না, শিল্পাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থাও আরও আধুনিক হবে। সবাই দ্রুত ও নিরাপদ যাতায়াতের সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে শিল্প ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: মানবিক উদ্যোগ, ক্যান্সার রোগীদের জন্য চুল দান করলেন দুর্গাপুরের তরুণী
বৃদ্ধদের আশ্রয় গড়তে ১০ কাঠা জমি দান দুর্গাপুরের অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীর
বৈঠকে উঠে আসে অন্ডালের কাজী নজরুল ইসলাম বিমানবন্দরের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনাও। মন্ত্রী জানান, বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে আগামী দিনে আরও বেশি উড়ান চালুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নতুন নতুন গন্তব্যে বিমান পরিষেবা চালুর পাশাপাশি বিদ্যমান রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কার্গো পরিষেবা সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়েছে, যাতে শিল্পাঞ্চলের উৎপাদিত পণ্য দ্রুত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দেওয়া যায়।
শিল্প, পরিবহণ এবং নগরোন্নয়ন—এই তিন ক্ষেত্রকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাই এদিনের বৈঠকে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যদিও 'এরিয়াল মেট্রো' প্রকল্প এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং সমীক্ষার ফলাফলের উপরই ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে, তবুও দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্ন বাস্তবের পথে হাঁটতে শুরু করায় আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের মানুষের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
সমীক্ষা সফল হলে ভবিষ্যতে আসানসোল ও দুর্গাপুরের মধ্যে যাতায়াতের চিত্র বদলে যেতে পারে। আধুনিক পরিবহণ ব্যবস্থা, উন্নত শিল্প পরিকাঠামো এবং বিমানবন্দর-কেন্দ্রিক অর্থনৈতিক সম্ভাবনা—সব মিলিয়ে পশ্চিম বর্ধমানের শিল্পাঞ্চল আগামী দিনে নতুন উন্নয়নের দিগন্ত ছুঁতে পারে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

