দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর, ১১ অক্টোবর: অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার রুখতে এবং ওষুধ-প্রতিরোধী জীবাণুর বিপদ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ নিল পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের ডাঃ বি সি রায় কলেজ অফ ফার্মাসি অ্যান্ড অ্যালায়েড হেলথ সায়েন্সেস। বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস ও জাতীয় ফার্মাসি সপ্তাহ উপলক্ষে শুক্রবার কলেজে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রায় ২০০ জন পড়ুয়া অংশ নেন।
বিজ্ঞান বিষয়ক কার্টুন, ফার্মা কুইজ, লিফলেট ডিজাইন ও পোস্টার উপস্থাপনার মাধ্যমে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স মোকাবিলার বার্তা তুলে ধরেন তাঁরা।
কলেজের এপিসি রায় সেমিনার হলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের মূল ভাবনা ছিল ফার্মাসি কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার নির্ধারিত বিষয়—'স্বাস্থ্য ভারত: অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স মোকাবিলা'। ওষুধের যুক্তিসম্মত ব্যবহার, সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ফার্মাসিস্টদের ভূমিকার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী জীবাণুর উদ্বেগও। এই পরিস্থিতিতে শুধু চিকিৎসক নন, ওষুধ ব্যবহারের বিষয়ে রোগীদের সচেতন করে তোলা, অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার রোধ এবং টিকাকরণ সম্পর্কে সঠিক ধারণা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও ফার্মাসিস্টদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। অনুষ্ঠানে সেই দায়িত্বের কথাই তুলে ধরা হয়।
কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সমীরকুমার সামন্ত বলেন, 'স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ফার্মাসিস্টদের ভূমিকা ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। আগামী দিনের ফার্মাসি পেশাদারদের তৈরি করতে পেশাগত সচেতনতা, নৈতিক দায়িত্ববোধ, বৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনা এবং জনকল্যাণের মানসিকতার উপর জোর দেন তিনি।
কলেজের স্নাতকোত্তর শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যাপক শুভব্রত রায় বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজনীয়তা এবং তার বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন ব্যবহারের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। বিভিন্ন প্রতিযোগিতার নিয়ম ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করেন কলেজের নোডাল অফিসার ড. ঋতুপর্ণা চাকী ঘোষ। রাজ্যস্তরের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের নিয়ম ও পদ্ধতি ব্যাখ্যা করেন রাজ্য ইভেন্টের সমন্বয়কারী ড. বিশ্বজিৎ বসু।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিসিআরইসি সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক তরুণ ভট্টাচার্য, ডাঃ বি সি রায় পলিটেকনিকের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কলেজের রেজিস্ট্রার ড. সাগর সেনগুপ্ত-সহ শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী ও পড়ুয়ারা।
শুধু আলোচনায় সীমাবদ্ধ থাকেনি অনুষ্ঠান। অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স নিয়ে সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে আয়োজন করা হয়েছিল চারটি প্রতিযোগিতা—বিজ্ঞান বিষয়ক কার্টুন বা 'সাইটুনস', ফার্মা কুইজ, লিফলেট ডিজাইন এবং বৈজ্ঞানিক পোস্টার উপস্থাপনা। কলেজের বিভিন্ন জায়গায় আয়োজিত এই প্রতিযোগিতাগুলিতে প্রায় ২০০ জন অংশগ্রহণ করেন।
কার্টুন, পোস্টার ও লিফলেটের মাধ্যমে জটিল বৈজ্ঞানিক বিষয়কে সহজ ভাষায় মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেন পড়ুয়ারা। তাঁদের বার্তায় উঠে আসে অ্যান্টিবায়োটিকের দায়িত্বশীল ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা। 'ব্যাকটেরিয়াকে জিততে দেবেন না, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের বিরুদ্ধে এক হোন', 'অ্যান্টিবায়োটিক চিরস্থায়ী নয়, বুঝেশুনে ব্যবহার করুন'—এমন নানা স্লোগানের মাধ্যমে জীবাণুর ওষুধ-প্রতিরোধী হয়ে ওঠার বিপদ সম্পর্কে সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ফার্মাসি কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার নির্ধারিত দুই-স্তরের কর্মসূচি অনুযায়ী, কলেজস্তরের প্রতিযোগিতা থেকে নির্বাচিত পড়ুয়ারা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে রাজ্যস্তরের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। সেখানে নিজেদের জ্ঞান, সৃজনশীলতা এবং বৈজ্ঞানিক বিষয় সহজভাবে উপস্থাপনের দক্ষতা তুলে ধরার সুযোগ মিলবে তাঁদের।
কলেজ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, ফার্মাসি শিক্ষা কেবল ওষুধের গুণাগুণ জানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ওষুধের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে সমাজকে সচেতন করা এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা নেওয়াও এই পেশার অন্যতম লক্ষ্য। সেই ভাবনাকে সামনে রেখেই বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস ও জাতীয় ফার্মাসি সপ্তাহের আয়োজন।

