দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর, ২৩ আগস্ট: শনিবারের দুর্ঘটনা শুধু দুটি প্রাণ কেড়ে নেয়নি, আচমকাই অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে দুটি পরিবারকে। পরিবারের মানুষ হারানোর শোকের মধ্যেই রবিবার পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে ছুটে আসেন নিহত দুই ঠিকা শ্রমিকের আত্মীয়স্বজন ও সহকর্মীরা।
তাঁদের দাবি, দুর্ঘটনায় মৃত দুই শ্রমিকের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে হবে ঠিকাদার সংস্থাকে।
শনিবার বিকেলে কাঁকসা থানা এলাকার রাজবাঁধের কাছে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে একটি কন্টেনারের ধাক্কায় মৃত্যু হয় দুই ঠিকা শ্রমিকের। মৃতেরা হলেন গলসির কাশীনাথ ভট্টাচার্য (৪৮) এবং গোপালপুরের বিধান বাউড়ি (৩২)। দুর্ঘটনায় আরও চারজন শ্রমিক জখম হন।
রবিবার হাসপাতালে এসে ক্ষতিপূরণের দাবিতে ঠিকাদার সংস্থার ম্যানেজারকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান মৃতদের পরিজন ও সহকর্মীরা। তাঁদের দাবি, দুই পরিবারের একজন করে সদস্যকে স্থায়ী চাকরি দিতে হবে এবং দিতে হবে ২৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ।
পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য, প্রিয়জনকে হারানোর যন্ত্রণা তো রয়েছেই, তার সঙ্গে এখন সামনে এসে দাঁড়িয়েছে সংসার চালানোর প্রশ্ন। তাই শুধু আশ্বাস নয়, ভবিষ্যতের নিরাপত্তার জন্য নিশ্চিত ব্যবস্থা চান তাঁরা।
অভিযোগ, ঠিকাদার সংস্থার ম্যানেজার প্রথমে মাত্র ১ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব দেন। এত কম টাকার প্রস্তাবে ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়। পরিজন ও সহকর্মীরা সাফ জানিয়ে দেন, তাঁদের দাবি মেটার আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে দেহ নিয়ে যাবেন না।
খবর পেয়ে হাসপাতালে পৌঁছয় পুলিশ। মৃতদের পরিবার, শ্রমিক এবং ঠিকাদার সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়। শেষ পর্যন্ত ম্যানেজারের তরফে ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দেওয়া হয়।
তবে ম্যানেজার জানান, ক্ষতিপূরণের চূড়ান্ত পরিমাণ ঠিক করবেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। সেই সিদ্ধান্ত তাঁর একার হাতে নেই। এরপর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে দাহ করার জন্য হাসপাতাল থেকে কাশীনাথ ও বিধানের দেহ নিয়ে যান তাঁদের পরিজনেরা।
সিন্ডিকেট করলে চামড়া তুলে নেব! দুর্গাপুরে কড়া হুঁশিয়ারি পুলিশের
(বিশেষ বিশেষ খবরের ভিডিয়ো দেখতে Durgapur Darpan Youtube Channel সাবস্ক্রাইব করুন)

